প্রথম ধাপের ইউপি নির্বাচন
jugantor
প্রথম ধাপের ইউপি নির্বাচন
সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হওয়া জরুরি

  সম্পাদকীয়  

২১ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রথম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন উত্তপ্ত ও সহিংস হয়ে ওঠার সংবাদ উদ্বেগজনক। জানা গেছে, আজকের নির্বাচন ঘিরে অর্ধশতাধিক ইউনিয়ন পরিষদে প্রতিদ্বন্দ্বী চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে; বিশেষ করে বরিশাল, পিরোজপুর, লক্ষ্মীপুর, পটুয়াখালী, বরগুনা, ভোলা, ঝালকাঠি, নরসিংদী ও মাদারীপুর জেলার বিভিন্ন ইউপিতে অধিক সহিংসতার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে হামলা-পাল্টাহামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা সংক্রান্ত ৩০-৪০টি অভিযোগ নির্বাচন কমিশনে জমা পড়লেও কমিশন কেন সেগুলো আমলে নেয়নি, তা বোধগম্য নয়। নির্বাচনকেন্দ্রিক কোনো অভিযোগ আসার পর সেটা গুরুত্ব দিয়ে দেখা না হলে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণ নিয়ে মানুষের মনে সন্দেহ-অবিশ্বাস তৈরি হতে পারে, যা মোটেই কাম্য নয়। এবার ইউপি নির্বাচনে বিএনপিসহ অনেক রাজনৈতিক দল কোনো প্রার্থী দেয়নি। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ চেয়ারম্যান পদে দলীয়ভাবে প্রার্থী মনোনয়ন দিলেও একই দলের অন্তত কয়েকশ প্রার্থী স্বতন্ত্রভাবে মাঠে রয়েছেন। সবাই প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ কাউকে ছাড় দিতে রাজি নয়। ফলে নির্বাচন নিয়ে জনমনে নানা শঙ্কা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, যা গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।

সাধারণত নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনসহ সহিংসতার ঘটনায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রভাবশালীরা সম্পৃক্ত থাকেন। ফলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে সেখানকার প্রশাসনের মধ্যে খুব একটা আগ্রহ লক্ষ করা যায় না। এ অবস্থা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পক্ষে সহায়ক নয়-তা বলাই বাহুল্য। ইউনিয়ন পরিষদ (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা, ২০১৬-এর ৩১ বিধি অনুসারে, আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে ৬ মাস কারাদণ্ড অথবা ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয়দণ্ডের বিধান রয়েছে। আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় তাৎক্ষণিক ব্যর্থ হলে নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতা ও অরাজকতা ব্যাপক আকার ধারণ করবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

এ কথা সত্য, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন এক বিশাল কর্মযজ্ঞ। নির্বাচনে প্রতিটি অনিয়ম-বিশৃঙ্খলা এবং পর্দার অন্তরালে সংঘটিত সব ঘটনার সমাধান দেওয়া অতি দুরূহ কাজ। তবে মোটা দাগে যেসব অনিয়ম ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটতে দেখা যায়, তা রোধ করা অসাধ্য কিছু নয়। নির্বাচন কমিশনের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনে ব্যর্থ হলে সাংবিধানিক এ প্রতিষ্ঠানটির প্রতি মানুষের আস্থা হ্রাস পাবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। নির্বাচন কমিশন সব ধরনের অনিয়ম ও সহিংসতা রোধ করে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে প্রথম ধাপের ইউপি নির্বাচন সম্পন্ন করতে সক্ষম হবে, এটাই প্রত্যাশা।

প্রথম ধাপের ইউপি নির্বাচন

সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হওয়া জরুরি
 সম্পাদকীয় 
২১ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রথম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন উত্তপ্ত ও সহিংস হয়ে ওঠার সংবাদ উদ্বেগজনক। জানা গেছে, আজকের নির্বাচন ঘিরে অর্ধশতাধিক ইউনিয়ন পরিষদে প্রতিদ্বন্দ্বী চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে; বিশেষ করে বরিশাল, পিরোজপুর, লক্ষ্মীপুর, পটুয়াখালী, বরগুনা, ভোলা, ঝালকাঠি, নরসিংদী ও মাদারীপুর জেলার বিভিন্ন ইউপিতে অধিক সহিংসতার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে হামলা-পাল্টাহামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা সংক্রান্ত ৩০-৪০টি অভিযোগ নির্বাচন কমিশনে জমা পড়লেও কমিশন কেন সেগুলো আমলে নেয়নি, তা বোধগম্য নয়। নির্বাচনকেন্দ্রিক কোনো অভিযোগ আসার পর সেটা গুরুত্ব দিয়ে দেখা না হলে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণ নিয়ে মানুষের মনে সন্দেহ-অবিশ্বাস তৈরি হতে পারে, যা মোটেই কাম্য নয়। এবার ইউপি নির্বাচনে বিএনপিসহ অনেক রাজনৈতিক দল কোনো প্রার্থী দেয়নি। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ চেয়ারম্যান পদে দলীয়ভাবে প্রার্থী মনোনয়ন দিলেও একই দলের অন্তত কয়েকশ প্রার্থী স্বতন্ত্রভাবে মাঠে রয়েছেন। সবাই প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ কাউকে ছাড় দিতে রাজি নয়। ফলে নির্বাচন নিয়ে জনমনে নানা শঙ্কা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, যা গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।

সাধারণত নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনসহ সহিংসতার ঘটনায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রভাবশালীরা সম্পৃক্ত থাকেন। ফলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে সেখানকার প্রশাসনের মধ্যে খুব একটা আগ্রহ লক্ষ করা যায় না। এ অবস্থা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পক্ষে সহায়ক নয়-তা বলাই বাহুল্য। ইউনিয়ন পরিষদ (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা, ২০১৬-এর ৩১ বিধি অনুসারে, আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে ৬ মাস কারাদণ্ড অথবা ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয়দণ্ডের বিধান রয়েছে। আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় তাৎক্ষণিক ব্যর্থ হলে নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতা ও অরাজকতা ব্যাপক আকার ধারণ করবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

এ কথা সত্য, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন এক বিশাল কর্মযজ্ঞ। নির্বাচনে প্রতিটি অনিয়ম-বিশৃঙ্খলা এবং পর্দার অন্তরালে সংঘটিত সব ঘটনার সমাধান দেওয়া অতি দুরূহ কাজ। তবে মোটা দাগে যেসব অনিয়ম ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটতে দেখা যায়, তা রোধ করা অসাধ্য কিছু নয়। নির্বাচন কমিশনের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনে ব্যর্থ হলে সাংবিধানিক এ প্রতিষ্ঠানটির প্রতি মানুষের আস্থা হ্রাস পাবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। নির্বাচন কমিশন সব ধরনের অনিয়ম ও সহিংসতা রোধ করে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে প্রথম ধাপের ইউপি নির্বাচন সম্পন্ন করতে সক্ষম হবে, এটাই প্রত্যাশা।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন