করোনাবিষয়ক প্রকল্পে স্থবিরতা
jugantor
করোনাবিষয়ক প্রকল্পে স্থবিরতা
শৃঙ্খলা ও গতি নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নিন

  সম্পাদকীয়  

২২ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এ রোগের বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনা জরুরি হলেও নানা জটিলতার কারণে সরকারি উদ্যোগে সেটা সম্ভব হচ্ছে না। গতকাল যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, করোনাভাইরাসের চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনার প্রকল্পে ধীরগতি লক্ষ করা যাচ্ছে। এ প্রকল্পের আওতায় ভেন্টিলেটর, টেস্টিং কিটসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম কেনার কথা রয়েছে। জানা গেছে, করোনা মোকাবিলায় বিশেষ করে ভেন্টিলেটর, টেস্টিং কিট কেনাসহ এ বিষয়ক চিকিৎসাব্যবস্থা উন্নয়নের লক্ষ্যে ১ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ের একটি প্রকল্প ২০২০ সালে প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দিয়েছেন।

আশা করা হয়েছিল, এ প্রকল্পের গতি হবে দ্রুত। কিন্তু দুঃখজনক হল, চলতি অর্থবছরের ১১ মাসেও প্রকল্পটির অগ্রগতি অতিসামান্য। সম্প্রতি প্রকল্পের আন্তঃব্যয় প্রস্তাবের ওপর সংশ্লিষ্ট মূল্যায়ন কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উঠে আসে করোনার চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনার জন্য অর্থ নিয়ে জটিলতার বিষয়টি। বর্তমানে করোনা পরিস্থিতি হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় মোট ৫০০ কোটি টাকার কোভিড-১৯ টেস্টিং কিট ও পিপিই কেনার প্রস্তাব করেছে কেন্দ্রীয় ঔষধাগার। এসব সামগ্রী ডিপিএম (ডাইরেক্ট প্রকিউরম্যান্ট মেথড) পদ্ধতিতে সংগ্রহের বিষয়ে অনুমোদন পাওয়া গেছে এ সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে। এখন প্রয়োজনীয় অর্থ প্রকল্প থেকে দেওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছে অর্থ বিভাগ। কিন্তু সমস্যা হলো, এ প্রকল্পে (কোভিড-১৯ রেসপন্স ইমার্জেন্সি অ্যাসিস্টেন্স) সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক কোডে বরাদ্দ আছে মাত্র ২৪৫ কোটি টাকা। তাই কিট ও পিপিই ক্রয়ে দ্রুত অর্থ দেওয়া সম্ভব হয়নি।

জানা গেছে, তিন বছর মেয়াদি এ প্রকল্পে চলতি অর্থবছরে সরকারি অংশে বরাদ্দ ৭৯ কোটি টাকার মধ্যে কোনো অর্থই ব্যয় হয়নি। আর বিদেশি সহায়তা বরাদ্দ ৬০০ কোটি টাকার মধ্যে ব্যয় হয়েছে মাত্র ৬৪ কোটি টাকা। করোনা পরিস্থিতির সার্বিক প্রেক্ষাপটে এ খাতে অর্থ ব্যয়ে এমন স্থবিরতা হতাশাজনক। এটা কি সংশ্লিষ্টদের অদক্ষতা নাকি এখানেও লুকিয়ে আছে কোনো রহস্য? যদি তা সংশ্লিষ্টদের অদক্ষতা হয়, তাহলে প্রশ্ন-যেখানে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে সমগ্র বিশ্ববাসী উৎকণ্ঠিত, সেখানে গুরুত্বপূর্ণ এ প্রকল্পে অদক্ষ কেউ যুক্ত হলেন কী করে? প্রকল্পের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বিভিন্ন সামগ্রী অতিদ্রুত ক্রয় করার পদক্ষেপ নিতে হবে। সব জটিলতা দূর করে পুরো প্রকল্পের সার্বিক শৃঙ্খলা ও গতি নিশ্চিত করতে নিতে হবে কার্যকর পদক্ষেপ।

করোনাবিষয়ক প্রকল্পে স্থবিরতা

শৃঙ্খলা ও গতি নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নিন
 সম্পাদকীয় 
২২ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এ রোগের বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনা জরুরি হলেও নানা জটিলতার কারণে সরকারি উদ্যোগে সেটা সম্ভব হচ্ছে না। গতকাল যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, করোনাভাইরাসের চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনার প্রকল্পে ধীরগতি লক্ষ করা যাচ্ছে। এ প্রকল্পের আওতায় ভেন্টিলেটর, টেস্টিং কিটসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম কেনার কথা রয়েছে। জানা গেছে, করোনা মোকাবিলায় বিশেষ করে ভেন্টিলেটর, টেস্টিং কিট কেনাসহ এ বিষয়ক চিকিৎসাব্যবস্থা উন্নয়নের লক্ষ্যে ১ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ের একটি প্রকল্প ২০২০ সালে প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দিয়েছেন।

আশা করা হয়েছিল, এ প্রকল্পের গতি হবে দ্রুত। কিন্তু দুঃখজনক হল, চলতি অর্থবছরের ১১ মাসেও প্রকল্পটির অগ্রগতি অতিসামান্য। সম্প্রতি প্রকল্পের আন্তঃব্যয় প্রস্তাবের ওপর সংশ্লিষ্ট মূল্যায়ন কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উঠে আসে করোনার চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনার জন্য অর্থ নিয়ে জটিলতার বিষয়টি। বর্তমানে করোনা পরিস্থিতি হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় মোট ৫০০ কোটি টাকার কোভিড-১৯ টেস্টিং কিট ও পিপিই কেনার প্রস্তাব করেছে কেন্দ্রীয় ঔষধাগার। এসব সামগ্রী ডিপিএম (ডাইরেক্ট প্রকিউরম্যান্ট মেথড) পদ্ধতিতে সংগ্রহের বিষয়ে অনুমোদন পাওয়া গেছে এ সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে। এখন প্রয়োজনীয় অর্থ প্রকল্প থেকে দেওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছে অর্থ বিভাগ। কিন্তু সমস্যা হলো, এ প্রকল্পে (কোভিড-১৯ রেসপন্স ইমার্জেন্সি অ্যাসিস্টেন্স) সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক কোডে বরাদ্দ আছে মাত্র ২৪৫ কোটি টাকা। তাই কিট ও পিপিই ক্রয়ে দ্রুত অর্থ দেওয়া সম্ভব হয়নি।

জানা গেছে, তিন বছর মেয়াদি এ প্রকল্পে চলতি অর্থবছরে সরকারি অংশে বরাদ্দ ৭৯ কোটি টাকার মধ্যে কোনো অর্থই ব্যয় হয়নি। আর বিদেশি সহায়তা বরাদ্দ ৬০০ কোটি টাকার মধ্যে ব্যয় হয়েছে মাত্র ৬৪ কোটি টাকা। করোনা পরিস্থিতির সার্বিক প্রেক্ষাপটে এ খাতে অর্থ ব্যয়ে এমন স্থবিরতা হতাশাজনক। এটা কি সংশ্লিষ্টদের অদক্ষতা নাকি এখানেও লুকিয়ে আছে কোনো রহস্য? যদি তা সংশ্লিষ্টদের অদক্ষতা হয়, তাহলে প্রশ্ন-যেখানে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে সমগ্র বিশ্ববাসী উৎকণ্ঠিত, সেখানে গুরুত্বপূর্ণ এ প্রকল্পে অদক্ষ কেউ যুক্ত হলেন কী করে? প্রকল্পের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বিভিন্ন সামগ্রী অতিদ্রুত ক্রয় করার পদক্ষেপ নিতে হবে। সব জটিলতা দূর করে পুরো প্রকল্পের সার্বিক শৃঙ্খলা ও গতি নিশ্চিত করতে নিতে হবে কার্যকর পদক্ষেপ।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন