খেলাধুলার বিকল্প কি জুয়া?
jugantor
খেলাধুলার বিকল্প কি জুয়া?

  জাফরুল ইসলাম  

১৮ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিনোদন বলতে সাধারণত আমরা গান শোনা, নাটক দেখা, সিনেমা উপভোগ করাকে বুঝি। কিন্তু এর সঙ্গে আরও একটি বিষয় যুক্ত করা যায়, সেটি হলো খেলাধুলা।

খেলাধুলার সঙ্গে সম্পর্কিত হলো মানুষের মানসিক প্রশান্তি, শারীরিক গঠন ও বিনোদন। কাজেই খেলাধুলাকে অবহেলা করার কোনো সুযোগ নেই। প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত। হয়তোবা সেই কালের খেলাধুলার সঙ্গে বর্তমানের বিস্তর পার্থক্য রয়েছে। কিন্তু এ যুগেও রয়েছে খেলাধুলার কদর। বাংলাদেশের জাতীয় খেলা হাডুডু, যে খেলার প্রচলন ছিল দেশের গ্রামাঞ্চলে। দেশের শতকরা ৭০ থেকে ৮০ ভাগ মানুষের যেখানে বসবাস, সেখানকার প্রচলিত খেলা হবে জাতীয় খেলা এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আজ গ্রামবাংলা থেকে এ খেলাটি যেন হারিয়ে যেতে বসেছে। গ্রামে এখন খেলাধুলার স্থান দখল করে নিয়েছে জুয়া!

বস্তুত জুয়া এখন যুবসমাজের কাছে নেশায় পরিণত হয়েছে। মাদক যেমন তার ধ্বংসকার্য সম্পাদন করে ধীরে ধীরে, ঠিক তেমনি জুয়াও আজ কুরে কুরে খাচ্ছে আমাদের সমাজকে। অনেক জুয়াড়ি ছিনতাই, রাহাজানি, স্ত্রী নির্যাতন, চুরি, ডাকাতি, এমনকি খুনের মতো অপরাধের সঙ্গেও জড়িয়ে পড়ছে। এ ছাড়া অনেকে মাদকের ব্যবসার মাধ্যমে টাকা উপার্জন করে সে টাকা দিয়ে জুয়া খেলছে। আগে আমরা দেখতাম বছরে অন্তত একদিন গ্রামে মেলা বসতে। সেখানে জুয়ার আসর বসত এবং সাধারণ মানুষ ওই নির্দিষ্ট দিনই শুধু খেলত। আর এই জুয়া খেলায় শর্ত ছিল বয়সের, কারও বয়স ১৮ বছরের নিচে হলে তাদের খেলতে দেওয়া হতো না। কিন্তু আজ এই জুয়া খেলায় কোনো নির্দিষ্ট বয়স নেই; যার ইচ্ছা সে-ই খেলতে পারছে। এই জুয়া খেলাটাকে আরও সহজ করেছে মোবাইল ফোনের একটি অ্যাপ। অবাক লাগে, যখন দেখা যায় অনেক শিক্ষিত ছেলেও এ খেলায় মত্ত। তাদের কেউ যদি একটু উপদেশ দেয় এ খেলা না খেলতে, তাহলে তারা বলে থাকে-‘আমার টাকা দিয়ে আমি খেলব তাতে তোমার কী?’

একবার ভাবুন, এই জুয়াড়িরা যখন এভাবে এর সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে পড়েছে, তখন তারা কি এর মোহ থেকে নিজেদের বের করতে পারবে? না, পারবে না; কারণ এটা তাদের নেশায় পরিণত হয়ে গেছে। যখন তাদের কাছে টাকা থাকবে না, তখন তারা যে কোনো নাশকতামূলক কাজের সঙ্গে জড়িয়ে পড়তেও দ্বিধা করবে না। এই জুয়া খেলা যে একদিন এ দেশের জন্য মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কারণ অপরাধ এমনই যে তা প্রথমে ছোট মনে হলেও একসময় বৃহৎ আকার ধারণ করে। তখন তা সামাল দেওয়া সরকারের পক্ষে অসম্ভব হয়ে ওঠে। তাই অসম্ভব হওয়ার আগেই বা জুয়াড়ুরা বেপরোয়া হয়ে ওঠার আগেই এর লাগাম টেনে ধরতে হবে।

জাফরুল ইসলাম : শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

খেলাধুলার বিকল্প কি জুয়া?

 জাফরুল ইসলাম 
১৮ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিনোদন বলতে সাধারণত আমরা গান শোনা, নাটক দেখা, সিনেমা উপভোগ করাকে বুঝি। কিন্তু এর সঙ্গে আরও একটি বিষয় যুক্ত করা যায়, সেটি হলো খেলাধুলা।

খেলাধুলার সঙ্গে সম্পর্কিত হলো মানুষের মানসিক প্রশান্তি, শারীরিক গঠন ও বিনোদন। কাজেই খেলাধুলাকে অবহেলা করার কোনো সুযোগ নেই। প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত। হয়তোবা সেই কালের খেলাধুলার সঙ্গে বর্তমানের বিস্তর পার্থক্য রয়েছে। কিন্তু এ যুগেও রয়েছে খেলাধুলার কদর। বাংলাদেশের জাতীয় খেলা হাডুডু, যে খেলার প্রচলন ছিল দেশের গ্রামাঞ্চলে। দেশের শতকরা ৭০ থেকে ৮০ ভাগ মানুষের যেখানে বসবাস, সেখানকার প্রচলিত খেলা হবে জাতীয় খেলা এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আজ গ্রামবাংলা থেকে এ খেলাটি যেন হারিয়ে যেতে বসেছে। গ্রামে এখন খেলাধুলার স্থান দখল করে নিয়েছে জুয়া!

বস্তুত জুয়া এখন যুবসমাজের কাছে নেশায় পরিণত হয়েছে। মাদক যেমন তার ধ্বংসকার্য সম্পাদন করে ধীরে ধীরে, ঠিক তেমনি জুয়াও আজ কুরে কুরে খাচ্ছে আমাদের সমাজকে। অনেক জুয়াড়ি ছিনতাই, রাহাজানি, স্ত্রী নির্যাতন, চুরি, ডাকাতি, এমনকি খুনের মতো অপরাধের সঙ্গেও জড়িয়ে পড়ছে। এ ছাড়া অনেকে মাদকের ব্যবসার মাধ্যমে টাকা উপার্জন করে সে টাকা দিয়ে জুয়া খেলছে। আগে আমরা দেখতাম বছরে অন্তত একদিন গ্রামে মেলা বসতে। সেখানে জুয়ার আসর বসত এবং সাধারণ মানুষ ওই নির্দিষ্ট দিনই শুধু খেলত। আর এই জুয়া খেলায় শর্ত ছিল বয়সের, কারও বয়স ১৮ বছরের নিচে হলে তাদের খেলতে দেওয়া হতো না। কিন্তু আজ এই জুয়া খেলায় কোনো নির্দিষ্ট বয়স নেই; যার ইচ্ছা সে-ই খেলতে পারছে। এই জুয়া খেলাটাকে আরও সহজ করেছে মোবাইল ফোনের একটি অ্যাপ। অবাক লাগে, যখন দেখা যায় অনেক শিক্ষিত ছেলেও এ খেলায় মত্ত। তাদের কেউ যদি একটু উপদেশ দেয় এ খেলা না খেলতে, তাহলে তারা বলে থাকে-‘আমার টাকা দিয়ে আমি খেলব তাতে তোমার কী?’

একবার ভাবুন, এই জুয়াড়িরা যখন এভাবে এর সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে পড়েছে, তখন তারা কি এর মোহ থেকে নিজেদের বের করতে পারবে? না, পারবে না; কারণ এটা তাদের নেশায় পরিণত হয়ে গেছে। যখন তাদের কাছে টাকা থাকবে না, তখন তারা যে কোনো নাশকতামূলক কাজের সঙ্গে জড়িয়ে পড়তেও দ্বিধা করবে না। এই জুয়া খেলা যে একদিন এ দেশের জন্য মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কারণ অপরাধ এমনই যে তা প্রথমে ছোট মনে হলেও একসময় বৃহৎ আকার ধারণ করে। তখন তা সামাল দেওয়া সরকারের পক্ষে অসম্ভব হয়ে ওঠে। তাই অসম্ভব হওয়ার আগেই বা জুয়াড়ুরা বেপরোয়া হয়ে ওঠার আগেই এর লাগাম টেনে ধরতে হবে।

জাফরুল ইসলাম : শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন