নৌযানের রুট পারমিট
jugantor
নৌযানের রুট পারমিট
এতে ঝুঁকি কমবে কি?

  সম্পাদকীয়  

২০ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

যাত্রীবাহী লঞ্চের পাশাপাশি সব ধরনের নিবন্ধিত নৌযানের রুট পারমিট নেওয়া বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগটি প্রশংসার দাবি রাখে। জানা গেছে, বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে নৌযানের আকার ও ধরনভেদে ভিন্ন ভিন্ন রুট পারমিট ফি আদায়ের বিষয়টি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বিধানটি পুরোপুরি কার্যকর হলে রুট পারমিট ছাড়া নিবন্ধিত নৌযান চলাচল করতে পারবে না। এই বাধ্যবাধকতা আরোপের বিরোধিতা করেছেন কোনো কোনো নৌযান মালিক। বর্তমানে শুধু যাত্রীবাহী লঞ্চের রুট পারমিট নেওয়া বাধ্যতামূলক। দেশে নিবন্ধিত নৌযান রয়েছে ১৩ হাজারের বেশি। এর মধ্যে বিভিন্ন নৌপথের ৭ শতাধিক লঞ্চের রুট পারমিট রয়েছে। এর বাইরে বিপুলসংখ্যক অনিবন্ধিত নৌযানও চলাচল করছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ বিধান কার্যকর হলে নৌপথে শৃঙ্খলা বাড়বে এবং তা দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে সহায়ক হবে। বর্তমানে যাত্রীবাহী লঞ্চের রুট পারমিট থাকায় তারা কোনো আইন লঙ্ঘন করলে বিআইডব্লিউটিএ ব্যবস্থা নিতে পারে। কিন্তু অন্যান্য নৌযানের রুট পারমিট না থাকায় সেগুলোর চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। অভিযোগ রয়েছে, সবচেয়ে বেশি বেপরোয়া চলাচল করে বালুবাহী বাল্কহেডগুলো।

জানা গেছে, বিআইডব্লিউটিএর প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনো নৌযানকে রুট পারমিট পেতে হলে ওই নৌযানের রেজিস্ট্রেশন ও সার্ভে সনদ থাকতে হবে। সার্ভে সনদের মেয়াদ যতদিন থাকবে, রুট পারমিটও ততদিন বহাল থাকবে। এ শর্তের জালে আটকা পড়বে বিআইডব্লিউটিএ ও বিআইডব্লিউটিসিরও অনেক নৌযান। এ বিষয়েও কর্তৃপক্ষকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।

কিছুদিন আগে লকডাউনের মধ্যেই মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া থেকে একটি স্পিডবোট যাত্রী নিয়ে অবৈধভাবে মাদারীপুরের শিবচর যাওয়ার পথে ফেরিঘাটের কাছে বালু বোঝাই বাল্কহেডের সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটে। এ দুর্ঘটনায় অনেক যাত্রীর মৃত্যু হয়। লকডাউন চলাকালে স্পিডবোট সার্ভিস বন্ধ থাকার কথা। ওই সময় স্পিডবোটটি চলার সুযোগ পেল কী করে সেটাও একটি প্রশ্ন। তুলনামূলক ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ এসব নৌযান প্রায়ই অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে চলাচল করে। প্রশ্ন হলো, এসব ক্ষেত্রে যাদের নজরদারি থাকার কথা, তারা কী করছে?

অভিযোগ রয়েছে, কোনো কোনো নৌপথে আধুনিক মানসম্পন্ন নতুন নৌযান চালাতে অনেকে আগ্রহী হলেও সিন্ডিকেটের বাধার মুখে তা সম্ভব হচ্ছে না। এসব সমস্যার সমাধান নিয়ে কর্তৃপক্ষের কোনো চিন্তা আছে কি? নৌদুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসাবে ত্রুটিপূর্ণ নৌযান, মাস্টার-চালক ও ইঞ্জিন অপারেটরের অদক্ষতা, অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল বহন, দুর্ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন বাস্তবায়নে উদাসীনতাকে দায়ী করা হয়ে থাকে। এসব সমস্যার সমাধানেও কর্তৃপক্ষকে তৎপর হতে হবে।

নৌযানের রুট পারমিট

এতে ঝুঁকি কমবে কি?
 সম্পাদকীয় 
২০ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

যাত্রীবাহী লঞ্চের পাশাপাশি সব ধরনের নিবন্ধিত নৌযানের রুট পারমিট নেওয়া বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগটি প্রশংসার দাবি রাখে। জানা গেছে, বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে নৌযানের আকার ও ধরনভেদে ভিন্ন ভিন্ন রুট পারমিট ফি আদায়ের বিষয়টি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বিধানটি পুরোপুরি কার্যকর হলে রুট পারমিট ছাড়া নিবন্ধিত নৌযান চলাচল করতে পারবে না। এই বাধ্যবাধকতা আরোপের বিরোধিতা করেছেন কোনো কোনো নৌযান মালিক। বর্তমানে শুধু যাত্রীবাহী লঞ্চের রুট পারমিট নেওয়া বাধ্যতামূলক। দেশে নিবন্ধিত নৌযান রয়েছে ১৩ হাজারের বেশি। এর মধ্যে বিভিন্ন নৌপথের ৭ শতাধিক লঞ্চের রুট পারমিট রয়েছে। এর বাইরে বিপুলসংখ্যক অনিবন্ধিত নৌযানও চলাচল করছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ বিধান কার্যকর হলে নৌপথে শৃঙ্খলা বাড়বে এবং তা দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে সহায়ক হবে। বর্তমানে যাত্রীবাহী লঞ্চের রুট পারমিট থাকায় তারা কোনো আইন লঙ্ঘন করলে বিআইডব্লিউটিএ ব্যবস্থা নিতে পারে। কিন্তু অন্যান্য নৌযানের রুট পারমিট না থাকায় সেগুলোর চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। অভিযোগ রয়েছে, সবচেয়ে বেশি বেপরোয়া চলাচল করে বালুবাহী বাল্কহেডগুলো।

জানা গেছে, বিআইডব্লিউটিএর প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনো নৌযানকে রুট পারমিট পেতে হলে ওই নৌযানের রেজিস্ট্রেশন ও সার্ভে সনদ থাকতে হবে। সার্ভে সনদের মেয়াদ যতদিন থাকবে, রুট পারমিটও ততদিন বহাল থাকবে। এ শর্তের জালে আটকা পড়বে বিআইডব্লিউটিএ ও বিআইডব্লিউটিসিরও অনেক নৌযান। এ বিষয়েও কর্তৃপক্ষকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।

কিছুদিন আগে লকডাউনের মধ্যেই মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া থেকে একটি স্পিডবোট যাত্রী নিয়ে অবৈধভাবে মাদারীপুরের শিবচর যাওয়ার পথে ফেরিঘাটের কাছে বালু বোঝাই বাল্কহেডের সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটে। এ দুর্ঘটনায় অনেক যাত্রীর মৃত্যু হয়। লকডাউন চলাকালে স্পিডবোট সার্ভিস বন্ধ থাকার কথা। ওই সময় স্পিডবোটটি চলার সুযোগ পেল কী করে সেটাও একটি প্রশ্ন। তুলনামূলক ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ এসব নৌযান প্রায়ই অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে চলাচল করে। প্রশ্ন হলো, এসব ক্ষেত্রে যাদের নজরদারি থাকার কথা, তারা কী করছে?

অভিযোগ রয়েছে, কোনো কোনো নৌপথে আধুনিক মানসম্পন্ন নতুন নৌযান চালাতে অনেকে আগ্রহী হলেও সিন্ডিকেটের বাধার মুখে তা সম্ভব হচ্ছে না। এসব সমস্যার সমাধান নিয়ে কর্তৃপক্ষের কোনো চিন্তা আছে কি? নৌদুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসাবে ত্রুটিপূর্ণ নৌযান, মাস্টার-চালক ও ইঞ্জিন অপারেটরের অদক্ষতা, অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল বহন, দুর্ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন বাস্তবায়নে উদাসীনতাকে দায়ী করা হয়ে থাকে। এসব সমস্যার সমাধানেও কর্তৃপক্ষকে তৎপর হতে হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন