টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ জরুরি

  এসএম ফরিদুল আলম ০৪ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মতামত

১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল উপকূলে আঘাত হেনেছিল প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস, লাশের পর লাশ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল চারদিকে। বিস্তীর্ণ অঞ্চল পরিণত হয়েছিল ধ্বংসস্তূপে। এ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের আঘাতে বিলীন হয়ে গিয়েছিল চট্টগ্রাম-কক্সবাজারসহ বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকার প্রায় ২৫০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ।

এখন ঘূর্ণিঝড় মৌসুম। আবহাওয়া অধিদফতরের পূর্বাভাসে এপ্রিল-মে মাসে একাধিক নিম্নচাপের আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এখনও সম্পূর্ণ অরক্ষিত চট্টগ্রাম, কক্সবাজার উপকূল। বন্দরনগরীর পতেঙ্গা, চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী, আনোয়ারা, সীতাকুণ্ড, মীরসরাই, সন্দ্বীপ, কক্সবাজারের পেকুয়া, কুতুবদিয়া, মহেশখালীসহ উপকূলীয় এলাকার মানুষ এখনও রয়েছে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের আতঙ্কে। এখনও সেখানে নির্মিত হয়নি স্থায়ী বেড়িবাঁধ।

লক্ষ করা গেছে, ঘোর বর্ষাকালে জোয়ারের পানি ঠেকানোর নামে রিং বাঁধ নির্মাণ, মেরামত, সংস্কার ইত্যাদি নানা নামে প্রতি বছর নেয়া হয় বিভিন্ন প্রকল্প। কিন্তু এসব প্রকল্পে ঘটে সরকারি অর্থ নয়ছয়ের ঘটনা।

বর্ষা এলে ভেঙে যায় বাঁধ। আবারও নতুন নতুন প্রকল্পের নামে দেয়া হয় নতুন বরাদ্দ। এভাবে বছরের পর বছর উপকূলীয় বাঁধ সংস্কারের নামে চলে আসছে সরকারি অর্থের অপচয়। জাতীয় রাজস্বের ৮০ ভাগ অর্থ জোগানদানকারী দেশের অর্থনীতিতে হৃদপিণ্ড হিসেবে কাজ করলেও এবং বিশ্বের ৭৬তম বড় বন্দর হিসেবে খ্যাতি লাভ করলেও বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম শহররক্ষা বাঁধ হিসেবে পরিচিত বন্দর নগরীর পতেঙ্গা বেড়িবাঁধ এখনও পর্যন্ত টেকসইভাবে সংস্কার না হওয়া দুঃখজনক। এখনও বাঁধের বিভিন্ন অংশ রয়েছে ভাঙা অবস্থায়। ১৯৯১ সালের জলোচ্ছ্বাস ও ঘূর্ণিঝড়ে এ বাঁধটি ভেঙে নগরীর বিভিন্ন এলাকা ও শিল্পকারখানা স্থাপনার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। অনুরূপভাবে বাঁশখালী উপকূলীয় এলাকার বিধ্বস্ত বেড়িবাঁধ বর্ষার আগে সংস্কারের দাবি জানিয়ে এলেও অদ্যাবধি কোনো ইতিবাচক খবর আসেনি বলে এলাকাবাসী খুবই উদ্বিগ্ন। একটি টেকসই স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি হলেও তা আজও পূরণ হয়নি। ফলে বাঁশখালী উপকূলবাসীর মতো ঘূর্ণিঝড়ের সংকেত শুনলেই নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটতে হয় উপকূলের মানুষদের। একই অবস্থা চট্টগ্রাম মহানগরীর আশপাশের উপজেলার বিভিন্ন এলাকাতেও। ঘূর্ণিঝড়ে বাঁশখালী উপকূলীয় ১৩ ইউনিয়নের মধ্যে ৭ ইউনিয়নের মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

গত ২৮ বছরের নদী ভাঙনে উপকূলীয় এলাকার প্রায় ৫০ হাজার পরিবারের বসতভিটা শংখ নদী ও বঙ্গোপসাগরের গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। গত ৫৮ বছর যাবত অব্যাহত ভাঙনের ফলে নদীর তীরবর্তী এলাকার মানুষের বহু ঘরবাড়ি, হাটবাজার, গাছপালা, ফসলি জমি, মসজিদ, মন্দির, সাইক্লোন শেল্টার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। অনেকে ভয়ে দিন কাটাচ্ছে কখন তাদের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। শংখ নদী ও বঙ্গোপসাগরের ভয়াবহ ভাঙনে একদিকে বিলীন হচ্ছে উপকূলীয় এলাকার গ্রামগুলো, অন্যদিকে ছোট হয়ে আসছে বাঁশখালীর মানচিত্র। বাঁশখালী এলাকার ৮-৯টি ইউনিয়ন এলাকার বেড়িবাঁধ ভেঙে যাচ্ছে অনবরত। অব্যাহত ভাঙন জরুরি ভিত্তিতে রোধ করা না গেলে এবারের বর্ষায় এলাকাগুলো বিলীন হয়ে যেতে পারে।

এসএম ফরিদুল আলম : সদস্য, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ, উপকূলীয় উন্নয়ন ফাউন্ডেশন, চট্টগ্রাম

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter