ঈদুল আজহা উদযাপন: কুরবানির পশুর চামড়া নিয়ে সেই হতাশার চিত্র
jugantor
ঈদুল আজহা উদযাপন: কুরবানির পশুর চামড়া নিয়ে সেই হতাশার চিত্র

  সম্পাদকীয়  

২৪ জুলাই ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাকালে দেশে দ্বিতীয়বারের মতো উদযাপিত হলো পবিত্র ঈদুল আজহা। মহামারির কারণে এ বছর ভিন্ন এক প্রেক্ষাপটে ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়েছে। বস্তুত করোনা সংকট গত বছরের মতো এবারও আমাদের ঈদ আনন্দ অনেকটাই ম্লান করে দিয়েছে।

তারপরও সামর্থ্য অনুযায়ী পশু কুরবানি দিয়েছেন অনেকেই। মহামারিজনিত পরিস্থিতিতে এবার স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কুরবানির সংখ্যা কম হওয়াটাই স্বাভাবিক। বাস্তবে হয়েছেও তাই।

পশু কুরবানি কম হওয়ার কারণে এর চামড়ার চাহিদা ও দাম বেশি হওয়াটাই স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু বাস্তবে বরং এর উল্টোটিই ঘটতে দেখা গেছে। কুরবানির পশুর চামড়া যৎসামান্য দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে এবারও। প্রকারভেদে গরুপ্রতি চামড়া ১০০ থেকে ৪০০ টাকায় এবং ছাগল-ভেড়ার চামড়া ১০-১৫ টাকায় কেনাবেচা হয়েছে।

চামড়ার দাম অস্বাভাবিক কমে যাওয়ায় দেশের অন্যতম এ রপ্তানি পণ্যটি নিয়ে সংশ্লিষ্টরা যে চরম হতাশায় ভুগছেন, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এ বিষয়ে বিভিন্ন মহল থেকে ব্যবসায়ীদের কারসাজি ও যোগসাজশের অভিযোগ তোলা হয়েছে। উল্লেখ্য, কুরবানির পশুর চামড়া নিয়ে গত বছরও সৃষ্টি হয়েছিল এমন পরিস্থিতি। আমরা মনে করি, নির্ধারিত দামে কুরবানির পশুর চামড়া কেনাবেচার ব্যাপারে চামড়াশিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন।

চামড়ার মূল্য হ্রাসের রহস্য উদঘাটন এবং এর সঙ্গে জড়িত দুষ্টচক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারণে সম্ভাবনাময় চামড়া শিল্প খাতকে ধ্বংস হতে দেওয়া যাবে না।

পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন, জনসাধারণের যাতায়াত, ঈদ-পূর্ববর্তী ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনার পাশাপাশি দেশের আর্থসামাজিক অবস্থা এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির মধ্যেই ১৫ থেকে ২৩ জুলাই সকাল পর্যন্ত লকডাউন শিথিল করেছিল সরকার। ফলে ঈদ উপলক্ষে প্রচুর মানুষ যেমন রাজধানী ছেড়েছিল, তেমনি নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগেই তাদের একটি অংশ রাজধানীতে প্রত্যাবর্তন করেছে।

উদ্বেগজনক হলো, ঘরমুখো মানুষের মধ্যে যেমন অনেকের মুখেই মাস্ক না থাকার পাশাপাশি সামাজিক দূরত্ব বা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়টি হয়েছে উপেক্ষিত, তেমনি রাজধানী অভিমুখী মানুষের ক্ষেত্রেও একই চিত্র পরিলক্ষিত হয়েছে। এর ফলে করোনা সংক্রমণের হার বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

এ সংকটকালে দেশের মানুষ যাতে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি ও নিয়মশৃঙ্খলা মেনে ঈদ উদযাপন করে, এ ব্যাপারে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবার যথেষ্ট উদ্যোগ ছিল, এ সত্য অস্বীকার করা যাবে না। এক্ষেত্রে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন বেঁধে দেওয়া সময়সীমা ২৪ ঘণ্টা অতিক্রান্ত হওয়ার আগেই কোরবানির বর্জ্য অপসারণের যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, তা সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য।

বলার অপেক্ষা রাখে না, বর্তমানে দেশে করোনা পরিস্থিতি যে রূপ ধারণ করেছে, তাতে অনেক কিছুই শক্ত হাতে নিয়ন্ত্রণ করা দরকার। বিশেষত ঈদ-পরবর্তী সময়ে স্বাস্থ্যবিধি মানতে মানুষকে বাধ্য করা না গেলে দেশে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হবে, যা মোটেই কাম্য নয়।

ঈদুল আজহা উদযাপন: কুরবানির পশুর চামড়া নিয়ে সেই হতাশার চিত্র

 সম্পাদকীয় 
২৪ জুলাই ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাকালে দেশে দ্বিতীয়বারের মতো উদযাপিত হলো পবিত্র ঈদুল আজহা। মহামারির কারণে এ বছর ভিন্ন এক প্রেক্ষাপটে ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়েছে। বস্তুত করোনা সংকট গত বছরের মতো এবারও আমাদের ঈদ আনন্দ অনেকটাই ম্লান করে দিয়েছে।

তারপরও সামর্থ্য অনুযায়ী পশু কুরবানি দিয়েছেন অনেকেই। মহামারিজনিত পরিস্থিতিতে এবার স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কুরবানির সংখ্যা কম হওয়াটাই স্বাভাবিক। বাস্তবে হয়েছেও তাই।

পশু কুরবানি কম হওয়ার কারণে এর চামড়ার চাহিদা ও দাম বেশি হওয়াটাই স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু বাস্তবে বরং এর উল্টোটিই ঘটতে দেখা গেছে। কুরবানির পশুর চামড়া যৎসামান্য দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে এবারও। প্রকারভেদে গরুপ্রতি চামড়া ১০০ থেকে ৪০০ টাকায় এবং ছাগল-ভেড়ার চামড়া ১০-১৫ টাকায় কেনাবেচা হয়েছে।

চামড়ার দাম অস্বাভাবিক কমে যাওয়ায় দেশের অন্যতম এ রপ্তানি পণ্যটি নিয়ে সংশ্লিষ্টরা যে চরম হতাশায় ভুগছেন, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এ বিষয়ে বিভিন্ন মহল থেকে ব্যবসায়ীদের কারসাজি ও যোগসাজশের অভিযোগ তোলা হয়েছে। উল্লেখ্য, কুরবানির পশুর চামড়া নিয়ে গত বছরও সৃষ্টি হয়েছিল এমন পরিস্থিতি। আমরা মনে করি, নির্ধারিত দামে কুরবানির পশুর চামড়া কেনাবেচার ব্যাপারে চামড়াশিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন।

চামড়ার মূল্য হ্রাসের রহস্য উদঘাটন এবং এর সঙ্গে জড়িত দুষ্টচক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারণে সম্ভাবনাময় চামড়া শিল্প খাতকে ধ্বংস হতে দেওয়া যাবে না।

পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন, জনসাধারণের যাতায়াত, ঈদ-পূর্ববর্তী ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনার পাশাপাশি দেশের আর্থসামাজিক অবস্থা এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির মধ্যেই ১৫ থেকে ২৩ জুলাই সকাল পর্যন্ত লকডাউন শিথিল করেছিল সরকার। ফলে ঈদ উপলক্ষে প্রচুর মানুষ যেমন রাজধানী ছেড়েছিল, তেমনি নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগেই তাদের একটি অংশ রাজধানীতে প্রত্যাবর্তন করেছে।

উদ্বেগজনক হলো, ঘরমুখো মানুষের মধ্যে যেমন অনেকের মুখেই মাস্ক না থাকার পাশাপাশি সামাজিক দূরত্ব বা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়টি হয়েছে উপেক্ষিত, তেমনি রাজধানী অভিমুখী মানুষের ক্ষেত্রেও একই চিত্র পরিলক্ষিত হয়েছে। এর ফলে করোনা সংক্রমণের হার বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

এ সংকটকালে দেশের মানুষ যাতে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি ও নিয়মশৃঙ্খলা মেনে ঈদ উদযাপন করে, এ ব্যাপারে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবার যথেষ্ট উদ্যোগ ছিল, এ সত্য অস্বীকার করা যাবে না। এক্ষেত্রে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন বেঁধে দেওয়া সময়সীমা ২৪ ঘণ্টা অতিক্রান্ত হওয়ার আগেই কোরবানির বর্জ্য অপসারণের যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, তা সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য।

বলার অপেক্ষা রাখে না, বর্তমানে দেশে করোনা পরিস্থিতি যে রূপ ধারণ করেছে, তাতে অনেক কিছুই শক্ত হাতে নিয়ন্ত্রণ করা দরকার। বিশেষত ঈদ-পরবর্তী সময়ে স্বাস্থ্যবিধি মানতে মানুষকে বাধ্য করা না গেলে দেশে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হবে, যা মোটেই কাম্য নয়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন