রিকভারি গাইডলাইন
jugantor
রিকভারি গাইডলাইন
শিক্ষার মতো অন্যান্য খাত নিয়েও ভাবতে হবে

  সম্পাদকীয়  

২৪ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনার কারণে শিক্ষা খাতে যে ক্ষতি হয়েছে তার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে দেশের অন্যান্য খাতেও পড়বে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার পর কীভাবে পাঠদান কার্যক্রম চলবে, এ নিয়ে অনেক পরিকল্পনা করা হয়েছে এবং এ আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে শিক্ষা খাতের ক্ষতি ন্যূনতম পর্যায়ে রাখতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।

জানা গেছে, করোনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পোষাতে রিকভারি গাইডলাইন তৈরি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। এ গাইডলাইনে রয়েছে শিক্ষাবর্ষের সময় কমানো, বিভিন্ন ধরনের ছুটি বাতিল, পুরো সিলেবাসের পাঠদান সম্পন্নসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়।

ইউজিসি প্রণীত রিকভারি গাইডলাইনে যেসব বিষয়কে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে তা হলো, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান একাডেমিক ক্যালেন্ডারের সময়কাল উল্লেখযোগ্য ও গ্রহণযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা; সেমিস্টার/টার্ম বা বার্ষিক পদ্ধতির ক্ষেত্রে ব্যবহারিক বিষয়সহ সব বিষয়ের ক্লাস, বিভিন্ন পরীক্ষা ও চূড়ান্ত পরীক্ষার সময় কমিয়ে আনা। এসব কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করতে হলে স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন ছুটি কমাতে হবে।

লেকচারের সংখ্যা কমানোর প্রয়োজন হলেও পুরো সিলেবাসের পাঠদান যাতে সম্পন্ন করা যায় সেদিকে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দৃষ্টি দিতে হবে। বর্তমান বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে একাডেমিক ক্যালেন্ডারের খুঁটিনাটি নিয়ে নতুনভাবে চিন্তাভাবনা করতে হবে।

রিকভারি পরিকল্পনা গ্রহণ করে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত হওয়ার পর শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই অনুমোদিত একাডেমিক ক্যালেন্ডার শিক্ষার্থীদের অবহিত করতে হবে এবং তা বাস্তবায়নে নিতে হবে সর্বাত্মক উদ্যোগ। অনুমান করা যাচ্ছে, উচ্চশিক্ষার মতো শিক্ষার অন্যান্য স্তরেও রিকভারি গাইডলাইন প্রণয়ন করা হবে এবং সেই গাইডলাইন অনুযায়ী প্রণীত একাডেমিক ক্যালেন্ডার বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

বর্তমানে বিভিন্ন স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমের ওপর গুরুত্ব প্রদান করা হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে উপকরণ সংকটের কারণে দেশের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমের সুফল পুরোপুরি পাচ্ছে না। সারা দেশে অল্পবয়সী শিক্ষার্থীদেরও অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম চালু রয়েছে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকিও বিবেচনায় নিতে হবে।

প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম চালু হওয়ায় ধনী ও দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে, তা দূর করতেও নিতে হবে পদক্ষেপ। শিক্ষার মতো অন্যান্য খাতের ক্ষতি পোষাতেও রিকভারি গাইডলাইন তৈরি করা প্রয়োজন। বিশেষ করে দেশের অর্থনীতি ও স্বাস্থ্য খাত নিয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিশেষভাবে ভাবতে হবে।

রিকভারি গাইডলাইন

শিক্ষার মতো অন্যান্য খাত নিয়েও ভাবতে হবে
 সম্পাদকীয় 
২৪ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনার কারণে শিক্ষা খাতে যে ক্ষতি হয়েছে তার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে দেশের অন্যান্য খাতেও পড়বে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার পর কীভাবে পাঠদান কার্যক্রম চলবে, এ নিয়ে অনেক পরিকল্পনা করা হয়েছে এবং এ আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে শিক্ষা খাতের ক্ষতি ন্যূনতম পর্যায়ে রাখতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।

জানা গেছে, করোনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পোষাতে রিকভারি গাইডলাইন তৈরি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। এ গাইডলাইনে রয়েছে শিক্ষাবর্ষের সময় কমানো, বিভিন্ন ধরনের ছুটি বাতিল, পুরো সিলেবাসের পাঠদান সম্পন্নসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়।

ইউজিসি প্রণীত রিকভারি গাইডলাইনে যেসব বিষয়কে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে তা হলো, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান একাডেমিক ক্যালেন্ডারের সময়কাল উল্লেখযোগ্য ও গ্রহণযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা; সেমিস্টার/টার্ম বা বার্ষিক পদ্ধতির ক্ষেত্রে ব্যবহারিক বিষয়সহ সব বিষয়ের ক্লাস, বিভিন্ন পরীক্ষা ও চূড়ান্ত পরীক্ষার সময় কমিয়ে আনা। এসব কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করতে হলে স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন ছুটি কমাতে হবে।

লেকচারের সংখ্যা কমানোর প্রয়োজন হলেও পুরো সিলেবাসের পাঠদান যাতে সম্পন্ন করা যায় সেদিকে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দৃষ্টি দিতে হবে। বর্তমান বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে একাডেমিক ক্যালেন্ডারের খুঁটিনাটি নিয়ে নতুনভাবে চিন্তাভাবনা করতে হবে।

রিকভারি পরিকল্পনা গ্রহণ করে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত হওয়ার পর শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই অনুমোদিত একাডেমিক ক্যালেন্ডার শিক্ষার্থীদের অবহিত করতে হবে এবং তা বাস্তবায়নে নিতে হবে সর্বাত্মক উদ্যোগ। অনুমান করা যাচ্ছে, উচ্চশিক্ষার মতো শিক্ষার অন্যান্য স্তরেও রিকভারি গাইডলাইন প্রণয়ন করা হবে এবং সেই গাইডলাইন অনুযায়ী প্রণীত একাডেমিক ক্যালেন্ডার বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

বর্তমানে বিভিন্ন স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমের ওপর গুরুত্ব প্রদান করা হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে উপকরণ সংকটের কারণে দেশের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমের সুফল পুরোপুরি পাচ্ছে না। সারা দেশে অল্পবয়সী শিক্ষার্থীদেরও অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম চালু রয়েছে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকিও বিবেচনায় নিতে হবে।

প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম চালু হওয়ায় ধনী ও দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে, তা দূর করতেও নিতে হবে পদক্ষেপ। শিক্ষার মতো অন্যান্য খাতের ক্ষতি পোষাতেও রিকভারি গাইডলাইন তৈরি করা প্রয়োজন। বিশেষ করে দেশের অর্থনীতি ও স্বাস্থ্য খাত নিয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিশেষভাবে ভাবতে হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন