দুই জনপ্রতিনিধি হত্যা

এসব কী ঘটছে দেশে?

  সম্পাদকীয় ০৫ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দুই জনপ্রতিনিধি হত্যা

বৃহস্পতিবার দুপুরে, কাছাকাছি সময়ে দেশের দুটি ভিন্ন অঞ্চলে এমন দুটি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, যা দেশবাসীকে ভাবিয়ে তুলেছে।

নিহত দু’জনই জনপ্রতিনিধি। একজন রাঙ্গামাটির নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান শক্তিমান চাকমা, অন্যজন নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার বাঁশগাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সিরাজুল হক।

ঘটনা এখানেই শেষ নয়। গতকাল শক্তিমান চাকমার শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে বেতছড়ি এলাকায় গাড়িবহরে দুর্বৃত্তরা গুলি চালালে পাঁচজন নিহত ও নয়জন আহত হন।

অন্যদিকে নরসিংদীর বাঁশগাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সিরাজুল হক ছিলেন একজন বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা এবং একই ইউনিয়নের সাত টার্মের চেয়ারম্যান। তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতিও ছিলেন।

লক্ষ করা যাচ্ছে, দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সূচক নিুমুখী। পরিবহন খাতের নৈরাজ্য নিয়ে যখন সোচ্চার সবাই, তখন এই খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত তো হচ্ছেই না, বরং নৈরাজ্য সৃষ্টিতে এক ধরনের উৎসাহ দেখা যাচ্ছে।

এসব দেখে এমনও সন্দেহ হয়, দেশে একটা অস্থির পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তৎপরতা চালু হয়েছে। বৃহস্পতিবার নিহত হওয়া দু’জনই জনপ্রতিনিধি। এ দুই জনপ্রিয় ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা চাট্টিখানি কথা নয়।

শক্তিমান চাকমার হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে পরস্পরবিরোধী অভিযোগ উঠেছে। জনসংহতি সমিতি বলছে, এটি ইউপিডিএফের কাজ; অন্যদিকে ইউপিডিএফ বলছে, হত্যাকাণ্ডটি জনসংহতি সমিতির অন্তর্দ্বন্দ্বের কারণেই ঘটেছে। এর মধ্যেই আমরা লক্ষ করেছি, পাহাড়ি এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয়েছে।

তবে কি নির্বাচনের আগের সময়টায় স্বার্থান্বেষী পক্ষগুলো নিজ নিজ স্বার্থ হাসিলের লক্ষ্যে মাঠে নেমেছে? অথবা খোদ সরকারবিরোধী চক্রগুলো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির ইন্ধন জোগাচ্ছে?

হত্যাকাণ্ড দুটির বিচারের দাবির চেয়ে এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে আরেকটি বড় প্রশ্ন। যদি সত্যি সত্যি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর কোনো পরিকল্পনা করা হয়ে থাকে, তাহলে সম্ভাব্য নৈরাজ্য ঠেকানোর কতটা প্রস্তুতি রয়েছে সরকারের?

সংবাদপত্রের পাতা খুললেই দেখা যাচ্ছে মন খারাপ করা সব খবর। অপঘাতে মৃত্যু এখন স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হয়েছে। অপমৃত্যুর এই ধারা কীভাবে রোধ করা যাবে, তা এক গভীর জিজ্ঞাসার ব্যাপার।

সত্য কথা, ঘনবসতির এই দেশের প্রতিটি এলাকা ও মানুষকে মনিটর করা সম্ভব নয়। তাই বলে কি মানুষের আচরণ এমন পর্যায়ে উঠে যাবে যে, ন্যায়-নীতি, মূল্যবোধ ইত্যাদির কোনো বালাই থাকবে না?

পুরো বিষয়টি এখন এক গবেষণার বিষয়বস্তুতে পরিণত হয়েছে। রাজনীতিক, সমাজবিদ, বিশেষজ্ঞ, মনোবিজ্ঞানী- সবাই মিলে একটা পথ তো খুঁজে বের করতে হবে। নাকি এভাবেই ছেড়ে দিতে হবে সবকিছু?

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter