বিদেশি বিনিয়োগ নিম্নমুখী: ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করতে হবে
jugantor
বিদেশি বিনিয়োগ নিম্নমুখী: ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করতে হবে

  সম্পাদকীয়  

২৩ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন বিষয়ক সংস্থা আঙ্কটাডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ সালে বাংলাদেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) এসেছে ২৫৮ কোটি মার্কিন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ৩১ কোটি ডলার অর্থাৎ প্রায় ১১ শতাংশ কম।

আর যতটুকু বিনিয়োগ এসেছে, তার বেশিরভাগই দেশে বিদ্যমান কোম্পানিগুলো তাদের মুনাফা পুনঃবিনিয়োগ করেছে। নতুন বিনিয়োগ একেবারেই কম। আঙ্কটাডের এ তথ্যের মধ্য দিয়ে সার্বিকভাবে দেশে বিনিয়োগে মন্দাবস্থার বিষয়টিই প্রকাশ পেয়েছে। এটা ঠিক, বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে সারা বিশ্বেই বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে। তবে করোনার মধ্যেও চীন ও ভারতে বিনিয়োগ বেড়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় বিনিয়োগ বেড়েছে ২০ শতাংশ। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ কী কী কারণে পিছিয়ে পড়েছে, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।

বস্তুত দেশে বিনিয়োগ পরিস্থিতি দীর্ঘদিন ধরেই ভালো নয়। করোনার কারণে তা আরও খারাপ হয়েছে। এক্ষেত্রে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলামের একটি বক্তব্য প্রণিধানযোগ্য। তিনি যুগান্তরকে বলেছেন, বিদেশিরা অনেক কিছু দেখে বিনিয়োগ করে। এর মধ্যে অন্যতম হলো বিশ্বব্যাংকের ইজ অফ ডুয়িং বিজনেস রিপোর্ট। আমরা জানি, ডুয়িং বিজনেসের বৈশ্বিক সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ভালো নয়। নানা ধরনের প্রক্রিয়াগত ও আইনি জটিলতার কারণে শিল্প-কারখানা গড়ে তোলার উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এখানে। কখনো বা প্রলম্বিত হচ্ছে প্রক্রিয়া। অথচ এমনটি হওয়ার কথা নয়। দেশে ব্যবসা সহজীকরণে ডুয়িং বিজনেস সংক্রান্ত জাতীয় সংস্কার কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এ কমিটি বেশকিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া একই উদ্দেশ্যে গঠন করা হয়েছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)। কথা ছিল, ডুয়িং বিজনেস সংস্কার কমিটির কার্যক্রম সরাসরি মনিটর করবে বিডা। এর ফলে আমরা আশা করেছিলাম, উদ্যোক্তারা শিল্প গড়ে তুলতে অতিদ্রুত তাদের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, দেশীয় উদ্যোক্তাদের এখনো বিভিন্ন জায়গায় হয়রানির শিকার হতে হয়। এ অবস্থার অবসান জরুরি। দেশি বিনিয়োগ বাড়লে বিদেশিরা এ দেশে বিনিয়োগে আগ্রহী হবে, এটাই স্বাভাবিক।

সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার পরও দেশে ব্যবসার পরিবেশের উন্নতি হচ্ছে না কেন, তা খতিয়ে দেখতে হবে। প্রকৃত সমস্যাগুলো সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে হবে। সাধারণভাবে বলা যায়, দুর্নীতি ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দেশে সহজে ব্যবসা করার ক্ষেত্রে বড় বাধা এখনো। তাছাড়া কর দেওয়ার ক্ষেত্রে হয়রানি, জমির নামজারি করতে মাত্রাতিরিক্ত টাকা-এসবও উদ্যোক্তাদের নিরুৎসাহিত করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে ব্যবসার পরিবেশ এখনো অনুকূল নয়।

এ কারণে নতুন শিল্পদ্যোক্তারা বিনিয়োগে উৎসাহবোধ করেন না। শিল্পায়নের স্বার্থে সরকারের উচিত অবিলম্বে এসব দিকে দৃষ্টি দেওয়া। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়লে, শিল্পায়ন ঘটলে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। দৃঢ় হবে দেশের অর্থনীতির ভিত। ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ উন্নত হলে উন্নয়নশীল এবং পরবর্তী ধাপে উন্নত দেশ হিসাবে বাংলাদেশকে গড়ে তোলার পথটিও মসৃণ হবে, সন্দেহ নেই। আমরা আশা করব, এ ক্ষেত্রে সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা দূর করা হবে। সরকারের জন্য এটি একটি চ্যালেঞ্জও বটে।

বিদেশি বিনিয়োগ নিম্নমুখী: ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করতে হবে

 সম্পাদকীয় 
২৩ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন বিষয়ক সংস্থা আঙ্কটাডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ সালে বাংলাদেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) এসেছে ২৫৮ কোটি মার্কিন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ৩১ কোটি ডলার অর্থাৎ প্রায় ১১ শতাংশ কম।

আর যতটুকু বিনিয়োগ এসেছে, তার বেশিরভাগই দেশে বিদ্যমান কোম্পানিগুলো তাদের মুনাফা পুনঃবিনিয়োগ করেছে। নতুন বিনিয়োগ একেবারেই কম। আঙ্কটাডের এ তথ্যের মধ্য দিয়ে সার্বিকভাবে দেশে বিনিয়োগে মন্দাবস্থার বিষয়টিই প্রকাশ পেয়েছে। এটা ঠিক, বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে সারা বিশ্বেই বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে। তবে করোনার মধ্যেও চীন ও ভারতে বিনিয়োগ বেড়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় বিনিয়োগ বেড়েছে ২০ শতাংশ। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ কী কী কারণে পিছিয়ে পড়েছে, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।

বস্তুত দেশে বিনিয়োগ পরিস্থিতি দীর্ঘদিন ধরেই ভালো নয়। করোনার কারণে তা আরও খারাপ হয়েছে। এক্ষেত্রে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলামের একটি বক্তব্য প্রণিধানযোগ্য। তিনি যুগান্তরকে বলেছেন, বিদেশিরা অনেক কিছু দেখে বিনিয়োগ করে। এর মধ্যে অন্যতম হলো বিশ্বব্যাংকের ইজ অফ ডুয়িং বিজনেস রিপোর্ট। আমরা জানি, ডুয়িং বিজনেসের বৈশ্বিক সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ভালো নয়। নানা ধরনের প্রক্রিয়াগত ও আইনি জটিলতার কারণে শিল্প-কারখানা গড়ে তোলার উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এখানে। কখনো বা প্রলম্বিত হচ্ছে প্রক্রিয়া। অথচ এমনটি হওয়ার কথা নয়। দেশে ব্যবসা সহজীকরণে ডুয়িং বিজনেস সংক্রান্ত জাতীয় সংস্কার কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এ কমিটি বেশকিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া একই উদ্দেশ্যে গঠন করা হয়েছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)। কথা ছিল, ডুয়িং বিজনেস সংস্কার কমিটির কার্যক্রম সরাসরি মনিটর করবে বিডা। এর ফলে আমরা আশা করেছিলাম, উদ্যোক্তারা শিল্প গড়ে তুলতে অতিদ্রুত তাদের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, দেশীয় উদ্যোক্তাদের এখনো বিভিন্ন জায়গায় হয়রানির শিকার হতে হয়। এ অবস্থার অবসান জরুরি। দেশি বিনিয়োগ বাড়লে বিদেশিরা এ দেশে বিনিয়োগে আগ্রহী হবে, এটাই স্বাভাবিক।

সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার পরও দেশে ব্যবসার পরিবেশের উন্নতি হচ্ছে না কেন, তা খতিয়ে দেখতে হবে। প্রকৃত সমস্যাগুলো সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে হবে। সাধারণভাবে বলা যায়, দুর্নীতি ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দেশে সহজে ব্যবসা করার ক্ষেত্রে বড় বাধা এখনো। তাছাড়া কর দেওয়ার ক্ষেত্রে হয়রানি, জমির নামজারি করতে মাত্রাতিরিক্ত টাকা-এসবও উদ্যোক্তাদের নিরুৎসাহিত করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে ব্যবসার পরিবেশ এখনো অনুকূল নয়।

এ কারণে নতুন শিল্পদ্যোক্তারা বিনিয়োগে উৎসাহবোধ করেন না। শিল্পায়নের স্বার্থে সরকারের উচিত অবিলম্বে এসব দিকে দৃষ্টি দেওয়া। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়লে, শিল্পায়ন ঘটলে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। দৃঢ় হবে দেশের অর্থনীতির ভিত। ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ উন্নত হলে উন্নয়নশীল এবং পরবর্তী ধাপে উন্নত দেশ হিসাবে বাংলাদেশকে গড়ে তোলার পথটিও মসৃণ হবে, সন্দেহ নেই। আমরা আশা করব, এ ক্ষেত্রে সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা দূর করা হবে। সরকারের জন্য এটি একটি চ্যালেঞ্জও বটে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন