দখলদারদের কবলে রেলের জমি
jugantor
দখলদারদের কবলে রেলের জমি
উদ্ধারে মন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন চাই

  সম্পাদকীয়  

২০ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রেলের জমি বেদখল হয়েছে দেশজুড়েই। তবে এ দখলদারিত্ব রীতিমতো মহোৎসবে পরিণত হয়েছে সৈয়দপুর রেল অঞ্চলে। বেহাত হয়েছে সৈয়দপুর শহরে অবস্থিত রেলের সাড়ে তিনশ’ একর জমি। আর উপজেলা চেয়ারম্যানসহ ক্ষমতাসীন দলের নেতা ও দখলদারদের দখলে গেছে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার রেলের সম্পত্তি। শুধু তাই নয়, দখলকৃত জমিতে নির্বিঘ্নে গড়ে তোলা হয়েছে অসংখ্য বহুতল ভবন। কোনো কোনো স্থানে এসব জমি কৌশলে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে নিয়ে ভোগদখল করা হচ্ছে। দখলের আওতা থেকে বাদ যায়নি কেপিআই অন্তর্ভুক্ত জমিও। উল্লেখ করা যায়, রেলের একশ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশেই হয়েছে এসব অপকর্ম আর স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্বের হস্তক্ষেপের কারণে সম্ভব হয়নি উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা। রেল মন্ত্রণালয়ের এক তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য। এই প্রতিবেদনে সৈয়দপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ও রেলের জড়িত কর্মকর্তাসহ দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়াসহ ২৪ দফা সুপারিশ করা হয়েছে। উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কেও বলা হয়েছে।

শুধু সৈয়দপুর নয়, সারা দেশে রেলের প্রায় ৪২১৭ একর জমি বেদখলে রয়েছে। এসব জমিতে রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় প্রভাবশালী মহল গড়ে তুলেছে দোকানপাট, বস্তি, কাঁচাবাজার, বহুতল ভবন ইত্যাদিসহ বিভিন্ন অবকাঠামো। এমনকি রেলের জমিতে ফ্ল্যাট তৈরি করে তা বিক্রির নজিরও রয়েছে। বস্তুত রেলের জায়গা-জমি অবৈধভাবে দখল, বিক্রি বা লিজ দেওয়ার ঘটনা বছরের পর বছর ধরে চলে আসছে। এসব অন্যায় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে রেলের লোকসান ও ক্ষতির পরিমাণ দিন দিন বাড়তেই থাকবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। বেহাত হওয়া রেলের জমি উদ্ধার করে প্রয়োজনে লিজ দেওয়া যেতে পারে। এতে একদিকে যেমন সরকারের আয় বাড়বে, তেমনি লাভবান হবে মন্ত্রণালয়ও।

রেলপথমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন যুগান্তরকে বলেছেন, রেলের জমি ভূমিদস্যুদের হাতে-এমনটা মেনে নেওয়া যায় না। আমরা কঠোর হচ্ছি, কাউকেই রক্ষা করা হবে না। যাদেরই দখলে জমি রয়েছে, তাদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়সহ তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেছেন, দখলে থাকা জমি উদ্ধার করে রেলের মাধ্যমে স্থাপনা তৈরি করে আয়ের ব্যবস্থা করা হবে। দখলদার যত ক্ষমতাবানই হোক না কেন, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। আমাদের কথা হলো, এতদিন পর মন্ত্রী মহোদয় সরব হলেন কেন? রেলের জমি দখলের বিষয়টি তো অনেক পুরোনো। এর চেয়েও বড় কথা, রেলের জমি দখলের ঘটনাগুলো দৃশ্যমান। আমরা আশা করব, মন্ত্রী মহোদয়ের কথাগুলো যেন শুধু কথার কথা না হয়, তার প্রতিশ্রুতির বাস্তব রূপ দেখতে চাই আমরা। রেল এমনিতেই একটি লোকসানি সংস্থা। রেলের বেহাত হওয়া জমিগুলো উদ্ধার করে সেগুলোর মাধ্যমে আয়ের ব্যবস্থা করা হলে লোকসানের বোঝা কিছুটা হলেও হালকা হবে বৈকি। আমরা বিশেষত সৈয়দপুর অঞ্চলে বেদখল হওয়া রেলের জমি বিষয়ে তদন্ত কমিটি যেসব সুপারিশ করেছে, সেগুলোর অতি দ্রুত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তৎপর হবে বলে আশা করতে চাই।

দখলদারদের কবলে রেলের জমি

উদ্ধারে মন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন চাই
 সম্পাদকীয় 
২০ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রেলের জমি বেদখল হয়েছে দেশজুড়েই। তবে এ দখলদারিত্ব রীতিমতো মহোৎসবে পরিণত হয়েছে সৈয়দপুর রেল অঞ্চলে। বেহাত হয়েছে সৈয়দপুর শহরে অবস্থিত রেলের সাড়ে তিনশ’ একর জমি। আর উপজেলা চেয়ারম্যানসহ ক্ষমতাসীন দলের নেতা ও দখলদারদের দখলে গেছে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার রেলের সম্পত্তি। শুধু তাই নয়, দখলকৃত জমিতে নির্বিঘ্নে গড়ে তোলা হয়েছে অসংখ্য বহুতল ভবন। কোনো কোনো স্থানে এসব জমি কৌশলে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে নিয়ে ভোগদখল করা হচ্ছে। দখলের আওতা থেকে বাদ যায়নি কেপিআই অন্তর্ভুক্ত জমিও। উল্লেখ করা যায়, রেলের একশ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশেই হয়েছে এসব অপকর্ম আর স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্বের হস্তক্ষেপের কারণে সম্ভব হয়নি উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা। রেল মন্ত্রণালয়ের এক তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য। এই প্রতিবেদনে সৈয়দপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ও রেলের জড়িত কর্মকর্তাসহ দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়াসহ ২৪ দফা সুপারিশ করা হয়েছে। উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কেও বলা হয়েছে।

শুধু সৈয়দপুর নয়, সারা দেশে রেলের প্রায় ৪২১৭ একর জমি বেদখলে রয়েছে। এসব জমিতে রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় প্রভাবশালী মহল গড়ে তুলেছে দোকানপাট, বস্তি, কাঁচাবাজার, বহুতল ভবন ইত্যাদিসহ বিভিন্ন অবকাঠামো। এমনকি রেলের জমিতে ফ্ল্যাট তৈরি করে তা বিক্রির নজিরও রয়েছে। বস্তুত রেলের জায়গা-জমি অবৈধভাবে দখল, বিক্রি বা লিজ দেওয়ার ঘটনা বছরের পর বছর ধরে চলে আসছে। এসব অন্যায় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে রেলের লোকসান ও ক্ষতির পরিমাণ দিন দিন বাড়তেই থাকবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। বেহাত হওয়া রেলের জমি উদ্ধার করে প্রয়োজনে লিজ দেওয়া যেতে পারে। এতে একদিকে যেমন সরকারের আয় বাড়বে, তেমনি লাভবান হবে মন্ত্রণালয়ও।

রেলপথমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন যুগান্তরকে বলেছেন, রেলের জমি ভূমিদস্যুদের হাতে-এমনটা মেনে নেওয়া যায় না। আমরা কঠোর হচ্ছি, কাউকেই রক্ষা করা হবে না। যাদেরই দখলে জমি রয়েছে, তাদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়সহ তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেছেন, দখলে থাকা জমি উদ্ধার করে রেলের মাধ্যমে স্থাপনা তৈরি করে আয়ের ব্যবস্থা করা হবে। দখলদার যত ক্ষমতাবানই হোক না কেন, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। আমাদের কথা হলো, এতদিন পর মন্ত্রী মহোদয় সরব হলেন কেন? রেলের জমি দখলের বিষয়টি তো অনেক পুরোনো। এর চেয়েও বড় কথা, রেলের জমি দখলের ঘটনাগুলো দৃশ্যমান। আমরা আশা করব, মন্ত্রী মহোদয়ের কথাগুলো যেন শুধু কথার কথা না হয়, তার প্রতিশ্রুতির বাস্তব রূপ দেখতে চাই আমরা। রেল এমনিতেই একটি লোকসানি সংস্থা। রেলের বেহাত হওয়া জমিগুলো উদ্ধার করে সেগুলোর মাধ্যমে আয়ের ব্যবস্থা করা হলে লোকসানের বোঝা কিছুটা হলেও হালকা হবে বৈকি। আমরা বিশেষত সৈয়দপুর অঞ্চলে বেদখল হওয়া রেলের জমি বিষয়ে তদন্ত কমিটি যেসব সুপারিশ করেছে, সেগুলোর অতি দ্রুত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তৎপর হবে বলে আশা করতে চাই।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন