টিকা ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়হীনতা: অবিলম্বে দূর করা দরকার
jugantor
টিকা ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়হীনতা: অবিলম্বে দূর করা দরকার

  সম্পাদকীয়  

২০ জুলাই ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রদান করা করোনার টিকার প্রথম পর্যায় সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হলেও বর্তমানে টিকা ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়হীনতা লক্ষ করা যাচ্ছে। দেশে প্রথম যখন করোনার টিকা প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়, বিনামূল্যের এ টিকার নিবন্ধনে আগ্রহীর সংখ্যা ছিল খুবই কম। মানুষকে টিকা নিতে আগ্রহী করতে সরকারি-বেসরকারিভাবে নানা রকম উদ্যোগ নেওয়া হয়।

টিকা গ্রহণে মানুষের আগ্রহ সৃষ্টির পর এক পর্যায়ে দেখা দেয় টিকার সংকট। সরকারের নানামুখী উদ্যোগের ফলে বিভিন্ন উৎস থেকে আবারও করোনার টিকা আসতে শুরু করেছে; এখন এই টিকা গ্রহণে মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ করা যাচ্ছে। চলতি মাসে দ্বিতীয় ধাপের কার্যক্রম শুরু হলেও টিকা নিয়ে নানা পর্যায়ে বিভিন্ন ধরনের বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, প্রবাসী শ্রমিকরা টিকা পেতে নানা ভোগান্তিতে পড়ছেন। সাধারণ মানুষ অনেকে নিবন্ধন করতে পারছেন না, নিবন্ধন করলেও এসএমএস পাচ্ছেন না, এসএমএস পেলেও হাসপাতাল থেকে বলা হচ্ছে টিকা শেষ। এমন পরিস্থিতিতে রোববার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পর্যায়ক্রমে দেশের সবাইকে করোনার টিকা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

করোনার টিকার জন্য নিবন্ধন করতে গিয়ে নানা ধরনের ভোগান্তিতে পড়ার অভিযোগ করেছেন প্রবাসী শ্রমিকরা। তারা জানান, নিবন্ধনের কয়েকদিন পরও এসএমএস পাচ্ছেন না অনেকে। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোতে (বিএমইটি) নিবন্ধনেও ৭২ ঘণ্টার বেশি সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। প্রবাসী শ্রমিকদের অনেকেই জানিয়েছেন, সময়মতো টিকা নিতে না পারলে তাদের বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। এসব দিক বিবেচনা করে তাদের দুর্ভোগ কমাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।

বস্তুত গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হওয়ায় তাদের দুর্ভোগের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। দেশে এমন আরও কত মানুষ টিকা নিতে গিয়ে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে, তা অনুসন্ধান করে সমস্যার সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে সরকারের টিকা কার্যক্রম পড়বে প্রশ্নের মুখে।

বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা প্রদান করা হলে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের বিপুলসংখ্যক মানুষ এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়বে। টিকা প্রদান নিয়ে যে কোনো পরিকল্পনা করার সময় এসব বিষয়ও বিবেচনায় রাখা দরকার। কর্তৃপক্ষ যদি প্রথম পর্যায়ের অভিজ্ঞতার আলোকে বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার চেষ্টা না করে, তাহলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হতে পারে।

টিকা ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়হীনতা: অবিলম্বে দূর করা দরকার

 সম্পাদকীয় 
২০ জুলাই ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রদান করা করোনার টিকার প্রথম পর্যায় সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হলেও বর্তমানে টিকা ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়হীনতা লক্ষ করা যাচ্ছে। দেশে প্রথম যখন করোনার টিকা প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়, বিনামূল্যের এ টিকার নিবন্ধনে আগ্রহীর সংখ্যা ছিল খুবই কম। মানুষকে টিকা নিতে আগ্রহী করতে সরকারি-বেসরকারিভাবে নানা রকম উদ্যোগ নেওয়া হয়।

টিকা গ্রহণে মানুষের আগ্রহ সৃষ্টির পর এক পর্যায়ে দেখা দেয় টিকার সংকট। সরকারের নানামুখী উদ্যোগের ফলে বিভিন্ন উৎস থেকে আবারও করোনার টিকা আসতে শুরু করেছে; এখন এই টিকা গ্রহণে মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ করা যাচ্ছে। চলতি মাসে দ্বিতীয় ধাপের কার্যক্রম শুরু হলেও টিকা নিয়ে নানা পর্যায়ে বিভিন্ন ধরনের বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, প্রবাসী শ্রমিকরা টিকা পেতে নানা ভোগান্তিতে পড়ছেন। সাধারণ মানুষ অনেকে নিবন্ধন করতে পারছেন না, নিবন্ধন করলেও এসএমএস পাচ্ছেন না, এসএমএস পেলেও হাসপাতাল থেকে বলা হচ্ছে টিকা শেষ। এমন পরিস্থিতিতে রোববার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পর্যায়ক্রমে দেশের সবাইকে করোনার টিকা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

করোনার টিকার জন্য নিবন্ধন করতে গিয়ে নানা ধরনের ভোগান্তিতে পড়ার অভিযোগ করেছেন প্রবাসী শ্রমিকরা। তারা জানান, নিবন্ধনের কয়েকদিন পরও এসএমএস পাচ্ছেন না অনেকে। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোতে (বিএমইটি) নিবন্ধনেও ৭২ ঘণ্টার বেশি সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। প্রবাসী শ্রমিকদের অনেকেই জানিয়েছেন, সময়মতো টিকা নিতে না পারলে তাদের বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। এসব দিক বিবেচনা করে তাদের দুর্ভোগ কমাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।

বস্তুত গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হওয়ায় তাদের দুর্ভোগের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। দেশে এমন আরও কত মানুষ টিকা নিতে গিয়ে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে, তা অনুসন্ধান করে সমস্যার সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে সরকারের টিকা কার্যক্রম পড়বে প্রশ্নের মুখে।

বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা প্রদান করা হলে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের বিপুলসংখ্যক মানুষ এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়বে। টিকা প্রদান নিয়ে যে কোনো পরিকল্পনা করার সময় এসব বিষয়ও বিবেচনায় রাখা দরকার। কর্তৃপক্ষ যদি প্রথম পর্যায়ের অভিজ্ঞতার আলোকে বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার চেষ্টা না করে, তাহলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হতে পারে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন