গণমুখী আমলাতন্ত্রের জনআকাঙ্ক্ষা
jugantor
গণমুখী আমলাতন্ত্রের জনআকাঙ্ক্ষা
প্রধানমন্ত্রীর কথাগুলো পাথেয় হোক

  সম্পাদকীয়  

২৯ জুলাই ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মঙ্গলবার ‘জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবস’ উদযাপন এবং ‘জনপ্রশাসন পদক-২০২০ ও ২০২১’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যাপারে বেশ কিছু কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী জনগণের শাসক নন, তারা জনগণের সেবক হিসাবে কাজ করবেন। তিনি বলেন, ভালো কাজের জন্য তারা পুরস্কৃত হবেন যেমন, তেমনি মন্দ কাজের জন্য শাস্তিও পেতে হবে তাদের।

শুধু শেখ হাসিনা নন, তার পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে প্রায় একইরকম কথা বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘সরকারি কর্মচারীদের আমি অনুরোধ করি, যাদের অর্থে আমাদের সংসার চলে, তাদের সেবা করুন, যাদের অর্থে আজ আমরা চলছি, তাদের যাতে কষ্ট না হয়, তার দিকে খেয়াল রাখুন। যারা অন্যায় করবে, তাদের অবশ্যই কঠোর হস্তে দমন করবেন। কিন্তু সাবধান, একজন নিরপরাধ লোকের ওপরও যেন অত্যাচার না হয়। আপনারা মানুষের সেবা করুন। মানুষের সেবার মতো শান্তি দুনিয়ায় আর কিছুতে হয় না।’

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পিতা বঙ্গবন্ধুর কথাগুলো যে অতি গুরুত্বপূর্ণ, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বস্তুত, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসাবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রধান দায়িত্বই হলো জনগণের সেবা করা। সেবার মাধ্যমে জনগণ যেন উন্নততর জীবনযাপন করতে পারে, সেদিকে লক্ষ রাখাই তাদের প্রধান দায়িত্ব ও কর্তব্য।

কিন্তু পরিতাপের বিষয়, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনেকেই তাদের এ দায়িত্ব ভুলে গিয়ে আমলাতান্ত্রিক উন্নাসিকতা প্রদর্শন করে থাকেন। কেউ কেউ জড়িয়ে পড়েন দুর্নীতিতেও। প্রধানমন্ত্রী এই শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরই হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেছেন, তাদের শাস্তি পেতে হবে। অবশ্য এটা অস্বীকার করার উপায় নেই, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি বড় অংশ গণমুখী চরিত্রের অধিকারী। তারা স্বপ্রণোদিত হয়ে কখনো কখনো তাদের নির্ধারিত দায়িত্বের ঊর্ধ্বে উঠে জনকল্যাণে আত্মনিয়োগ করেন। জনগণের দুর্দশা লাঘবে নিজেদের নিয়োজিত রাখেন।

এই শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্ভাবনী শক্তির পুরস্কার হিসাবে তাদের পদক দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আমরা মনে করি, পদকপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অনুসরণ করে প্রজাতন্ত্রের সব কর্মচারীই আগামী দিনগুলোয় তাদের কর্তব্য নির্ধারণ করবেন। মানুষকে কীভাবে সেবা দেওয়া যায়, তাদের জীবনমান কীভাবে উন্নত করা যায়, সে ব্যাপারে উৎসাহিতবোধ করবেন।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের দুর্নীতির কথা আমরা জানি। এই দুর্নীতি রোধকল্পে তাদের আচরণবিধি সংশোধন করা হয়েছে। এই সংশোধনী অনুযায়ী, প্রতি পাঁচ বছর অন্তর তাদের সম্পদ বিবরণী জমা দিতে হবে। এই বিবরণী যাচাই করে দেখা হবে এবং কেউ এ নির্দেশনা অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আমরা আশা করব, প্রত্যেক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এই বিধান মেনে তাদের সম্পদ বিবরণী জমা দেবেন। একইসঙ্গে এই বিবরণী যাচাইয়ের পর যদি আয়ের সঙ্গে সম্পদের অসামঞ্জস্য ধরা পড়ে, তাহলে অবশ্যই সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। আমাদের সর্বশেষ কথা হলো, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শুধু দুর্নীতিমুক্ত থাকলেই চলবে না, আমলাতান্ত্রিক সব ধরনের অসৌজন্য ও ঔদ্ধত্য পরিহার করে তাদের নামতে হবে জনগণের কাতারে এবং সেভাবেই উৎসর্গ করতে হবে তাদের জীবন।

গণমুখী আমলাতন্ত্রের জনআকাঙ্ক্ষা

প্রধানমন্ত্রীর কথাগুলো পাথেয় হোক
 সম্পাদকীয় 
২৯ জুলাই ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মঙ্গলবার ‘জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবস’ উদযাপন এবং ‘জনপ্রশাসন পদক-২০২০ ও ২০২১’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যাপারে বেশ কিছু কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী জনগণের শাসক নন, তারা জনগণের সেবক হিসাবে কাজ করবেন। তিনি বলেন, ভালো কাজের জন্য তারা পুরস্কৃত হবেন যেমন, তেমনি মন্দ কাজের জন্য শাস্তিও পেতে হবে তাদের।

শুধু শেখ হাসিনা নন, তার পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে প্রায় একইরকম কথা বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘সরকারি কর্মচারীদের আমি অনুরোধ করি, যাদের অর্থে আমাদের সংসার চলে, তাদের সেবা করুন, যাদের অর্থে আজ আমরা চলছি, তাদের যাতে কষ্ট না হয়, তার দিকে খেয়াল রাখুন। যারা অন্যায় করবে, তাদের অবশ্যই কঠোর হস্তে দমন করবেন। কিন্তু সাবধান, একজন নিরপরাধ লোকের ওপরও যেন অত্যাচার না হয়। আপনারা মানুষের সেবা করুন। মানুষের সেবার মতো শান্তি দুনিয়ায় আর কিছুতে হয় না।’

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পিতা বঙ্গবন্ধুর কথাগুলো যে অতি গুরুত্বপূর্ণ, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বস্তুত, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসাবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রধান দায়িত্বই হলো জনগণের সেবা করা। সেবার মাধ্যমে জনগণ যেন উন্নততর জীবনযাপন করতে পারে, সেদিকে লক্ষ রাখাই তাদের প্রধান দায়িত্ব ও কর্তব্য।

কিন্তু পরিতাপের বিষয়, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনেকেই তাদের এ দায়িত্ব ভুলে গিয়ে আমলাতান্ত্রিক উন্নাসিকতা প্রদর্শন করে থাকেন। কেউ কেউ জড়িয়ে পড়েন দুর্নীতিতেও। প্রধানমন্ত্রী এই শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরই হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেছেন, তাদের শাস্তি পেতে হবে। অবশ্য এটা অস্বীকার করার উপায় নেই, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি বড় অংশ গণমুখী চরিত্রের অধিকারী। তারা স্বপ্রণোদিত হয়ে কখনো কখনো তাদের নির্ধারিত দায়িত্বের ঊর্ধ্বে উঠে জনকল্যাণে আত্মনিয়োগ করেন। জনগণের দুর্দশা লাঘবে নিজেদের নিয়োজিত রাখেন।

এই শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্ভাবনী শক্তির পুরস্কার হিসাবে তাদের পদক দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আমরা মনে করি, পদকপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অনুসরণ করে প্রজাতন্ত্রের সব কর্মচারীই আগামী দিনগুলোয় তাদের কর্তব্য নির্ধারণ করবেন। মানুষকে কীভাবে সেবা দেওয়া যায়, তাদের জীবনমান কীভাবে উন্নত করা যায়, সে ব্যাপারে উৎসাহিতবোধ করবেন।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের দুর্নীতির কথা আমরা জানি। এই দুর্নীতি রোধকল্পে তাদের আচরণবিধি সংশোধন করা হয়েছে। এই সংশোধনী অনুযায়ী, প্রতি পাঁচ বছর অন্তর তাদের সম্পদ বিবরণী জমা দিতে হবে। এই বিবরণী যাচাই করে দেখা হবে এবং কেউ এ নির্দেশনা অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আমরা আশা করব, প্রত্যেক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এই বিধান মেনে তাদের সম্পদ বিবরণী জমা দেবেন। একইসঙ্গে এই বিবরণী যাচাইয়ের পর যদি আয়ের সঙ্গে সম্পদের অসামঞ্জস্য ধরা পড়ে, তাহলে অবশ্যই সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। আমাদের সর্বশেষ কথা হলো, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শুধু দুর্নীতিমুক্ত থাকলেই চলবে না, আমলাতান্ত্রিক সব ধরনের অসৌজন্য ও ঔদ্ধত্য পরিহার করে তাদের নামতে হবে জনগণের কাতারে এবং সেভাবেই উৎসর্গ করতে হবে তাদের জীবন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন