ফেসবুক আইডি নিরাপদ রাখুন
jugantor
ফেসবুক আইডি নিরাপদ রাখুন

  ড. মো. জুলফিকার মাহমুদ  

২৭ জুলাই ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কারও ফেসবুক আইডি হ্যাক্ড হলে তাকে নানা অনাকাঙ্ক্ষিত ঝামেলা তো বটেই, মারাত্মক বিপদেও পড়তে হতে পারে। নিচের বিষয়গুলোর ব্যাপারে সতর্ক থাকলে এ ধরনের অযাচিত ঝামেলা এড়িয়ে চলা যায়।

১. ফেসবুক আইডির সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত শক্তিশালী ও ইউনিক পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন। পাসওয়ার্ড এমন হবে যা সাধারণভাবে কেউ ধারণা করতে পারবে না। পাসওয়ার্ড বড় ও কঠিন হতে হবে। হ্যাকাররা ‘ডিকশনারি অ্যাটাক’ নামে একটি কৌশল অবলম্বন করে, যেখানে ইংরেজি বর্ণমালা দিয়ে তৈরি করা যায় এমন সব শব্দই ব্যবহার করা হয়। তাই পাসওয়ার্ডে সবসময় ছোটবড় অক্ষর, সংখ্যা, বিশেষ চিহ্ন ব্যবহার করা ভালো। ভিন্ন ভিন্ন সাইটের জন্য ভিন্ন ভিন্ন পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা ভালো। ২. অবশ্যই টু-ফ্যাক্টর ভেরিফিকেশন চালু রাখতে হবে। এক্ষেত্রে কেউ যদি পাসওয়ার্ড পেয়েও যায়, তারপরও সহজে লগইন করতে পারবে না। লগইন করার সময় ফোনে একটি কোড আসবে। এই কোড না থাকার কারণে অন্য কেউ লগইন করতে পারবে না। সিকিউরিটি অ্যান্ড লগইন সেকশনে গিয়ে মোবাইল নম্বরটি যোগ করা যেতে পারে। এরপর থেকে প্রতিবার ফেসবুকে লগইনের সময় বিনামূল্যে একটি এসএমএস আসবে এবং সেটি প্রবেশ করিয়ে লগইন করতে হবে। ৩. যদি কোনো কারণে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়, তাহলে একজন বিশ্বস্ত বন্ধুর সহায়তায় আইডি পুনরুদ্ধার করা যায়। সিকিউরিটি অ্যান্ড লগইন পেজে তিন থেকে পাঁচজন বন্ধুকে ট্রাস্টেড কন্টাক্ট হিসাবে সেট করে রাখা ভালো। অ্যাকাউন্ট হ্যাক হলে তারা ইউআরএলের মাধ্যমে একটি রিকভারি কোড পাঠাতে পারবে। ৪. অপরিচিত বা অপ্রয়োজনীয় লিংকে কখনো ক্লিক করা উচিত নয়। বিশেষ করে অচেনা কারও কাছ থেকে আসা লিংকে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকুন। একান্ত কাছের বন্ধু অথবা ফেসবুক বন্ধুর কাছ থেকে এমন কোনো লিংক, মেসেজ অথবা পোস্ট পেলে, যা তার স্বাভাবিক কার্যক্রমের সঙ্গে মেলে না, তা এড়িয়ে যাওয়া উচিত। ৫. মনে রাখবেন ফেসবুক কখনো মেইলে পাসওয়ার্ড চাইবে না। এ ধরনের মেইল পেলে তা ওপেন করা থেকে বিরত থাকুন। ৬. এমন কাউকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করবেন না যে অচেনা। হ্যাকাররা মিথ্যা পরিচয়ে বন্ধুত্ব করতে পারে। আর পরে বিব্রতকর পোস্টে ট্যাগ করতে পারে অথবা টাইমলাইনে স্প্যাম ছড়াতে পারে অথবা হ্যাকিংয়ের মেসেজ পাঠাতে পারে। ৭. স্ক্যামাররা ভুয়া ওয়েবসাইট তৈরি করে

(যেমন www.facebooc.com) সেখানে ফেসবুকের লগইন ইমেইল/ফোন নম্বর বা পাসওয়ার্ড চাইতে পারে। মনে রাখবেন www.

facebook.com ছাড়া অন্য কোন ইউআরএল ফেসবুক ব্যবহার করে না। পাবলিক প্লেসে বা সাইবার ক্যাফে বা অন্য কারও কম্পিউটারে ফেসবুক ব্যবহারের সময় কখনো ‘কিপ মি লগড ইন’ বা ‘সেভ পাসওয়ার্ড’-এ ক্লিক করবেন না। যদি কখনো লগইন করার পর লগআউট করতে ভুলে যান, তাহলে অন্য কোনো কম্পিউটার বা মোবাইলে পুনরায় লগইন করে সিকিউরিটি অ্যান্ড লগইন সেটিংসয়ে সর্বশেষ লগইন হিস্টরি থকে ডিভাইস শনাক্ত করে লগআউট করে দিন। ৮. ফেসবুকের প্রাইভেসি নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। privacy মেনু থেকে পছন্দমতো সেটিংস করে নিন। বিশেষ করে, How People Find and Contact You ট্যাব থেকে Email address,

phone number অপশনগুলোকে Friends অথবা Only Me করে রাখুন। এছাড়া ‘সিকিউর ব্রাউজিং’ অপশন, ‘লগইন নোটিফিকেশনস’ অপশন চালু আর Who can see your future posts অপশনে Friends করে রাখলে অনেকটাই নিরাপদ থাকতে পারবেন।

ড. মো. জুলফিকার মাহমুদ : সহযোগী অধ্যাপক, কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা

ফেসবুক আইডি নিরাপদ রাখুন

 ড. মো. জুলফিকার মাহমুদ 
২৭ জুলাই ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কারও ফেসবুক আইডি হ্যাক্ড হলে তাকে নানা অনাকাঙ্ক্ষিত ঝামেলা তো বটেই, মারাত্মক বিপদেও পড়তে হতে পারে। নিচের বিষয়গুলোর ব্যাপারে সতর্ক থাকলে এ ধরনের অযাচিত ঝামেলা এড়িয়ে চলা যায়।

১. ফেসবুক আইডির সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত শক্তিশালী ও ইউনিক পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন। পাসওয়ার্ড এমন হবে যা সাধারণভাবে কেউ ধারণা করতে পারবে না। পাসওয়ার্ড বড় ও কঠিন হতে হবে। হ্যাকাররা ‘ডিকশনারি অ্যাটাক’ নামে একটি কৌশল অবলম্বন করে, যেখানে ইংরেজি বর্ণমালা দিয়ে তৈরি করা যায় এমন সব শব্দই ব্যবহার করা হয়। তাই পাসওয়ার্ডে সবসময় ছোটবড় অক্ষর, সংখ্যা, বিশেষ চিহ্ন ব্যবহার করা ভালো। ভিন্ন ভিন্ন সাইটের জন্য ভিন্ন ভিন্ন পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা ভালো। ২. অবশ্যই টু-ফ্যাক্টর ভেরিফিকেশন চালু রাখতে হবে। এক্ষেত্রে কেউ যদি পাসওয়ার্ড পেয়েও যায়, তারপরও সহজে লগইন করতে পারবে না। লগইন করার সময় ফোনে একটি কোড আসবে। এই কোড না থাকার কারণে অন্য কেউ লগইন করতে পারবে না। সিকিউরিটি অ্যান্ড লগইন সেকশনে গিয়ে মোবাইল নম্বরটি যোগ করা যেতে পারে। এরপর থেকে প্রতিবার ফেসবুকে লগইনের সময় বিনামূল্যে একটি এসএমএস আসবে এবং সেটি প্রবেশ করিয়ে লগইন করতে হবে। ৩. যদি কোনো কারণে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়, তাহলে একজন বিশ্বস্ত বন্ধুর সহায়তায় আইডি পুনরুদ্ধার করা যায়। সিকিউরিটি অ্যান্ড লগইন পেজে তিন থেকে পাঁচজন বন্ধুকে ট্রাস্টেড কন্টাক্ট হিসাবে সেট করে রাখা ভালো। অ্যাকাউন্ট হ্যাক হলে তারা ইউআরএলের মাধ্যমে একটি রিকভারি কোড পাঠাতে পারবে। ৪. অপরিচিত বা অপ্রয়োজনীয় লিংকে কখনো ক্লিক করা উচিত নয়। বিশেষ করে অচেনা কারও কাছ থেকে আসা লিংকে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকুন। একান্ত কাছের বন্ধু অথবা ফেসবুক বন্ধুর কাছ থেকে এমন কোনো লিংক, মেসেজ অথবা পোস্ট পেলে, যা তার স্বাভাবিক কার্যক্রমের সঙ্গে মেলে না, তা এড়িয়ে যাওয়া উচিত। ৫. মনে রাখবেন ফেসবুক কখনো মেইলে পাসওয়ার্ড চাইবে না। এ ধরনের মেইল পেলে তা ওপেন করা থেকে বিরত থাকুন। ৬. এমন কাউকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করবেন না যে অচেনা। হ্যাকাররা মিথ্যা পরিচয়ে বন্ধুত্ব করতে পারে। আর পরে বিব্রতকর পোস্টে ট্যাগ করতে পারে অথবা টাইমলাইনে স্প্যাম ছড়াতে পারে অথবা হ্যাকিংয়ের মেসেজ পাঠাতে পারে। ৭. স্ক্যামাররা ভুয়া ওয়েবসাইট তৈরি করে

(যেমন www.facebooc.com) সেখানে ফেসবুকের লগইন ইমেইল/ফোন নম্বর বা পাসওয়ার্ড চাইতে পারে। মনে রাখবেন www.

facebook.com ছাড়া অন্য কোন ইউআরএল ফেসবুক ব্যবহার করে না। পাবলিক প্লেসে বা সাইবার ক্যাফে বা অন্য কারও কম্পিউটারে ফেসবুক ব্যবহারের সময় কখনো ‘কিপ মি লগড ইন’ বা ‘সেভ পাসওয়ার্ড’-এ ক্লিক করবেন না। যদি কখনো লগইন করার পর লগআউট করতে ভুলে যান, তাহলে অন্য কোনো কম্পিউটার বা মোবাইলে পুনরায় লগইন করে সিকিউরিটি অ্যান্ড লগইন সেটিংসয়ে সর্বশেষ লগইন হিস্টরি থকে ডিভাইস শনাক্ত করে লগআউট করে দিন। ৮. ফেসবুকের প্রাইভেসি নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। privacy মেনু থেকে পছন্দমতো সেটিংস করে নিন। বিশেষ করে, How People Find and Contact You ট্যাব থেকে Email address,

phone number অপশনগুলোকে Friends অথবা Only Me করে রাখুন। এছাড়া ‘সিকিউর ব্রাউজিং’ অপশন, ‘লগইন নোটিফিকেশনস’ অপশন চালু আর Who can see your future posts অপশনে Friends করে রাখলে অনেকটাই নিরাপদ থাকতে পারবেন।

ড. মো. জুলফিকার মাহমুদ : সহযোগী অধ্যাপক, কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন