প্রণোদনার শর্ত ভঙ্গ
jugantor
প্রণোদনার শর্ত ভঙ্গ
তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হোক

  সম্পাদকীয়  

২৭ জুলাই ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনতে সরকারের দেওয়া প্রণোদনা নিয়ে কোনো রকম অনিয়ম হবে না, এটাই ছিল সবার প্রত্যাশা। কিন্তু উদ্বেগের বিষয়, প্রণোদনার অর্থের অপব্যবহার হচ্ছে বলে অভিযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কতিপয় উদ্যোক্তা প্রণোদনার অর্থ নিয়ে তা শিল্পের চলতি মূলধন হিসাবে ব্যবহার না করে অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যবহার করেছেন। কয়েকজন বিধি ভঙ্গ করে আগের ঋণ পরিশোধ করেছেন। আবার কেউ কেউ গাড়ি বা জমি কিনেছেন। এছাড়া কিছু অর্থ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করারও খবর পাওয়া গেছে। এক খাতের জন্য প্রণোদনার ঋণ নিয়ে অন্য খাতে ব্যবহার করার তথ্যও পেয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

করোনায় ক্ষতিগ্রস্তদের চলতি মূলধনের জোগান দিতে সরকার ঋণনির্ভর ১০টি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে। এগুলোতে অর্থের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ২৪ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে বড় শিল্প ও সেবা খাতের চলতি মূলধনের জোগান দিতে এবং কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতে চলতি মূলধনের জোগান দিতে বড় অঙ্কের দুটি প্রণোদনা প্যাকেজও রয়েছে। প্রণোদনার ঘোষণার সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্কুলারে বলা হয়েছিল, এ ঋণ নিয়ে আগের কোনো ঋণ শোধ করা যাবে না। যে খাতের জন্য ঋণ নেওয়া হবে তা সে খাতেই ব্যবহার করতে হবে। কিন্তু এ নির্দেশনা অমান্য করে কতিপয় উদ্যোক্তা কম সুদের এ ঋণ নিয়ে আগের চড়া সুদের ঋণ পরিশোধ করেছেন, যে তথ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে এসেছে। সার্কুলারে আরও শর্ত ছিল, প্রণোদনার ঋণ কোনোক্রমেই অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যবহার করা যাবে না। এ নির্দেশনা অমান্য করে ঋণের টাকায় জমি কেনার বিষয়টি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। উল্লেখ্য, ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে জমি কেনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রণোদনার শর্ত অমান্য করে কম সুদের ঋণের টাকায় গাড়িও কিনেছেন কেউ কেউ। অথচ গাড়ি কেনার জন্য ঋণ নিলে সার্ভিস চার্জ ও নিরাপত্তা জামানতসহ উচ্চহারে সুদ দিতে হয়।

করোনার তাণ্ডব মানুষের শুভবোধ জাগ্রত করবে, সামাজিক দায়বদ্ধতার কথা বিবেচনা করে তারা একে অন্যের পাশ দাঁড়াবে-এটাই যখন সবাই প্রত্যাশা করছে, তখন কিছু মানুষ কী করে অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ে, তা আমাদের বোধগম্য নয়। প্রকৃতপক্ষে অর্থলোভই এদের চরিত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্য। নিয়ম অমান্যকারী লোভী মানুষের সংখ্যা যত নগণ্যই হোক, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।

প্রণোদনার শর্ত ভঙ্গ

তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হোক
 সম্পাদকীয় 
২৭ জুলাই ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনতে সরকারের দেওয়া প্রণোদনা নিয়ে কোনো রকম অনিয়ম হবে না, এটাই ছিল সবার প্রত্যাশা। কিন্তু উদ্বেগের বিষয়, প্রণোদনার অর্থের অপব্যবহার হচ্ছে বলে অভিযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কতিপয় উদ্যোক্তা প্রণোদনার অর্থ নিয়ে তা শিল্পের চলতি মূলধন হিসাবে ব্যবহার না করে অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যবহার করেছেন। কয়েকজন বিধি ভঙ্গ করে আগের ঋণ পরিশোধ করেছেন। আবার কেউ কেউ গাড়ি বা জমি কিনেছেন। এছাড়া কিছু অর্থ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করারও খবর পাওয়া গেছে। এক খাতের জন্য প্রণোদনার ঋণ নিয়ে অন্য খাতে ব্যবহার করার তথ্যও পেয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

করোনায় ক্ষতিগ্রস্তদের চলতি মূলধনের জোগান দিতে সরকার ঋণনির্ভর ১০টি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে। এগুলোতে অর্থের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ২৪ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে বড় শিল্প ও সেবা খাতের চলতি মূলধনের জোগান দিতে এবং কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতে চলতি মূলধনের জোগান দিতে বড় অঙ্কের দুটি প্রণোদনা প্যাকেজও রয়েছে। প্রণোদনার ঘোষণার সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্কুলারে বলা হয়েছিল, এ ঋণ নিয়ে আগের কোনো ঋণ শোধ করা যাবে না। যে খাতের জন্য ঋণ নেওয়া হবে তা সে খাতেই ব্যবহার করতে হবে। কিন্তু এ নির্দেশনা অমান্য করে কতিপয় উদ্যোক্তা কম সুদের এ ঋণ নিয়ে আগের চড়া সুদের ঋণ পরিশোধ করেছেন, যে তথ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে এসেছে। সার্কুলারে আরও শর্ত ছিল, প্রণোদনার ঋণ কোনোক্রমেই অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যবহার করা যাবে না। এ নির্দেশনা অমান্য করে ঋণের টাকায় জমি কেনার বিষয়টি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। উল্লেখ্য, ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে জমি কেনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রণোদনার শর্ত অমান্য করে কম সুদের ঋণের টাকায় গাড়িও কিনেছেন কেউ কেউ। অথচ গাড়ি কেনার জন্য ঋণ নিলে সার্ভিস চার্জ ও নিরাপত্তা জামানতসহ উচ্চহারে সুদ দিতে হয়।

করোনার তাণ্ডব মানুষের শুভবোধ জাগ্রত করবে, সামাজিক দায়বদ্ধতার কথা বিবেচনা করে তারা একে অন্যের পাশ দাঁড়াবে-এটাই যখন সবাই প্রত্যাশা করছে, তখন কিছু মানুষ কী করে অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ে, তা আমাদের বোধগম্য নয়। প্রকৃতপক্ষে অর্থলোভই এদের চরিত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্য। নিয়ম অমান্যকারী লোভী মানুষের সংখ্যা যত নগণ্যই হোক, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন