করোনায় ক্যানসার রোগীর চিকিৎসা
jugantor
করোনায় ক্যানসার রোগীর চিকিৎসা

  ডা. আমেনা-আল-নিশান  

৩১ জুলাই ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্বব্যাপী এক আতংকের রোগ ক্যানসার। দেশে বর্তমানে ১৩ থেকে ১৫ লাখ ক্যানসার রোগী রয়েছেন। প্রতি বছর প্রায় দুই লাখ করে নতুন ক্যানসার রোগী শনাক্ত হচ্ছেন। ক্যানসার আক্রান্ত রোগীদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় করোনায় মৃত্যুঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।

এ জন্য করোনাকালে ক্যানসার রোগীদের প্রতি বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে। প্রথমত, ক্যানসার রোগীদের দ্রুত টিকা দিতে হবে। এখন পর্যন্ত কোনো বড় গবেষণা সংস্থা ক্যানসার রোগীর করোনার টিকা নেওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা দেয়নি, বরং উৎসাহিত করেছে।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অনকোলজি সোসাইটির দেওয়া নির্দেশিকা মতে, ব্রেস্ট ক্যানসার, ফুসফুস ক্যানসার, কিডনি ক্যানসার, লিভার ক্যানসার, প্যানক্রিয়াস ক্যানসারসহ সব ধরনের ক্যানসারে আক্রান্ত রোগী তাদের চিকিৎসার যে কোনো পর্যায়েই টিকা নিতে পারবেন।

তবে এ ক্ষেত্রে কিছু ব্যাপারে খেয়াল রাখতে হবে। যেমন করোনার টিকা দেওয়ার পর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসাবে কারও কারও লিম্ফ নোড (লসিকা গ্রন্থি) ফুলে যেতে পারে। আবার কিছু ক্যানসার, যেমন ব্রেস্ট ক্যানসার মেটাস্ট্যাসিস হলে (ছড়িয়ে পড়লে) বগলের লিম্ফ নোড ফুলে যায়।

এ ক্ষেত্রে টিকা নেওয়ার আগেই যদি ম্যামোগ্রাম বা কোনো ইমেজিং টেস্ট (CT, MRI) শিডিউল করা থাকে, তাহলে ডাক্তারকে জানিয়ে করতে হবে। ব্রেস্ট ক্যানসার থাকলে বা ব্রেস্ট ক্যানসারের জন্য আগে সার্জারি করা থাকলে যে পাশে ক্যানসার তার বিপরীত পাশের হাতে টিকা নেওয়া যেতে পারে।

যাদের বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট হয়েছে বা সেলুলার থেরাপি চলছে, তারা প্রতিস্থাপন বা সেলুলার থেরাপির ছয় মাস পর টিকা নিতে পারবেন। ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে যাদের কেমোথেরাপি চলছে, তাদের রক্তে শ্বেত কণিকার পরিমাণ ঠিক থাকলে ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে টিকা নিতে পারবেন। ক্যানসার সার্জারি করা হলে এর কিছুদিন পরই ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ সাপেক্ষে টিকা নিতে পারবেন।

শিশু রোগীদের ক্ষেত্রে ক্যানসার সন্দেহ করা হলে একইসঙ্গে করোনা ও ক্যানসার ডায়াগনসিসের জন্য প্রয়োজনীয় টেস্ট করাতে হবে। যদি শিশুটি করোনা আক্রান্ত হয় তবে রেটিনোব্লাস্টোমা, নেফ্রোব্লাস্টোমা, লো স্টেজ হজকিন লিম্ফোমার জন্য ক্ষেত্রবিশেষে ক্যানসারের চিকিৎসা সাময়িক বন্ধ রেখে করোনা সেরে ওঠা পর্যন্ত অপেক্ষা করার নির্দেশনা রয়েছে।

ঘরে কোনো ক্যানসারের রোগী থাকলে অবশ্যই তাকে বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হতে দেওয়া যাবে না। সব সামাজিক অনুষ্ঠানে যাওয়া পরিহার করতে হবে। বাইরে বের হতে হলে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। বারবার ২০ সেকেন্ড ধরে সাবান পানি দিয়ে অথবা হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার করতে হবে। পরিবারের যেসব সদস্য নিয়মিত বাইরে বের হন, তারা দূরত্ব বজায় রাখবেন।

করোনার উপসর্গ দেখা দিলে অনতিবিলম্বে করোনা টেস্ট করাতে হবে। অধিকাংশ ক্যানসার রোগীর খাদ্যে অরুচি দেখা দেয়, সেক্ষেত্রে ইমিউনিটি বুস্টের জন্য ডাক্তারের পরামর্শক্রমে ভিটামিন ও মিনারেল সাপ্লিমেন্টস নেওয়া যেতে পারে।

ক্যানসার আক্রান্ত রোগীরা সাধারণত মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকেন। তাই তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকেও খেয়াল রাখতে হবে। মেডিটেশন, রিলাক্সিং ব্রিদিং এক্সারসাইজ, হাসিখুশি থাকার মাধ্যমে মানসিক দুশ্চিন্তামুক্ত থাকার চেষ্টা করতে হবে। এই করোনা মহামারি ও লকডাউনে অনেক ক্যানসার রোগীরই ডায়াগনসিস ও চিকিৎসা করাতে বিলম্ব হচ্ছে, ভোগান্তি বাড়ছে। এক্ষেত্রে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

ডা. আমেনা-আল-নিশান : চিকিৎসক

করোনায় ক্যানসার রোগীর চিকিৎসা

 ডা. আমেনা-আল-নিশান 
৩১ জুলাই ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্বব্যাপী এক আতংকের রোগ ক্যানসার। দেশে বর্তমানে ১৩ থেকে ১৫ লাখ ক্যানসার রোগী রয়েছেন। প্রতি বছর প্রায় দুই লাখ করে নতুন ক্যানসার রোগী শনাক্ত হচ্ছেন। ক্যানসার আক্রান্ত রোগীদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় করোনায় মৃত্যুঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।

এ জন্য করোনাকালে ক্যানসার রোগীদের প্রতি বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে। প্রথমত, ক্যানসার রোগীদের দ্রুত টিকা দিতে হবে। এখন পর্যন্ত কোনো বড় গবেষণা সংস্থা ক্যানসার রোগীর করোনার টিকা নেওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা দেয়নি, বরং উৎসাহিত করেছে।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অনকোলজি সোসাইটির দেওয়া নির্দেশিকা মতে, ব্রেস্ট ক্যানসার, ফুসফুস ক্যানসার, কিডনি ক্যানসার, লিভার ক্যানসার, প্যানক্রিয়াস ক্যানসারসহ সব ধরনের ক্যানসারে আক্রান্ত রোগী তাদের চিকিৎসার যে কোনো পর্যায়েই টিকা নিতে পারবেন।

তবে এ ক্ষেত্রে কিছু ব্যাপারে খেয়াল রাখতে হবে। যেমন করোনার টিকা দেওয়ার পর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসাবে কারও কারও লিম্ফ নোড (লসিকা গ্রন্থি) ফুলে যেতে পারে। আবার কিছু ক্যানসার, যেমন ব্রেস্ট ক্যানসার মেটাস্ট্যাসিস হলে (ছড়িয়ে পড়লে) বগলের লিম্ফ নোড ফুলে যায়।

এ ক্ষেত্রে টিকা নেওয়ার আগেই যদি ম্যামোগ্রাম বা কোনো ইমেজিং টেস্ট (CT, MRI) শিডিউল করা থাকে, তাহলে ডাক্তারকে জানিয়ে করতে হবে। ব্রেস্ট ক্যানসার থাকলে বা ব্রেস্ট ক্যানসারের জন্য আগে সার্জারি করা থাকলে যে পাশে ক্যানসার তার বিপরীত পাশের হাতে টিকা নেওয়া যেতে পারে।

যাদের বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট হয়েছে বা সেলুলার থেরাপি চলছে, তারা প্রতিস্থাপন বা সেলুলার থেরাপির ছয় মাস পর টিকা নিতে পারবেন। ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে যাদের কেমোথেরাপি চলছে, তাদের রক্তে শ্বেত কণিকার পরিমাণ ঠিক থাকলে ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে টিকা নিতে পারবেন। ক্যানসার সার্জারি করা হলে এর কিছুদিন পরই ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ সাপেক্ষে টিকা নিতে পারবেন।

শিশু রোগীদের ক্ষেত্রে ক্যানসার সন্দেহ করা হলে একইসঙ্গে করোনা ও ক্যানসার ডায়াগনসিসের জন্য প্রয়োজনীয় টেস্ট করাতে হবে। যদি শিশুটি করোনা আক্রান্ত হয় তবে রেটিনোব্লাস্টোমা, নেফ্রোব্লাস্টোমা, লো স্টেজ হজকিন লিম্ফোমার জন্য ক্ষেত্রবিশেষে ক্যানসারের চিকিৎসা সাময়িক বন্ধ রেখে করোনা সেরে ওঠা পর্যন্ত অপেক্ষা করার নির্দেশনা রয়েছে।

ঘরে কোনো ক্যানসারের রোগী থাকলে অবশ্যই তাকে বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হতে দেওয়া যাবে না। সব সামাজিক অনুষ্ঠানে যাওয়া পরিহার করতে হবে। বাইরে বের হতে হলে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। বারবার ২০ সেকেন্ড ধরে সাবান পানি দিয়ে অথবা হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার করতে হবে। পরিবারের যেসব সদস্য নিয়মিত বাইরে বের হন, তারা দূরত্ব বজায় রাখবেন।

করোনার উপসর্গ দেখা দিলে অনতিবিলম্বে করোনা টেস্ট করাতে হবে। অধিকাংশ ক্যানসার রোগীর খাদ্যে অরুচি দেখা দেয়, সেক্ষেত্রে ইমিউনিটি বুস্টের জন্য ডাক্তারের পরামর্শক্রমে ভিটামিন ও মিনারেল সাপ্লিমেন্টস নেওয়া যেতে পারে।

ক্যানসার আক্রান্ত রোগীরা সাধারণত মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকেন। তাই তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকেও খেয়াল রাখতে হবে। মেডিটেশন, রিলাক্সিং ব্রিদিং এক্সারসাইজ, হাসিখুশি থাকার মাধ্যমে মানসিক দুশ্চিন্তামুক্ত থাকার চেষ্টা করতে হবে। এই করোনা মহামারি ও লকডাউনে অনেক ক্যানসার রোগীরই ডায়াগনসিস ও চিকিৎসা করাতে বিলম্ব হচ্ছে, ভোগান্তি বাড়ছে। এক্ষেত্রে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

ডা. আমেনা-আল-নিশান : চিকিৎসক

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১