বিদেশি বিনিয়োগে ভাটা: জোয়ার সৃষ্টিতে দরকার বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ
jugantor
বিদেশি বিনিয়োগে ভাটা: জোয়ার সৃষ্টিতে দরকার বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ

  সম্পাদকীয়  

২৪ জুলাই ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ ও বিদেশি ঋণ’ শীর্ষক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, করোনার প্রভাবে বিশ্ব বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রেক্ষাপটে দেশে বিদেশি বিনিয়োগের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২০ সালে দেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ প্রবাহ কমেছে ৩১ কোটি ৪ লাখ ডলার অর্থাৎ ২ হাজার ৬৭০ কোটি টাকা। শতকরা হিসাবে এই কমে যাওয়ার পরিমাণ ১০ দশমিক ৮ শতাংশ। ২০২১ সালে দেশে বিদেশি বিনিয়োগ এসেছিল ২৪ হাজার ৭১৬ কোটি টাকা আর ২০২০ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ৪৭ কোটি টাকায়।

বস্তুত, গত কয়েক বছর ধরেই দেশি বিনিয়োগের পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগ কমছে। এর মধ্যে গত বছর কমেছে মূলত করোনার কারণে। বিশ্ব বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়ায় পুঁজির চলাচল থমকে গেছে। ফলে বিশ্বব্যাপীই কমেছে নতুন পুঁজি বিনিয়োগ। তবে অনেক দেশই করোনার প্রভাব কাটিয়ে উঠতে শুরু করেছে।

ফলে আশা করা যায়, এ বছর বিনিয়োগ বাড়বে। কিন্তু বিশ্বে করোনার প্রকোপ যদি কমেও আসে, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার সঞ্চার করা না গেলে বিদেশি বিনিয়োগ আশানুরূপ বাড়বে না। তাই বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে দেশে বিনিয়োগ পদ্ধতি সহজ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, বিদেশিদের জন্য বরাদ্দকৃত বিশেষ অঞ্চলগুলোতে যে বিনিয়োগ বাড়ার কথা, তা বাড়ছে না কেন, এর কারণও অনুসন্ধান করতে হবে।

প্রকৃতপক্ষে, সহায়ক রাজনৈতিক পরিবেশ, স্থিতিশীল সামষ্টিক অর্থনীতি এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার সহনশীলতা-এ তিনটি বিষয় বিবেচনায় নিয়েই বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করে থাকে। বস্তুত, এ তিনটি বিষয়কে হ্রাসকৃত করহার, সস্তা শ্রম কিংবা প্রাকৃতিক সম্পদের সহজলভ্যতার চেয়েও বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে বিনিয়োগকারীরা। সুতরাং এই তিন বিষয়ে উন্নতি ঘটাতে হবে অবশ্যই।

তবে বিদেশি বিনিয়োগের পাশাপাশি দেশি বিনিয়োগের বিষয়টিও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। তাই দেশি উদ্যোক্তাদের আকৃষ্ট করার বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে। দেশি ও বিদেশি উভয় ধরনের বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার কথা বিবেচনায় নিয়েই বিনিয়োগের পরিবেশ সহজ করতে হবে। দেশে অপর্যাপ্ত অবকাঠামো ও লজিস্টিক সহায়তার ঘাটতি ব্যবসা পরিচালনায় একটি বড় বাধা।

ওদিকে যানজট ও জটিল খালাস প্রক্রিয়ার কারণে উৎপাদনমুখী শিল্পের কাঁচামাল দীর্ঘ সময় ধরে আটকে থাকে। বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ পেতে দীর্ঘসূত্রতাও বিনিয়োগকারীদের নিরুৎসাহিত করে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতাকেও অনেকে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের অন্তরায় মনে করেন। এসবসহ বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আরও যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলোর নিষ্পত্তি করা গেলে দেশে যে বিনিয়োগ বাড়বে, তা বলাই বাহুল্য।

বিদেশি বিনিয়োগে ভাটা: জোয়ার সৃষ্টিতে দরকার বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ

 সম্পাদকীয় 
২৪ জুলাই ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ ও বিদেশি ঋণ’ শীর্ষক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, করোনার প্রভাবে বিশ্ব বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রেক্ষাপটে দেশে বিদেশি বিনিয়োগের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২০ সালে দেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ প্রবাহ কমেছে ৩১ কোটি ৪ লাখ ডলার অর্থাৎ ২ হাজার ৬৭০ কোটি টাকা। শতকরা হিসাবে এই কমে যাওয়ার পরিমাণ ১০ দশমিক ৮ শতাংশ। ২০২১ সালে দেশে বিদেশি বিনিয়োগ এসেছিল ২৪ হাজার ৭১৬ কোটি টাকা আর ২০২০ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ৪৭ কোটি টাকায়।

বস্তুত, গত কয়েক বছর ধরেই দেশি বিনিয়োগের পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগ কমছে। এর মধ্যে গত বছর কমেছে মূলত করোনার কারণে। বিশ্ব বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়ায় পুঁজির চলাচল থমকে গেছে। ফলে বিশ্বব্যাপীই কমেছে নতুন পুঁজি বিনিয়োগ। তবে অনেক দেশই করোনার প্রভাব কাটিয়ে উঠতে শুরু করেছে।

ফলে আশা করা যায়, এ বছর বিনিয়োগ বাড়বে। কিন্তু বিশ্বে করোনার প্রকোপ যদি কমেও আসে, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার সঞ্চার করা না গেলে বিদেশি বিনিয়োগ আশানুরূপ বাড়বে না। তাই বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে দেশে বিনিয়োগ পদ্ধতি সহজ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, বিদেশিদের জন্য বরাদ্দকৃত বিশেষ অঞ্চলগুলোতে যে বিনিয়োগ বাড়ার কথা, তা বাড়ছে না কেন, এর কারণও অনুসন্ধান করতে হবে।

প্রকৃতপক্ষে, সহায়ক রাজনৈতিক পরিবেশ, স্থিতিশীল সামষ্টিক অর্থনীতি এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার সহনশীলতা-এ তিনটি বিষয় বিবেচনায় নিয়েই বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করে থাকে। বস্তুত, এ তিনটি বিষয়কে হ্রাসকৃত করহার, সস্তা শ্রম কিংবা প্রাকৃতিক সম্পদের সহজলভ্যতার চেয়েও বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে বিনিয়োগকারীরা। সুতরাং এই তিন বিষয়ে উন্নতি ঘটাতে হবে অবশ্যই।

তবে বিদেশি বিনিয়োগের পাশাপাশি দেশি বিনিয়োগের বিষয়টিও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। তাই দেশি উদ্যোক্তাদের আকৃষ্ট করার বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে। দেশি ও বিদেশি উভয় ধরনের বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার কথা বিবেচনায় নিয়েই বিনিয়োগের পরিবেশ সহজ করতে হবে। দেশে অপর্যাপ্ত অবকাঠামো ও লজিস্টিক সহায়তার ঘাটতি ব্যবসা পরিচালনায় একটি বড় বাধা।

ওদিকে যানজট ও জটিল খালাস প্রক্রিয়ার কারণে উৎপাদনমুখী শিল্পের কাঁচামাল দীর্ঘ সময় ধরে আটকে থাকে। বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ পেতে দীর্ঘসূত্রতাও বিনিয়োগকারীদের নিরুৎসাহিত করে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতাকেও অনেকে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের অন্তরায় মনে করেন। এসবসহ বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আরও যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলোর নিষ্পত্তি করা গেলে দেশে যে বিনিয়োগ বাড়বে, তা বলাই বাহুল্য।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন