লকডাউনে কনটেইনার জটের শঙ্কা
jugantor
লকডাউনে কনটেইনার জটের শঙ্কা
বাস্তবতার নিরিখেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে

  সম্পাদকীয়  

১৯ জুলাই ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রতি বছর দুই ঈদের ছুটির আগে বেসরকারি আইসিডিগুলোতে (ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো) কনটেইনারের চাপ বেড়ে যায়, যা বহুল আলোচিত। কিন্তু এবারের সংকটের ধরন পুরোপুরি ভিন্ন। একদিকে কনটেইনারের সংকট, অন্যদিকে জট। রপ্তানি পণ্য পরিবহণে কনটেইনার সংকট ও জাহাজের চাহিদা অনুযায়ী কনটেইনার পরিবহণের বুকিং না মেলার কারণেই এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে, বিষয়টি গত কিছুদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে।

বস্তুত করোনার কারণে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার কারণেই বহুমুখী সংকটের সৃষ্টি। ঈদের ছুটি এবং এরপর শুরু হতে যাওয়া ১৪ দিনের কঠোর লকডাউনে বন্দরে আমদানিকৃত পণ্য বোঝাই কনটেইনার জটের আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতদিন কলকারখানা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো লকডাউনের আওতামুক্ত থাকায় উৎপাদন অব্যাহত ছিল। এতে বন্দরে লকডাউনের প্রভাব তেমন একটা পড়েনি; অন্যান্য পণ্যের পাশাপাশি শিল্পের আমদানিকৃত কাঁচামালও ডেলিভারি হয়েছে।

কিন্তু আসন্ন লকডাউনে সব ধরনের শিল্পকারখানা বন্ধ থাকলে আমদানি পণ্য ডেলিভারিতে বড় ধরনের সংকট সৃষ্টির আশংকা রয়েছে। এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে বন্দরের স্বাভাবিক পণ্য হ্যান্ডলিংও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও প্রবল। জানা গেছে, এ পরিস্থিতিতে সংকট এড়াতে শতভাগ আমদানি পণ্য আইসিডি থেকে ডেলিভারি দেওয়ার অনুমতি চেয়ে এনবিআরকে নৌ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি কর্তৃপক্ষ বিবেচনায় নিলে ইতিবাচক ফল মিলতে পারে।

আশঙ্কা করা হচ্ছে, ১৪ দিন কলকারখানা বন্ধ থাকলে ওই সময়ে শিল্পের কাঁচামাল ডেলিভারি নিতে চাইবেন না অনেক আমদানিকারক। এতে বিপুলসংখ্যক আমদানিকৃত পণ্য বোঝাই কনটেইনার জমবে ইয়ার্ডগুলোতে; যার ধারণক্ষমতা বন্দরের নেই। এ অবস্থায় যদি কিছু আমদানিকৃত পণ্য বোঝাই কনটেইনার আইসিডিতে পাঠিয়ে দেওয়া যায় এবং সেখান থেকে ডেলিভারির অনুমতি মিলে তাহলে বন্দরের ওপর চাপ কমবে।

করোনার কারণে সিঙ্গাপুর ও কলম্বো ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরে কনটেইনার জট সৃষ্টি হওয়ায় এবং জাহাজ ও খালি কনটেইনারের সংকটের মুখে প্রায় এক মাস ধরে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য রপ্তানিতে সংকট সৃষ্টি হয়েছে। রপ্তানি পণ্য নিয়ে চলমান সংকটের মধ্যে আমদানিকৃত পণ্য বোঝাই কনটেইনারের চাপ বাড়লে বন্দরের জন্য তা বড় ধরনের সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

করোনার কারণে বিভিন্ন দেশের রপ্তানিকারক ও উদ্যোক্তারা যতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, কতদিনে তারা তা কাটিয়ে উঠতে পারবেন, বলা মুশকিল। সবদিক বিবেচনা করে দেশের রপ্তানিকারকদের ক্ষতি যাতে ন্যূনতম পর্যায়ে রাখা যায়, তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। যেহেতু উল্লিখিত সমস্যার সঙ্গে বৈশ্বিক বাণিজ্যের গতি সরাসরি জড়িত; তাই সংকট উত্তরণে সংশ্লিষ্ট সবার উদ্যোগে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে।

লকডাউনে কনটেইনার জটের শঙ্কা

বাস্তবতার নিরিখেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে
 সম্পাদকীয় 
১৯ জুলাই ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রতি বছর দুই ঈদের ছুটির আগে বেসরকারি আইসিডিগুলোতে (ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো) কনটেইনারের চাপ বেড়ে যায়, যা বহুল আলোচিত। কিন্তু এবারের সংকটের ধরন পুরোপুরি ভিন্ন। একদিকে কনটেইনারের সংকট, অন্যদিকে জট। রপ্তানি পণ্য পরিবহণে কনটেইনার সংকট ও জাহাজের চাহিদা অনুযায়ী কনটেইনার পরিবহণের বুকিং না মেলার কারণেই এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে, বিষয়টি গত কিছুদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে।

বস্তুত করোনার কারণে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার কারণেই বহুমুখী সংকটের সৃষ্টি। ঈদের ছুটি এবং এরপর শুরু হতে যাওয়া ১৪ দিনের কঠোর লকডাউনে বন্দরে আমদানিকৃত পণ্য বোঝাই কনটেইনার জটের আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতদিন কলকারখানা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো লকডাউনের আওতামুক্ত থাকায় উৎপাদন অব্যাহত ছিল। এতে বন্দরে লকডাউনের প্রভাব তেমন একটা পড়েনি; অন্যান্য পণ্যের পাশাপাশি শিল্পের আমদানিকৃত কাঁচামালও ডেলিভারি হয়েছে।

কিন্তু আসন্ন লকডাউনে সব ধরনের শিল্পকারখানা বন্ধ থাকলে আমদানি পণ্য ডেলিভারিতে বড় ধরনের সংকট সৃষ্টির আশংকা রয়েছে। এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে বন্দরের স্বাভাবিক পণ্য হ্যান্ডলিংও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও প্রবল। জানা গেছে, এ পরিস্থিতিতে সংকট এড়াতে শতভাগ আমদানি পণ্য আইসিডি থেকে ডেলিভারি দেওয়ার অনুমতি চেয়ে এনবিআরকে নৌ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি কর্তৃপক্ষ বিবেচনায় নিলে ইতিবাচক ফল মিলতে পারে।

আশঙ্কা করা হচ্ছে, ১৪ দিন কলকারখানা বন্ধ থাকলে ওই সময়ে শিল্পের কাঁচামাল ডেলিভারি নিতে চাইবেন না অনেক আমদানিকারক। এতে বিপুলসংখ্যক আমদানিকৃত পণ্য বোঝাই কনটেইনার জমবে ইয়ার্ডগুলোতে; যার ধারণক্ষমতা বন্দরের নেই। এ অবস্থায় যদি কিছু আমদানিকৃত পণ্য বোঝাই কনটেইনার আইসিডিতে পাঠিয়ে দেওয়া যায় এবং সেখান থেকে ডেলিভারির অনুমতি মিলে তাহলে বন্দরের ওপর চাপ কমবে।

করোনার কারণে সিঙ্গাপুর ও কলম্বো ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরে কনটেইনার জট সৃষ্টি হওয়ায় এবং জাহাজ ও খালি কনটেইনারের সংকটের মুখে প্রায় এক মাস ধরে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য রপ্তানিতে সংকট সৃষ্টি হয়েছে। রপ্তানি পণ্য নিয়ে চলমান সংকটের মধ্যে আমদানিকৃত পণ্য বোঝাই কনটেইনারের চাপ বাড়লে বন্দরের জন্য তা বড় ধরনের সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

করোনার কারণে বিভিন্ন দেশের রপ্তানিকারক ও উদ্যোক্তারা যতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, কতদিনে তারা তা কাটিয়ে উঠতে পারবেন, বলা মুশকিল। সবদিক বিবেচনা করে দেশের রপ্তানিকারকদের ক্ষতি যাতে ন্যূনতম পর্যায়ে রাখা যায়, তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। যেহেতু উল্লিখিত সমস্যার সঙ্গে বৈশ্বিক বাণিজ্যের গতি সরাসরি জড়িত; তাই সংকট উত্তরণে সংশ্লিষ্ট সবার উদ্যোগে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন