সুন্দরবন প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী
jugantor
সুন্দরবন প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী
দেশের এ ফুসফুসের পরিচর্যার বিকল্প নেই

  সম্পাদকীয়  

১৮ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সুন্দরবন সম্পর্কে কিছু ইতিবাচক তথ্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, সুন্দরবনের আয়তন বাড়ানোর জন্য সরকার কৃত্রিম ম্যানগ্রোভ সৃষ্টির উদ্যোগ নিয়েছে।

সমগ্র উপকূলীয় অঞ্চলে এর বিস্তৃতি ঘটানোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সুন্দরবনের বৃক্ষাদি ও বন্যপ্রাণী রক্ষা তথা বন অপরাধ দমনে স্মার্ট পেট্রোলিংসহ নানাবিধ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এসব উদ্যোগের ফলে সুন্দরবন সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং বনে বাঘের সংখ্যাও বাড়ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বিষয়টি স্বস্তিদায়ক। কেননা, সুন্দরবনে বাঘ না থাকলে এ বনকে টিকিয়ে রাখা যেত না।

এক সময় চোরা শিকারিদের দৌরাত্ম্যে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা কমে গিয়েছিল। শুধু তাই নয়, বেড়ে গিয়েছিল জলদুস্য ও বনদস্যুদের উৎপাত। চাঁদাবাজি, অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় ছিল এই ডাকাতদের নিত্যদিনের ঘটনা।

বৃক্ষ নিধন এবং নদীতে বিষ প্রয়োগ করে মাছ ধরার কারণে সুন্দরবনের পরিবেশ ও প্রতিবেশ পড়েছিল হুমকির মুখে। আশার কথা, র‌্যাব ও কোস্টগার্ডের অভিযানে পরিস্থিতির অনেকটাই উন্নতি হয়েছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে সুন্দরবন অচিরেই কাটিয়ে উঠতে পারবে এর অতীতের ক্ষত।

সুন্দরবন শুধু দেশের প্রধান বনাঞ্চল নয়, এটি ইউনেস্কো ঘোষিত ওয়ার্ল্ড হেরিটেজও বটে। এই বনাঞ্চলকে বাংলাদেশের ফুসফুসও বলা যেতে পারে, যা আমাদের মুক্ত রেখেছে অনেক দূষণ থেকে। এই ফুসফুসই যদি দূষিত হয়ে পড়ে, সেক্ষেত্রে পুরো শরীর বাঁচবে কীভাবে? সুন্দরবন যদি না থাকত, তাহলে উপর্যুপরি ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে উপকূলের কোনো চিহ্ন থাকত না।

সুন্দরবন উপকূল ও উপকূলের মানুষকে ভয়াবহ ক্ষতি হওয়া থেকে রক্ষা করেছে। সুতরাং একে রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। শুধু দূষণমুক্ত পরিবেশের স্বার্থেই নয়, বনভূমিকে পশু ও প্রাণীর অভয়ারণ্য হিসাবে গড়ে তোলার প্রয়োজনে এর সঠিক পরিচর্যা করতে হবে।

উদ্বেগের বিষয় হলো, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় সুন্দরবনে ঘন ঘন আগুন লাগার ঘটনা ঘটছে। এটা কি মনুষ্যসৃষ্ট আগুন, নাকি প্রকৃতি তথা বাস্তুতন্ত্রে এমন কোনো পরিবর্তন সংঘটিত হয়েছে, যা বনে আগুন লাগার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে, তা খুঁজে বের করা দরকার।

আগুন লাগার কারণ মনুষ্যসৃষ্ট হলে তা বিভিন্ন রকমের হতে পারে। কাঠুরিয়া বা মৌয়ালীদের বিড়ি-সিগারেট থেকে বা অন্য উপায়ে সূত্রপাত হতে পারে আগুনের।

কিংবা এমনও হতে পারে, বনসম্পদ চুরির হিসাবে শুভংকরের ফাঁকি দেখানোর উদ্দেশ্যে আগুন ধরিয়ে সম্পদ বিনষ্ট করা হচ্ছে। আগুনের কারণ বাস্তুতন্ত্রের পরিবর্তনজনিতও হতে পারে।

আমাদের কথা হল, প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করে সে অনুযায়ী নিতে হবে ব্যবস্থা। আগুনের পুনরাবৃত্তি রোধে এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতারও পরিচয় দিতে হবে বনবিভাগকে। যে কোনো উপায়ে রক্ষা করতে হবে আমাদের গর্বের সুন্দরবনকে।

সুন্দরবন প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী

দেশের এ ফুসফুসের পরিচর্যার বিকল্প নেই
 সম্পাদকীয় 
১৮ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সুন্দরবন সম্পর্কে কিছু ইতিবাচক তথ্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, সুন্দরবনের আয়তন বাড়ানোর জন্য সরকার কৃত্রিম ম্যানগ্রোভ সৃষ্টির উদ্যোগ নিয়েছে।

সমগ্র উপকূলীয় অঞ্চলে এর বিস্তৃতি ঘটানোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সুন্দরবনের বৃক্ষাদি ও বন্যপ্রাণী রক্ষা তথা বন অপরাধ দমনে স্মার্ট পেট্রোলিংসহ নানাবিধ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এসব উদ্যোগের ফলে সুন্দরবন সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং বনে বাঘের সংখ্যাও বাড়ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বিষয়টি স্বস্তিদায়ক। কেননা, সুন্দরবনে বাঘ না থাকলে এ বনকে টিকিয়ে রাখা যেত না।

এক সময় চোরা শিকারিদের দৌরাত্ম্যে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা কমে গিয়েছিল। শুধু তাই নয়, বেড়ে গিয়েছিল জলদুস্য ও বনদস্যুদের উৎপাত। চাঁদাবাজি, অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় ছিল এই ডাকাতদের নিত্যদিনের ঘটনা।

বৃক্ষ নিধন এবং নদীতে বিষ প্রয়োগ করে মাছ ধরার কারণে সুন্দরবনের পরিবেশ ও প্রতিবেশ পড়েছিল হুমকির মুখে। আশার কথা, র‌্যাব ও কোস্টগার্ডের অভিযানে পরিস্থিতির অনেকটাই উন্নতি হয়েছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে সুন্দরবন অচিরেই কাটিয়ে উঠতে পারবে এর অতীতের ক্ষত।

সুন্দরবন শুধু দেশের প্রধান বনাঞ্চল নয়, এটি ইউনেস্কো ঘোষিত ওয়ার্ল্ড হেরিটেজও বটে। এই বনাঞ্চলকে বাংলাদেশের ফুসফুসও বলা যেতে পারে, যা আমাদের মুক্ত রেখেছে অনেক দূষণ থেকে। এই ফুসফুসই যদি দূষিত হয়ে পড়ে, সেক্ষেত্রে পুরো শরীর বাঁচবে কীভাবে? সুন্দরবন যদি না থাকত, তাহলে উপর্যুপরি ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে উপকূলের কোনো চিহ্ন থাকত না।

সুন্দরবন উপকূল ও উপকূলের মানুষকে ভয়াবহ ক্ষতি হওয়া থেকে রক্ষা করেছে। সুতরাং একে রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। শুধু দূষণমুক্ত পরিবেশের স্বার্থেই নয়, বনভূমিকে পশু ও প্রাণীর অভয়ারণ্য হিসাবে গড়ে তোলার প্রয়োজনে এর সঠিক পরিচর্যা করতে হবে।

উদ্বেগের বিষয় হলো, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় সুন্দরবনে ঘন ঘন আগুন লাগার ঘটনা ঘটছে। এটা কি মনুষ্যসৃষ্ট আগুন, নাকি প্রকৃতি তথা বাস্তুতন্ত্রে এমন কোনো পরিবর্তন সংঘটিত হয়েছে, যা বনে আগুন লাগার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে, তা খুঁজে বের করা দরকার।

আগুন লাগার কারণ মনুষ্যসৃষ্ট হলে তা বিভিন্ন রকমের হতে পারে। কাঠুরিয়া বা মৌয়ালীদের বিড়ি-সিগারেট থেকে বা অন্য উপায়ে সূত্রপাত হতে পারে আগুনের।

কিংবা এমনও হতে পারে, বনসম্পদ চুরির হিসাবে শুভংকরের ফাঁকি দেখানোর উদ্দেশ্যে আগুন ধরিয়ে সম্পদ বিনষ্ট করা হচ্ছে। আগুনের কারণ বাস্তুতন্ত্রের পরিবর্তনজনিতও হতে পারে।

আমাদের কথা হল, প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করে সে অনুযায়ী নিতে হবে ব্যবস্থা। আগুনের পুনরাবৃত্তি রোধে এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতারও পরিচয় দিতে হবে বনবিভাগকে। যে কোনো উপায়ে রক্ষা করতে হবে আমাদের গর্বের সুন্দরবনকে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন