বটবৃক্ষের ছায়াতলে নিরাপদ আশ্রয়
jugantor
বটবৃক্ষের ছায়াতলে নিরাপদ আশ্রয়

  সম্পাদকীয়  

২০ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

‘কাটে না সময় যখন আর কিছুতে/ বন্ধুর টেলিফোনে মন বসে না/ জানালার গ্রিলটাতে ঠেকাই মাথা/ মনে হয় বাবার মতো কেউ বলে না/ আয় খুকু আয়, আয় খুকু আয়।’ হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ও শ্রাবন্তী মজুমদারের গাওয়া এ গানটি মনে করিয়ে দেয় বাবা আর সন্তানের সম্পর্ক কত গভীর। আসলে ‘বাবা’ শব্দটি মনে হলেই প্রত্যেক সন্তানের চোখে ভেসে ওঠে পরম ভরসা ও আত্মবিশ্বাসের একটি জায়গার ছবি। মমতায় ভরা প্রিয় সেই মুখ।

মূলত বাবা হলেন সেই বটবৃক্ষ, যার ছায়াতলে সন্তান সবচেয়ে বেশি নিরাপদ থাকে। তাই বাবা শব্দটি সব সময় দায়িত্ব ও ভালোবাসায় ঘেরা। বাবা হলেন শ্রদ্ধা, ভয়, উৎসাহ, নির্দেশনা ও নির্ভরতার চূড়ান্ত ঠিকানা-যার হাত ধরে সন্তানরা পৃথিবীর সব দুর্গম পথ হেঁটে পৌঁছে যায় স্বপ্নসুখে। আর সন্তানের সুখের জন্য বাবাদের জীবনে ঘটে লাঞ্ছনা, বঞ্চনা, দুর্ব্যবহার, অসৎ আচরণও। আসলে সন্তানের সুখের সওদাগর হলেন বাবা। ডাকহরকরার মতো বাবারা ছোটাছুটি করেন নিরন্তন। সন্তানের জীবনে যেন কষ্ট-ক্লেশের কোনো স্পর্শ না লাগে, সে জন্য বাবা হন অতন্দ্র প্রহরী।

বাবারা পরিবার ছাড়া বাইরে খাবার খেতে খুব অপছন্দ করেন। সন্তানের শত ভুলের পরও দিন শেষে মুচকি হেসে তাকে বুকে জড়িয়ে ধরতে শুধু বাবারাই পারেন। এভাবেই আপন সন্তানকে ঘিরেই বাবার স্বপ্নের পৃথিবী, যা কল্পনার পাতায় পাতায় এঁকে রেখেছে শত শত সুখের আলপনা। যেমন, ছেলে বা মেয়ে ভালো রেজাল্ট করবে, ভালো একটি চাকরি করবে, দ্বীনের পথে চলবে ইত্যাদি অব্যক্ত প্রত্যাশা।

কিন্তু বর্তমান সমাজে বাবাদের শেষ বয়সটা কাটে অনেকটাই উপেক্ষার মধ্য দিয়ে। বাবারা অসহায় হয়ে পড়েন বয়সের ভারে। কোনো কোনো সন্তান তখন বাবাকে রেখে আসে বৃদ্ধাশ্রমে। বলতে কষ্ট হলেও বাস্তবতা এমনই। বৃদ্ধাশ্রমে রাখার পর তাদের কোনো খোঁজখবর রাখারও প্রয়োজনবোধ করে না সন্তান। তখন ধুঁকে ধুঁকে পিতা-মাতাকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে হয়। তাই আজ বিশ্ব বাবা দিবসে বৃদ্ধাশ্রমকে বর্জন করাই হোক আমাদের অঙ্গীকার। আমরা যেন ভুলে না যাই, জগতের সবকিছু দিয়েও বাবাকে প্রতিদান দেওয়া সম্ভব নয়। শুধু একটি দোয়া ছাড়া। আসুন সবাই বলি- রাব্বির হাম হুমা কামা রাব্বাইয়ানি সগিরা।

মুহাম্মদ মিযানুর রহমান : প্রাবন্ধিক

mizanrk46@gmail.com

বটবৃক্ষের ছায়াতলে নিরাপদ আশ্রয়

 সম্পাদকীয় 
২০ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

‘কাটে না সময় যখন আর কিছুতে/ বন্ধুর টেলিফোনে মন বসে না/ জানালার গ্রিলটাতে ঠেকাই মাথা/ মনে হয় বাবার মতো কেউ বলে না/ আয় খুকু আয়, আয় খুকু আয়।’ হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ও শ্রাবন্তী মজুমদারের গাওয়া এ গানটি মনে করিয়ে দেয় বাবা আর সন্তানের সম্পর্ক কত গভীর। আসলে ‘বাবা’ শব্দটি মনে হলেই প্রত্যেক সন্তানের চোখে ভেসে ওঠে পরম ভরসা ও আত্মবিশ্বাসের একটি জায়গার ছবি। মমতায় ভরা প্রিয় সেই মুখ।

মূলত বাবা হলেন সেই বটবৃক্ষ, যার ছায়াতলে সন্তান সবচেয়ে বেশি নিরাপদ থাকে। তাই বাবা শব্দটি সব সময় দায়িত্ব ও ভালোবাসায় ঘেরা। বাবা হলেন শ্রদ্ধা, ভয়, উৎসাহ, নির্দেশনা ও নির্ভরতার চূড়ান্ত ঠিকানা-যার হাত ধরে সন্তানরা পৃথিবীর সব দুর্গম পথ হেঁটে পৌঁছে যায় স্বপ্নসুখে। আর সন্তানের সুখের জন্য বাবাদের জীবনে ঘটে লাঞ্ছনা, বঞ্চনা, দুর্ব্যবহার, অসৎ আচরণও। আসলে সন্তানের সুখের সওদাগর হলেন বাবা। ডাকহরকরার মতো বাবারা ছোটাছুটি করেন নিরন্তন। সন্তানের জীবনে যেন কষ্ট-ক্লেশের কোনো স্পর্শ না লাগে, সে জন্য বাবা হন অতন্দ্র প্রহরী।

বাবারা পরিবার ছাড়া বাইরে খাবার খেতে খুব অপছন্দ করেন। সন্তানের শত ভুলের পরও দিন শেষে মুচকি হেসে তাকে বুকে জড়িয়ে ধরতে শুধু বাবারাই পারেন। এভাবেই আপন সন্তানকে ঘিরেই বাবার স্বপ্নের পৃথিবী, যা কল্পনার পাতায় পাতায় এঁকে রেখেছে শত শত সুখের আলপনা। যেমন, ছেলে বা মেয়ে ভালো রেজাল্ট করবে, ভালো একটি চাকরি করবে, দ্বীনের পথে চলবে ইত্যাদি অব্যক্ত প্রত্যাশা।

কিন্তু বর্তমান সমাজে বাবাদের শেষ বয়সটা কাটে অনেকটাই উপেক্ষার মধ্য দিয়ে। বাবারা অসহায় হয়ে পড়েন বয়সের ভারে। কোনো কোনো সন্তান তখন বাবাকে রেখে আসে বৃদ্ধাশ্রমে। বলতে কষ্ট হলেও বাস্তবতা এমনই। বৃদ্ধাশ্রমে রাখার পর তাদের কোনো খোঁজখবর রাখারও প্রয়োজনবোধ করে না সন্তান। তখন ধুঁকে ধুঁকে পিতা-মাতাকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে হয়। তাই আজ বিশ্ব বাবা দিবসে বৃদ্ধাশ্রমকে বর্জন করাই হোক আমাদের অঙ্গীকার। আমরা যেন ভুলে না যাই, জগতের সবকিছু দিয়েও বাবাকে প্রতিদান দেওয়া সম্ভব নয়। শুধু একটি দোয়া ছাড়া। আসুন সবাই বলি- রাব্বির হাম হুমা কামা রাব্বাইয়ানি সগিরা।

মুহাম্মদ মিযানুর রহমান : প্রাবন্ধিক

mizanrk46@gmail.com

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন