বেপরোয়া কিশোর গ্যাং
jugantor
বেপরোয়া কিশোর গ্যাং
নিয়ন্ত্রণে নিতে হবে যথাযথ পদক্ষেপ

  সম্পাদকীয়  

২১ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশজুড়ে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের বেপরোয়া হয়ে ওঠার বিষয়টি উদ্বেগজনক। এক সময়ের নগরকেন্দ্রিক এ সমস্যা এখন কম-বেশি সারা দেশেই ছড়িয়ে পড়েছে। তুচ্ছ বিরোধকে কেন্দ্র করে যেসব কিশোর বড় অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে, সমাজ তাদের নিয়ে কতটা ভাবছে? এসব অপরাধীর বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান শুরু হলে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা হলেও একসময় এ আলোচনা একেবারেই থেমে যায়।

উদ্বেগজনক তথ্য হলো, কেবল রাজধানীতেই ভয়ংকর কিশোর গ্যাংয়ের সংখ্যা ৭৮ এবং সদস্য সংখ্যা ২ হাজারের বেশি। এদের কাছে রয়েছে নানা রকম অস্ত্র। এদের অনেকেই রাজনৈতিক ছায়ায় অবস্থান করে। আবার কেউ কেউ শীর্ষ সন্ত্রাসীদের অনুচর হিসাবে কাজ করছে। একসময় দেশের উঠতি বয়সের তরুণদের মধ্যে নানারকম সমাজকল্যাণমূলক কাজের প্রতিযোগিতা লক্ষ করা যেত, আর এখন শহর-বন্দরে উঠতি বয়সের তরুণদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ একত্র হয়ে গ্যাং তৈরি করে নানা ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। আধিপত্য বিস্তার ছাড়াও বিভিন্ন তুচ্ছ ঘটনায় গ্রুপে গ্রুপে চলছে হাতাহাতি-মারামারি।

কিশোর অপরাধীরা কতটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে, গতকাল যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তা উঠে এসেছে। কিশোর অপরাধীদের উৎপাত ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দিন দিন বাড়ছে। এমন বাস্তবতায় মাঠ পর্যায় থেকে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে একটি হালনাগাদ তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে, যাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের সংখ্যা, সদস্য এবং পৃষ্ঠপোষকদের বিস্তারিত তথ্য রয়েছে। পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকলে কিশোর অপরাধীদের উৎপাত ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসবে, এটা আশা করা যায়।

নিম্নবৃত্তপরিবারের কিশোর যারা নানাভাবে বঞ্চিত তাদের অনেকে হতাশা থেকেও নানা রকম অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। নানা রকম প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে এ শিশু-কিশোরদের সম্পদে পরিণত করার পাশাপাশি তাদের উন্নত মূল্যবোধের দীক্ষা প্রদানে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হলে এই শিশু-কিশোরদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখা সহজ হবে।

বর্তমানে সারা দেশেই কিশোর অপরাধীদের উৎপাত ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড যেন নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। যারা কিশোর বয়স থেকেই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে, তারা যে একদিন শীর্ষ সন্ত্রাসীর খাতায় নাম লেখাবে না; এর নিশ্চয়তা কী? এ ক্ষত সমাজদেহে ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করার আগেই সবার এগিয়ে আসা উচিত। শিশুরা যে কোনো ধরনের অনৈতিক কাজ থেকে দূরে থাকার শিক্ষা জীবনের শুরুতেই যদি পায়, তাহলে অবস্থার পরিবর্তন ঘটবে বলে আশা করা যায়।

আজকাল প্রযুক্তি ও আকাশ সংস্কৃতির থাবায় কিশোর-কিশোরীদের বিপথগামী হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। তাদের মধ্যে সংবেদনশীল আচরণ, সহমর্মিতা ও উন্নত মূল্যবোধের দীক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে দেশে আরও ব্যাপক কর্মকাণ্ড চালু করতে হবে। একইসঙ্গে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান অব্যাহত না থাকলে এসব গ্যাংয়ের সদস্যরা বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে। কিশোররা যেন অপরাধে জড়াতে না পারে, সেজন্য অভিভাবকদেরই বেশি সচেতন হতে হবে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযানের পাশাপাশি শিক্ষক-অভিভাবকসহ সবাই সোচ্চার না হলে গ্যাং কালচার বন্ধে কাক্সিক্ষত সুফল মিলবে কিনা সন্দেহ, এটা বলাই যায়।

বেপরোয়া কিশোর গ্যাং

নিয়ন্ত্রণে নিতে হবে যথাযথ পদক্ষেপ
 সম্পাদকীয় 
২১ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশজুড়ে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের বেপরোয়া হয়ে ওঠার বিষয়টি উদ্বেগজনক। এক সময়ের নগরকেন্দ্রিক এ সমস্যা এখন কম-বেশি সারা দেশেই ছড়িয়ে পড়েছে। তুচ্ছ বিরোধকে কেন্দ্র করে যেসব কিশোর বড় অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে, সমাজ তাদের নিয়ে কতটা ভাবছে? এসব অপরাধীর বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান শুরু হলে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা হলেও একসময় এ আলোচনা একেবারেই থেমে যায়।

উদ্বেগজনক তথ্য হলো, কেবল রাজধানীতেই ভয়ংকর কিশোর গ্যাংয়ের সংখ্যা ৭৮ এবং সদস্য সংখ্যা ২ হাজারের বেশি। এদের কাছে রয়েছে নানা রকম অস্ত্র। এদের অনেকেই রাজনৈতিক ছায়ায় অবস্থান করে। আবার কেউ কেউ শীর্ষ সন্ত্রাসীদের অনুচর হিসাবে কাজ করছে। একসময় দেশের উঠতি বয়সের তরুণদের মধ্যে নানারকম সমাজকল্যাণমূলক কাজের প্রতিযোগিতা লক্ষ করা যেত, আর এখন শহর-বন্দরে উঠতি বয়সের তরুণদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ একত্র হয়ে গ্যাং তৈরি করে নানা ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। আধিপত্য বিস্তার ছাড়াও বিভিন্ন তুচ্ছ ঘটনায় গ্রুপে গ্রুপে চলছে হাতাহাতি-মারামারি।

কিশোর অপরাধীরা কতটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে, গতকাল যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তা উঠে এসেছে। কিশোর অপরাধীদের উৎপাত ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দিন দিন বাড়ছে। এমন বাস্তবতায় মাঠ পর্যায় থেকে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে একটি হালনাগাদ তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে, যাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের সংখ্যা, সদস্য এবং পৃষ্ঠপোষকদের বিস্তারিত তথ্য রয়েছে। পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকলে কিশোর অপরাধীদের উৎপাত ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসবে, এটা আশা করা যায়।

নিম্নবৃত্ত পরিবারের কিশোর যারা নানাভাবে বঞ্চিত তাদের অনেকে হতাশা থেকেও নানা রকম অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। নানা রকম প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে এ শিশু-কিশোরদের সম্পদে পরিণত করার পাশাপাশি তাদের উন্নত মূল্যবোধের দীক্ষা প্রদানে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হলে এই শিশু-কিশোরদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখা সহজ হবে।

বর্তমানে সারা দেশেই কিশোর অপরাধীদের উৎপাত ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড যেন নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। যারা কিশোর বয়স থেকেই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে, তারা যে একদিন শীর্ষ সন্ত্রাসীর খাতায় নাম লেখাবে না; এর নিশ্চয়তা কী? এ ক্ষত সমাজদেহে ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করার আগেই সবার এগিয়ে আসা উচিত। শিশুরা যে কোনো ধরনের অনৈতিক কাজ থেকে দূরে থাকার শিক্ষা জীবনের শুরুতেই যদি পায়, তাহলে অবস্থার পরিবর্তন ঘটবে বলে আশা করা যায়।

আজকাল প্রযুক্তি ও আকাশ সংস্কৃতির থাবায় কিশোর-কিশোরীদের বিপথগামী হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। তাদের মধ্যে সংবেদনশীল আচরণ, সহমর্মিতা ও উন্নত মূল্যবোধের দীক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে দেশে আরও ব্যাপক কর্মকাণ্ড চালু করতে হবে। একইসঙ্গে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান অব্যাহত না থাকলে এসব গ্যাংয়ের সদস্যরা বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে। কিশোররা যেন অপরাধে জড়াতে না পারে, সেজন্য অভিভাবকদেরই বেশি সচেতন হতে হবে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযানের পাশাপাশি শিক্ষক-অভিভাবকসহ সবাই সোচ্চার না হলে গ্যাং কালচার বন্ধে কাক্সিক্ষত সুফল মিলবে কিনা সন্দেহ, এটা বলাই যায়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন