করোনার মধ্যে এসেছে ডেঙ্গি
jugantor
করোনার মধ্যে এসেছে ডেঙ্গি
দুই ক্ষেত্রেই প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম

  সম্পাদকীয়  

২৬ জুলাই ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চলতি মাসে ডেঙ্গি আক্রান্তের মোট সংখ্যাটিও উদ্বেগজনক।

ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের তাণ্ডবে দেশে করোনা পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমাদের কী করণীয়-এসব বিষয় অনেকদিন ধরেই আলোচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন মুমূর্ষু রোগীর চিকিৎসায় অবশ্যই কার্যকর আইসিইউ প্রয়োজন। অথচ দেশে কার্যকর আইসিইউর সংখ্যা অপ্রতুল। দেশে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের ভয়াবহ সংক্রমণে করোনা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এখন মুমূর্ষু রোগীর চিকিৎসার জন্য দরকার ত্রুটিমুক্ত কার্যকর আইসিইউ।

সর্বশেষ প্রাপ্ত সরকারি হিসাব অনুযায়ী সারা দেশে ১৩২১টি কোভিড আইসিইউ সমমানের শয্যা রয়েছে, যার মধ্যে ফাঁকা আছে ২৪৫টি। অথচ মাত্র এক সপ্তাহ আগে আইসিইউ শয্যার সংখ্যা দেখানো হয়েছিল ১২৫৯ এবং এ মাসের শুরুতে দেখানো হয়েছিল ১১৬৫। এত স্বল্প সময়ে এত সংখ্যক কার্যকর আইসিইউ শয্যা কীভাবে স্থাপন করা হলো, সে বিষয়ে খোদ চিকিৎসকদের মধ্যেই সন্দেহ সৃষ্টি হয়। পরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রস্তাবিত শয্যাও তালিকাভুক্ত হিসাবে দেখানো হয়েছে। সঙ্গে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ নেই এমন শয্যাকে আইসিইউর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আইসিইউর তালিকা প্রণয়নে এমন গাফিলতির বিষয়টি রহস্যজনক।

একটি শয্যাকে কখন কার্যকর আইসিইউ বলা যায়, তা স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মীদের অজানা থাকার কথা নয়। যদি কোনো কর্মী দাবি করেন, এ বিষয়ক সব তথ্য তার অজানা, তাহলে প্রশ্ন, যার যে বিষয়ে যথাযথ জ্ঞান নেই তাকে এমন গুরুত্বপূর্ণ কাজে যুক্ত করা হল কেন?

দেশে করোনা সংক্রমণ শুরুর আগে থেকেই বিশেষজ্ঞরা স্বাস্থ্য বিভাগকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছিলেন, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। করোনা সংক্রমণ শুরুর পরপরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিটি জেলা সদর হাসপাতালে আইসিইউ ইউনিট চালুর নির্দেশ দিয়েছিলেন। অথচ এখনো ৩৫টি জেলা সদর হাসপাতালে আইসিইউ তৈরি করা হয়নি। কেন প্রধানমন্ত্রীর সেই নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলো না বিষয়টি খতিয়ে দেখা দরকার। মুমূর্ষু রোগীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে জেলা পর্যায়ে কার্যকর আইসিইউ চালু করা দরকার। তবে করোনা প্রতিরোধের দিকেই মনোযোগ দিতে হবে বেশি। এবং এ জন্য দরকার যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা।

ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের ভয়াবহ সংক্রমণে দেশে করোনা পরিস্থিতি যখন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে, এমন সময় দেশে ডেঙ্গি রোগের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধির বিষয়টি মানুষকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে। জানা গেছে, ২৪ ঘণ্টায় শতাধিক ব্যক্তি এ রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। চলতি মাসে ডেঙ্গি আক্রান্তের মোট সংখ্যাটিও উদ্বেগজনক। এমনকি এই সময়ে কয়েকজনের মৃত্যুর খবরও পাওয়া গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্য আগস্টে ডেঙ্গি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। কাজেই পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায়, সেজন্য সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। আমাদের দেশে দুই দশক ধরে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গির প্রাদুর্ভাব দেখা যাচ্ছে। প্রশ্ন হল, এই দীর্ঘ সময় পরও এডিস নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি এত দুর্বল কেন? করোনা অদৃশ্য এক শক্তি, এর তুলনায় ডেঙ্গি আমাদের পরিচিত শত্রু। সবাই সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করলে ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। করোনা, ডেঙ্গি কিংবা যে কোনো রোগের প্রকোপ হঠাৎ বেড়ে গেলে সরকারিভাবে বিপুল অর্থ বরাদ্দ করাই যথেষ্ট নয়। সর্বক্ষেত্রে বরাদ্দকৃত অর্থের সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি।

করোনার মধ্যে এসেছে ডেঙ্গি

দুই ক্ষেত্রেই প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম
 সম্পাদকীয় 
২৬ জুলাই ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
চলতি মাসে ডেঙ্গি আক্রান্তের মোট সংখ্যাটিও উদ্বেগজনক।
চলতি মাসে ডেঙ্গি আক্রান্তের মোট সংখ্যাটিও উদ্বেগজনক। ফাইল ছবি

ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের তাণ্ডবে দেশে করোনা পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমাদের কী করণীয়-এসব বিষয় অনেকদিন ধরেই আলোচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন মুমূর্ষু রোগীর চিকিৎসায় অবশ্যই কার্যকর আইসিইউ প্রয়োজন। অথচ দেশে কার্যকর আইসিইউর সংখ্যা অপ্রতুল। দেশে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের ভয়াবহ সংক্রমণে করোনা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এখন মুমূর্ষু রোগীর চিকিৎসার জন্য দরকার ত্রুটিমুক্ত কার্যকর আইসিইউ।

সর্বশেষ প্রাপ্ত সরকারি হিসাব অনুযায়ী সারা দেশে ১৩২১টি কোভিড আইসিইউ সমমানের শয্যা রয়েছে, যার মধ্যে ফাঁকা আছে ২৪৫টি। অথচ মাত্র এক সপ্তাহ আগে আইসিইউ শয্যার সংখ্যা দেখানো হয়েছিল ১২৫৯ এবং এ মাসের শুরুতে দেখানো হয়েছিল ১১৬৫। এত স্বল্প সময়ে এত সংখ্যক কার্যকর আইসিইউ শয্যা কীভাবে স্থাপন করা হলো, সে বিষয়ে খোদ চিকিৎসকদের মধ্যেই সন্দেহ সৃষ্টি হয়। পরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রস্তাবিত শয্যাও তালিকাভুক্ত হিসাবে দেখানো হয়েছে। সঙ্গে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ নেই এমন শয্যাকে আইসিইউর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আইসিইউর তালিকা প্রণয়নে এমন গাফিলতির বিষয়টি রহস্যজনক।

একটি শয্যাকে কখন কার্যকর আইসিইউ বলা যায়, তা স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মীদের অজানা থাকার কথা নয়। যদি কোনো কর্মী দাবি করেন, এ বিষয়ক সব তথ্য তার অজানা, তাহলে প্রশ্ন, যার যে বিষয়ে যথাযথ জ্ঞান নেই তাকে এমন গুরুত্বপূর্ণ কাজে যুক্ত করা হল কেন?

দেশে করোনা সংক্রমণ শুরুর আগে থেকেই বিশেষজ্ঞরা স্বাস্থ্য বিভাগকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছিলেন, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। করোনা সংক্রমণ শুরুর পরপরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিটি জেলা সদর হাসপাতালে আইসিইউ ইউনিট চালুর নির্দেশ দিয়েছিলেন। অথচ এখনো ৩৫টি জেলা সদর হাসপাতালে আইসিইউ তৈরি করা হয়নি। কেন প্রধানমন্ত্রীর সেই নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলো না বিষয়টি খতিয়ে দেখা দরকার। মুমূর্ষু রোগীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে জেলা পর্যায়ে কার্যকর আইসিইউ চালু করা দরকার। তবে করোনা প্রতিরোধের দিকেই মনোযোগ দিতে হবে বেশি। এবং এ জন্য দরকার যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা।

ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের ভয়াবহ সংক্রমণে দেশে করোনা পরিস্থিতি যখন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে, এমন সময় দেশে ডেঙ্গি রোগের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধির বিষয়টি মানুষকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে। জানা গেছে, ২৪ ঘণ্টায় শতাধিক ব্যক্তি এ রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। চলতি মাসে ডেঙ্গি আক্রান্তের মোট সংখ্যাটিও উদ্বেগজনক। এমনকি এই সময়ে কয়েকজনের মৃত্যুর খবরও পাওয়া গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্য আগস্টে ডেঙ্গি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। কাজেই পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায়, সেজন্য সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। আমাদের দেশে দুই দশক ধরে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গির প্রাদুর্ভাব দেখা যাচ্ছে। প্রশ্ন হল, এই দীর্ঘ সময় পরও এডিস নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি এত দুর্বল কেন? করোনা অদৃশ্য এক শক্তি, এর তুলনায় ডেঙ্গি আমাদের পরিচিত শত্রু। সবাই সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করলে ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। করোনা, ডেঙ্গি কিংবা যে কোনো রোগের প্রকোপ হঠাৎ বেড়ে গেলে সরকারিভাবে বিপুল অর্থ বরাদ্দ করাই যথেষ্ট নয়। সর্বক্ষেত্রে বরাদ্দকৃত অর্থের সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন