ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ

অপরাধীদের গ্রেফতার ও শাস্তি নিশ্চিত করুন

  যুগান্তর ডেস্ক    ০৫ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ

খুলনার দৌলতপুর স্টেশনের কাছাকাছি একটি কমিউটার ট্রেনে দায়িত্ব পালনকালে নিক্ষেপিত পাথরের আঘাতে জ্ঞান হারানো টিআই শিকদার বায়েজিদ বর্তমানে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ‘লাইফ সাপোর্টে’ রয়েছেন।

স্ত্রী ও ৭ বছরের শিশু সন্তান ছাড়াও বৃদ্ধ মা-বাবা শিকদার বায়েজিদের আয়ের ওপর নির্ভরশীল। বায়েজিদের কিছু হলে পরিবারটি পথে বসবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। ২০০৪ সালে একইভাবে নিক্ষেপিত পাথরের আঘাতে সিলেটগামী আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রী সঞ্জিত কুমার চন্দ্র বিশ্বাসের দুটি চোখ নষ্ট হয়ে গেছে। ২০১৩ সালের ১৩ আগস্ট চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে পাথরের আঘাতে প্রীতি দাশ নামে এক প্রকৌশলীর মৃত্যু হয়েছে।

শুধু বায়েজিদ, সঞ্জিত বা প্রীতি নন- চলন্ত ট্রেনে পাথর ছুঁড়ে মারার ঘটনায় প্রায়ই দেশের বিভিন্ন স্থানে মানুষ আহত হচ্ছেন। পরে তাদের কেউ কেউ মৃত্যু অথবা পঙ্গুত্ববরণ করছেন। রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ১ মে পর্যন্ত সারা দেশে পাথর নিক্ষেপের দেড় শতাধিক ঘটনা ঘটেছে এবং এতে দুই শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। বিষয়টি উদ্বেগজনক।

পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় কেবল ব্যক্তি ও তার পরিবার বিপর্যস্ত হচ্ছে না, একইসঙ্গে ট্রেনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রতি বছর এ খাতে রেলের ব্যয় হচ্ছে প্রায় পৌনে ২ কোটি টাকা। কর্তৃপক্ষ রেলপথের ৭০টি এলাকা ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ঘোষণা করলেও যথাযথ ব্যবস্থা না নেয়ায় বন্ধ হয়নি ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা। রেলওয়ে আইনের ১২৭ ধারায় ট্রেনে পাথর ছুঁড়লে যাবজ্জীবন জেলসহ ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।

পাথর নিক্ষেপের ফলে যদি কারও মৃত্যু হয়, তাহলে ৩০২ ধারা মতে দোষীদের মৃত্যুদণ্ডের বিধান থাকলেও গ্রেফতার বা বিচারের কোনো উদাহরণ নেই। ২০১৩ সালে প্রকৌশলী প্রীতি দাশের মৃত্যুর পর কর্তৃপক্ষ প্রথমবারের মতো একটি তদন্ত কমিটি গঠন করলেও কমিটির প্রতিবেদন বা এর ভিত্তিতে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণের কথা আমাদের জানা নেই।

বর্তমানে রেলের সম্পদ রক্ষায় নিয়োজিত রয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি) এবং স্টেশন ও যাত্রীদের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছে গভর্নমেন্ট রেল পুলিশ (জিআরপি)। রেললাইনের নিরাপত্তার বিষয়টি কে দেখবে- রেলওয়ের বিধিমালায় এ সম্পর্কে কোনো নির্দেশনা না থাকায় বিষয়টি নিয়ে দুই বাহিনীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে রশি টানাটানি চলছে। রেলের সম্পদ, রেললাইন ও যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ১৯৯০ সালে এ দুই বাহিনীর সমন্বয়ে প্রতিবেশী ভারতের মতো পৃথক একটি বাহিনী গঠন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও আজও কেন তা বাস্তবায়িত হল না- এ প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

কাক্সিক্ষত গন্তব্যের টিকিট না পাওয়া, বিলম্বিত ও ধীরগতির চলাচল, ছিনতাই, ডাকাতি ও পাথর নিক্ষেপ এবং ছোটবড় দুর্ঘটনাসহ নানাভাবে রেলযাত্রীরা হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বিশ্বের কোথাও ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের নজির না থাকলেও বাংলাদেশে কেন তা অহরহ ঘটছে, এর কারণ অনুসন্ধান করা উচিত।

পাথর নিক্ষেপ ও বিভিন্ন ধরনের নাশকতার ঘটনা রোধে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের এগিয়ে আসার পাশাপাশি পারিবারিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে সন্তানদের সচেতন করতে অভিভাবকদের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। রেলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নাশকতা ও পাথর নিক্ষেপসহ

অন্যান্য অপরাধের সঙ্গে যুক্তদের গ্রেফতার ও শাস্তির আওতায় আনার ব্যবস্থা নেয়া হোক অবিলম্বে।

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.