বিনা দোষে কারাবাস: দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে শাস্তি দিতে হবে
jugantor
বিনা দোষে কারাবাস: দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে শাস্তি দিতে হবে

  সম্পাদকীয়  

১৯ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর পল্লবী থানায় দায়ের করা মাদক মামলায় ১০ বছরের সাজা হয়েছিল শাহাবুদ্দিন বিহারির। কিন্তু তার পরিবর্তে ৫ বছর ধরে কারাগারে ছিলেন নির্দোষ আরমান। বিষয়টি উচ্চ আদালতের নজরে এলে গত ৩১ ডিসেম্বর আরমানকে এক মাসের মধ্যে ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে পুলিশের মহাপরিদর্শককে নির্দেশ দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় চার পুলিশ সদস্যকে চলতি দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহারেরও নির্দেশ দিয়েছিলেন উচ্চ আদালত। এ ছাড়া আরমানকে বেআইনি আটকের ঘটনায় দায় নিরূপণে নতুন করে তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয়সংখ্যক কর্মকর্তা নিযুক্ত করতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

উল্লেখ করা যেতে পারে, উচ্চ আদালতের নির্দেশে আরমান কারামুক্ত হলেও ক্ষতিপূরণের ২০ লাখ টাকা এখনো পাননি।

শুধু আমরান নয়, কোনো অপরাধ না করেও একের পর এক কারাবাসের ঘটনা ঘটে চলেছে। এক হিসাবে গত ৫ বছরে শতাধিক ব্যক্তি বিনা অপরাধে কারাভোগের শিকার হয়েছেন। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, তাদের মধ্যে ৮০ বছরের বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীও রয়েছেন।

নানা কারণে নিরপরাধ ব্যক্তির কারাবাসের ঘটনা ঘটছে। এসব কারণের মধ্যে রয়েছে- নামের মিল, তদন্তের ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত ভুল, মিথ্যা সাক্ষ্যদান, বিচারিক প্রক্রিয়ায় বিলম্ব ইত্যাদি। উচ্চ আদালতের নির্দেশে কারাবন্দি নিরপরাধ ব্যক্তিদের কেউ কেউ মুক্ত হলেও তারা ক্ষতিপূরণের টাকা পাননি।

এ প্রসঙ্গে কারাভোগকারী পাটকল শ্রমিক জাহালমের কথা উল্লেখ করা যায়। উচ্চ আদালত নিরপরাধ জাহালমকে ১৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা বললেও তিনি এখনো সেই টাকা পাননি।

বলার অপেক্ষা রাখে না, বিনা দোষে কারাভোগের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। কোনো কারণ ছাড়াই একজন মানুষের জীবন থেকে একটি লম্বা সময় হারিয়ে যাওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এসব ঘটনায় শুধু ভুক্তভোগী নয়, তার পরিবারের সদস্যরাও নিপতিত হয় চরম মনোকষ্ট ও দুর্দশায়। তাই এসব ঘটনা রোধ করতে হবে অবশ্যই।

বলতেই হবে, বিনা দোষে কারাভোগের ঘটনাগুলোর জন্য মূলত দায়ী পুলিশ কর্তৃপক্ষ। প্রায়ই দেখা যায়, নামের মিল থাকার কারণে প্রকৃত দোষীর বদলে নিরপরাধ ব্যক্তিকে কারাবাস খাটতে হচ্ছে। এর অর্থ হচ্ছে, পুলিশ এ ক্ষেত্রে কর্তব্যপরায়ণতায় গাফিলতি করেছে। তদন্তে ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত ভুলও কোনোভাবে মেনে নেওয়া যায় না।

আমরা মনে করি, নির্দোষ ব্যক্তির কারাভোগের প্রতিটি ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত। তা না হলে দেশে আইনের শাসনের বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করা এবং সুনাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়া। বিষয়টি গণতন্ত্র চর্চার সঙ্গেও অঙ্গাঙ্গিভাবে সম্পর্কিত।

বিনা দোষে কারাবাস: দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে শাস্তি দিতে হবে

 সম্পাদকীয় 
১৯ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর পল্লবী থানায় দায়ের করা মাদক মামলায় ১০ বছরের সাজা হয়েছিল শাহাবুদ্দিন বিহারির। কিন্তু তার পরিবর্তে ৫ বছর ধরে কারাগারে ছিলেন নির্দোষ আরমান। বিষয়টি উচ্চ আদালতের নজরে এলে গত ৩১ ডিসেম্বর আরমানকে এক মাসের মধ্যে ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে পুলিশের মহাপরিদর্শককে নির্দেশ দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় চার পুলিশ সদস্যকে চলতি দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহারেরও নির্দেশ দিয়েছিলেন উচ্চ আদালত। এ ছাড়া আরমানকে বেআইনি আটকের ঘটনায় দায় নিরূপণে নতুন করে তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয়সংখ্যক কর্মকর্তা নিযুক্ত করতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

উল্লেখ করা যেতে পারে, উচ্চ আদালতের নির্দেশে আরমান কারামুক্ত হলেও ক্ষতিপূরণের ২০ লাখ টাকা এখনো পাননি।

শুধু আমরান নয়, কোনো অপরাধ না করেও একের পর এক কারাবাসের ঘটনা ঘটে চলেছে। এক হিসাবে গত ৫ বছরে শতাধিক ব্যক্তি বিনা অপরাধে কারাভোগের শিকার হয়েছেন। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, তাদের মধ্যে ৮০ বছরের বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীও রয়েছেন।

নানা কারণে নিরপরাধ ব্যক্তির কারাবাসের ঘটনা ঘটছে। এসব কারণের মধ্যে রয়েছে- নামের মিল, তদন্তের ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত ভুল, মিথ্যা সাক্ষ্যদান, বিচারিক প্রক্রিয়ায় বিলম্ব ইত্যাদি। উচ্চ আদালতের নির্দেশে কারাবন্দি নিরপরাধ ব্যক্তিদের কেউ কেউ মুক্ত হলেও তারা ক্ষতিপূরণের টাকা পাননি।

এ প্রসঙ্গে কারাভোগকারী পাটকল শ্রমিক জাহালমের কথা উল্লেখ করা যায়। উচ্চ আদালত নিরপরাধ জাহালমকে ১৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা বললেও তিনি এখনো সেই টাকা পাননি।

বলার অপেক্ষা রাখে না, বিনা দোষে কারাভোগের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। কোনো কারণ ছাড়াই একজন মানুষের জীবন থেকে একটি লম্বা সময় হারিয়ে যাওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এসব ঘটনায় শুধু ভুক্তভোগী নয়, তার পরিবারের সদস্যরাও নিপতিত হয় চরম মনোকষ্ট ও দুর্দশায়। তাই এসব ঘটনা রোধ করতে হবে অবশ্যই।

বলতেই হবে, বিনা দোষে কারাভোগের ঘটনাগুলোর জন্য মূলত দায়ী পুলিশ কর্তৃপক্ষ। প্রায়ই দেখা যায়, নামের মিল থাকার কারণে প্রকৃত দোষীর বদলে নিরপরাধ ব্যক্তিকে কারাবাস খাটতে হচ্ছে। এর অর্থ হচ্ছে, পুলিশ এ ক্ষেত্রে কর্তব্যপরায়ণতায় গাফিলতি করেছে। তদন্তে ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত ভুলও কোনোভাবে মেনে নেওয়া যায় না।

আমরা মনে করি, নির্দোষ ব্যক্তির কারাভোগের প্রতিটি ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত। তা না হলে দেশে আইনের শাসনের বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করা এবং সুনাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়া। বিষয়টি গণতন্ত্র চর্চার সঙ্গেও অঙ্গাঙ্গিভাবে সম্পর্কিত।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন