তবুও এসেছে খুশির ঈদ
jugantor
তবুও এসেছে খুশির ঈদ

  মুহাম্মদ সায়েম আহমাদ  

২০ জুলাই ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গত বছরের মতো এবারও পবিত্র ঈদুল আজহা এসেছে করোনাকালে। ফলে এ ঈদ কতটা আনন্দদায়ক হবে তা অনিশ্চিত। অর্থনীতিতে স্থবিরতার কারণে দেশে বহু মানুষ কর্মসংস্থান হারিয়েছে। কঠিন এ অবস্থায় বেড়েছে দারিদ্র্যের হার।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, করোনার কারণে বেড়েছে কর্মহীন মানুষের সংখ্যা, কমেছে আয়। ফলে দারিদ্র্যের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫ শতাংশে। সেই সঙ্গে সবার মনে করোনা নিয়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। আগে ঈদের নামাজ শেষে আমরা একে অপরের বুকের সঙ্গে বুক মিলিয়ে কোলাকুলি করতাম। কিন্তু সেটা সম্ভব হবে না এবার।

যাদের সামর্থ্য আছে, তারা ঈদ উপলক্ষ্যে নতুন জামা-কাপড় পড়বে। কুরবানির পশু ক্রয় করেছে। কিন্তু যাদের সামর্থ্য নেই, তারা কী করবে? তাদেরও তো সাধ আছে। তাদেরও মন চায় একটু আনন্দ-উল্লাসের মাধ্যমে ঈদ উদযাপন করতে। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে বহু মানুষের আগের মতো আয়-উপার্জনের পথ নেই। অনেকেই কুরবানি করার সামর্থ্য হারিয়ে ফেলেছেন। এই কঠিন পরিস্থিতিতে কেমন করে চলছে তাদের জীবন? এসব বিষয় কি আমরা ভেবেছি কখনো?

আমরা চাই, ঈদের আনন্দ আসুক সবার জীবনে। সবার মুখে হাসি ফুটে উঠুক। আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কুরবানি করা পশুর মাংস ভাগ করার একটি সুনির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। যেখানে সবার সঙ্গে ঈদের আনন্দ উপভোগ করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যেমন হাদিসে আছে, রাসূল (সা.) কুরবানির মাংস একভাগ নিজের পরিবারকে খাওয়াতেন, একভাগ গরিব প্রতিবেশীদের দিতেন এবং একভাগ গরিব মিসকিনদের দিতেন। আমাদেরও উচিত গরিব-দুঃখীদের মাঝে কুরবানির মাংস বিলিয়ে দেওয়া। দেশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে সচেষ্ট থাকা। সরকারের উচিত গরিবদের জন্য অর্থ বরাদ্দ করে সুষ্ঠু বণ্টন করা। পাশাপাশি বিত্তবানদের উচিত এসব মানুষের পাশে দাঁড়ানো। বেসরকারি সংস্থাগুলোকেও (এনজিও) অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। একইভাবে এগিয়ে আসতে হবে সব নাগরিকের। যার যতটুকু সামর্থ্য আছে, সে অনুযায়ী দুস্থদের পাশে দাঁড়াতে হবে।

ঈদের নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। সবার মুখে মাস্কের ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে হবে এবং কোলাকুলি করা থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ একটু অসচেতনতা আমার-আপনার জীবনের জন্য কাল হয়ে দাঁড়াতে পারে। আর সেজন্যই সচেতনতার বিকল্প নেই। পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় আমাদের সবাইকে কুরবানির সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নজর দিতে হবে। আমরা অনেকেই এ বিষয়টি এড়িয়ে চলার চেষ্টা করি, যা মোটেও কাম্য নয়। বিষণ্নতা ঘিরে আছে আমাদের প্রত্যেকের মনে।

কারণ অতীতের মতো ঈদ আনন্দ উপভোগ করা যাচ্ছে না এবার। তারপরও কামনা করি, জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষ সবার জীবনে ঈদ বয়ে আনুক সুখ-সমৃদ্ধি ও খুশির বার্তা। ঈদ হোক কল্যাণ, আত্মশুদ্ধি, সংযম, সৌহার্দ্য ও ভালাবাসার। পৃথিবী আবার আগের রূপ ফিরে পাক। মানুষ বাঁচতে শিখুক নতুনভাবে। আবার নতুন সূর্যোদয়ের আলোয় ভরে যাক পৃথিবী-এ প্রত্যাশা রেখে সবাইকে পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা ও মোবারক জানাই।

মুহাম্মদ সায়েম আহমাদ : গবেষক

তবুও এসেছে খুশির ঈদ

 মুহাম্মদ সায়েম আহমাদ 
২০ জুলাই ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গত বছরের মতো এবারও পবিত্র ঈদুল আজহা এসেছে করোনাকালে। ফলে এ ঈদ কতটা আনন্দদায়ক হবে তা অনিশ্চিত। অর্থনীতিতে স্থবিরতার কারণে দেশে বহু মানুষ কর্মসংস্থান হারিয়েছে। কঠিন এ অবস্থায় বেড়েছে দারিদ্র্যের হার।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, করোনার কারণে বেড়েছে কর্মহীন মানুষের সংখ্যা, কমেছে আয়। ফলে দারিদ্র্যের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫ শতাংশে। সেই সঙ্গে সবার মনে করোনা নিয়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। আগে ঈদের নামাজ শেষে আমরা একে অপরের বুকের সঙ্গে বুক মিলিয়ে কোলাকুলি করতাম। কিন্তু সেটা সম্ভব হবে না এবার।

যাদের সামর্থ্য আছে, তারা ঈদ উপলক্ষ্যে নতুন জামা-কাপড় পড়বে। কুরবানির পশু ক্রয় করেছে। কিন্তু যাদের সামর্থ্য নেই, তারা কী করবে? তাদেরও তো সাধ আছে। তাদেরও মন চায় একটু আনন্দ-উল্লাসের মাধ্যমে ঈদ উদযাপন করতে। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে বহু মানুষের আগের মতো আয়-উপার্জনের পথ নেই। অনেকেই কুরবানি করার সামর্থ্য হারিয়ে ফেলেছেন। এই কঠিন পরিস্থিতিতে কেমন করে চলছে তাদের জীবন? এসব বিষয় কি আমরা ভেবেছি কখনো?

আমরা চাই, ঈদের আনন্দ আসুক সবার জীবনে। সবার মুখে হাসি ফুটে উঠুক। আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কুরবানি করা পশুর মাংস ভাগ করার একটি সুনির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। যেখানে সবার সঙ্গে ঈদের আনন্দ উপভোগ করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যেমন হাদিসে আছে, রাসূল (সা.) কুরবানির মাংস একভাগ নিজের পরিবারকে খাওয়াতেন, একভাগ গরিব প্রতিবেশীদের দিতেন এবং একভাগ গরিব মিসকিনদের দিতেন। আমাদেরও উচিত গরিব-দুঃখীদের মাঝে কুরবানির মাংস বিলিয়ে দেওয়া। দেশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে সচেষ্ট থাকা। সরকারের উচিত গরিবদের জন্য অর্থ বরাদ্দ করে সুষ্ঠু বণ্টন করা। পাশাপাশি বিত্তবানদের উচিত এসব মানুষের পাশে দাঁড়ানো। বেসরকারি সংস্থাগুলোকেও (এনজিও) অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। একইভাবে এগিয়ে আসতে হবে সব নাগরিকের। যার যতটুকু সামর্থ্য আছে, সে অনুযায়ী দুস্থদের পাশে দাঁড়াতে হবে।

ঈদের নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। সবার মুখে মাস্কের ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে হবে এবং কোলাকুলি করা থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ একটু অসচেতনতা আমার-আপনার জীবনের জন্য কাল হয়ে দাঁড়াতে পারে। আর সেজন্যই সচেতনতার বিকল্প নেই। পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় আমাদের সবাইকে কুরবানির সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নজর দিতে হবে। আমরা অনেকেই এ বিষয়টি এড়িয়ে চলার চেষ্টা করি, যা মোটেও কাম্য নয়। বিষণ্নতা ঘিরে আছে আমাদের প্রত্যেকের মনে।

কারণ অতীতের মতো ঈদ আনন্দ উপভোগ করা যাচ্ছে না এবার। তারপরও কামনা করি, জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষ সবার জীবনে ঈদ বয়ে আনুক সুখ-সমৃদ্ধি ও খুশির বার্তা। ঈদ হোক কল্যাণ, আত্মশুদ্ধি, সংযম, সৌহার্দ্য ও ভালাবাসার। পৃথিবী আবার আগের রূপ ফিরে পাক। মানুষ বাঁচতে শিখুক নতুনভাবে। আবার নতুন সূর্যোদয়ের আলোয় ভরে যাক পৃথিবী-এ প্রত্যাশা রেখে সবাইকে পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা ও মোবারক জানাই।

মুহাম্মদ সায়েম আহমাদ : গবেষক

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন