এসএসসির ফল

শিক্ষার মান বৃদ্ধি জরুরি

  সম্পাদকীয় ০৭ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

এসএসসি

গতকাল সারা দেশের মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। পাসের হার ৭৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ, যা গতবছরের চেয়ে ২ দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। ২০১৭ সালে ১০ শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ছিল ৮০ দশমিক ৩৫ শতাংশ। তবে এবার গতবারের চেয়ে পাঁচ হাজার ৮৬৮ জন বেশি জিপিএ-৫ পেয়েছে।

এ বছর তিন হাজার ৪১২টি কেন্দ্রে মোট ২০ লাখ ৩১ হাজার ৮৮৯ পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল। এর মধ্যে ১০ লাখ ২৩ হাজার ২১২ জন ছাত্র। ছাত্রীর সংখ্যা ১০ লাখ ৮ হাজার ৬৮৭ জন।

উল্লেখ্য, গত ১ থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সারা দেশে ও দেশের বাইরে কয়েকটি কেন্দ্রে একযোগে এসএসসি ও সমমানের লিখিত বিষয়ের পরীক্ষা এবং ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ৪ মার্চ পর্যন্ত ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবার জিপিএ-৫ বাড়লেও পাসের হার কমেছে।

একইসঙ্গে একজনও পাস করেনি- এমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। এসবই উদ্বেগজনক, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। অন্যদিকে এবারের পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ব্যাপক অভিযোগ উঠেছে এবং এ প্রেক্ষাপটে পরীক্ষা বাতিল না করলেও সরকার প্রশ্ন ফাঁস রোধে বেশকিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যা প্রশংসনীয়।

এবার পাসের হার ও ‘পাসবিহীন’ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কেন হ্রাস পেল, শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও গবেষকরা নিশ্চয়ই মূল্যায়ন করবেন; তবে মতভেদ থাকলেও আমাদের মাধ্যমিক শিক্ষার উন্নয়ন হয়েছে, এটা স্বীকার করতেই হবে।

মাধ্যমিকে পাসের হারের উল্লম্ফন শুরু হয়েছিল মূলত ‘অবজেকটিভ’ পদ্ধতির প্রশ্নপত্র চালুর পর। ইতিমধ্যে দেশে চালু হয়েছে সৃজনশীল পদ্ধতির প্রশ্নপত্র। উদ্দেশ্য হল, মুখস্থবিদ্যার ওপর শিক্ষার্থীদের নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনা। তবে সৃজনশীল পদ্ধতিতে পাঠদানে সক্ষম শিক্ষকের অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এদিকটায় মনোযোগ দেয়া উচিত।

ভুলে গেলে চলবে না, পাসের হার ও জিপিএ-৫ বৃদ্ধির চেয়েও জরুরি হল, শিক্ষার মান বৃদ্ধি। আজকাল পাসের হার বৃদ্ধির পেছনে সরকারের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কাজ করে বলে শোনা যায়।

শিক্ষা বোর্ডগুলোর প্রতি নাকি সেরকম নির্দেশনাও থাকে। এভাবে পরীক্ষায় পাসের হার বাড়িয়ে সাময়িকভাবে রাজনৈতিক ফায়দা লাভ করা হয়তো সম্ভব, কিন্তু শিক্ষা ব্যবস্থায় এর ইতিবাচক কোনো প্রভাব পড়ে না। কাজেই পাসের হার বৃদ্ধির চেয়েও শিক্ষার মানোন্নয়ন অনেক বেশি জরুরি।

বর্তমানে পরীক্ষায় নকলের প্রবণতা অনেকটা কমেছে- এটা ঠিক, তবে এখনও দেশে নোট-গাইডবইয়ের দৌরাত্ম্য, কোচিং বাণিজ্য ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের সংস্কৃতি বন্ধ হয়নি। এগুলো শিক্ষার মানের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

শিক্ষার্থীদের জীবনে মাধ্যমিক স্তরের পরীক্ষার ফলাফল বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এ স্তর অতিক্রম করে তবেই শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষার বৃহত্তর জগতে প্রবেশের সুযোগ পায়, যা ভবিষ্যৎ জীবন গঠন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে। মূলত শিক্ষাজীবনের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায় হল ভিত মজবুত করার উপযুক্ত সময়।

যারা এ সময়টাকে কাজে লাগায়, স্বভাবতই তারা পরীক্ষায় ভালো ফল করে। দুশ্চিন্তার বিষয় হল, দেশে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ও পাসের হার বাড়লেও বাড়ছে না মানসম্পন্ন ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা। এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর জন্য চাহিদা অনুযায়ী মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং প্রশিক্ষিত ও দক্ষ শিক্ষক নিয়োগদান জরুরি।

এবার যারা এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে, সবার প্রতি রইল অভিনন্দন। যারা অকৃতকার্য হয়েছে, তাদেরও হতাশ হওয়ার কিছু নেই। আগামীতে ভালো ফলের জন্য এখন থেকেই তাদের প্রস্তুতি গ্রহণ করা উচিত।

ঘটনাপ্রবাহ : এসএসসি-১৮

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter