পাঁচ বিদ্যুৎ কেন্দ্র উদ্বোধন: সঞ্চালন ও বিতরণ লাইনেরও মানোন্নয়ন করতে হবে
jugantor
পাঁচ বিদ্যুৎ কেন্দ্র উদ্বোধন: সঞ্চালন ও বিতরণ লাইনেরও মানোন্নয়ন করতে হবে

  সম্পাদকীয়  

১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রোববার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে নতুন পাঁচটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসব বিদ্যুৎ কেন্দ্র মোট ৭৭৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম। এর ফলে শতভাগ বিদ্যুতায়নের সাফল্যের মাইলফলক স্পর্শ করতে যাচ্ছে দেশ।

একসময় গ্রামীণ এলাকা এবং দুর্গম চরের বিপুলসংখ্যক মানুষ ছিল বিদ্যুৎ সুবিধার বাইরে। তখন বাসাবাড়িতে বা কোনো শিল্প-কারখানায় বিদ্যুতের সংযোগ পেতে হলে বহু কাঠখড় পোড়াতে হতো। সেই পরিস্থিতি এখন ইতিহাসে পরিণত হয়েছে।

বস্তুত বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির ফলে গ্রাম পর্যায়েও সরকার নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দিতে পেরেছে। এতে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর নাগরিক সুবিধা অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।

এক সময় দেশে দৈনিক উৎপাদিত হতো ৩ হাজার মেগাওয়াটের কিছু বেশি বিদ্যুৎ। আর এখন দেশে দৈনিক বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে ২৫ হাজার মেগাওয়াটেরও বেশি। দেশে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে বলেই এখন প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষও টেলিভিশন, ফ্রিজ, এমনকি এসিও ব্যবহার করতে পারছে। সরকারের এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলে নাগরিক সুবিধার বিবেচনায় গ্রাম ও শহরের বৈষম্য কমে আসবে।

এতে মানুষের শহরমুখী হওয়ার প্রবণতা কমবে, এটা আশা করা যায়। আগামীতে দেশে বিদ্যুৎচালিত মেট্রোরেল চালু হবে, এ তথ্য এখন আর কারও অজানা নয়। ভবিষ্যতে বিদ্যুৎচালিত আরও যানবাহনের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।

বাসাবাড়ি বা শিল্প-কারখানায় প্রয়োজনীয় বিদ্যুতের সংযোগ পেতে মানুষের যাতে কোনো অসুবিধা না হয় সেজন্য বর্তমান সরকার বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি প্রদান করছে। এ অবস্থায় সবাইকে বিদ্যুৎ ব্যবহারে বিশেষভাবে সতর্ক হতে হবে। প্রধানমন্ত্রী জনগণকে বিদ্যুৎ ব্যবহারে মিতব্যয়ী হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বিদ্যুৎ খাতে তার সরকারের দেওয়া ভর্তুকির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

সরকার গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি দিচ্ছে বলেই উৎপাদনের যে খরচ সেটা বিদ্যুৎ বিল হিসাবে আমাদের দিতে হচ্ছে না; অনেক কম বিল দিতে হচ্ছে। কাজেই সবার উচিত প্রয়োজন না হলে নিজের হাতেই বিদ্যুতের সুইচগুলো বন্ধ করা। তাতে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে, বিলও কম আসবে।

তবে সরকার অগ্রাধিকার দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ালেও সঞ্চালন ও বিতরণ লাইনের সমস্যার কারণে বহু ভোক্তা কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় সেবা পাচ্ছে না। কাজেই নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের পাশাপাশি মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে হলে সঞ্চালন ও বিতরণ লাইনের উন্নয়নে কর্তৃপক্ষকে সময়মতো দৃষ্টি দিতে হবে।

রূপপুর ও মাতারবাড়ীর মতো বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো চালু হওয়ার পরই বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় কমবে। এসব বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হওয়ার জন্য আরও বেশ কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। সে পর্যন্ত সরকারকে আরও অর্থ ভর্তুকি দিতে হবে। বিদ্যুৎ খাতে নাগরিক সেবার মান যাতে আরও বাড়ানো যায়, এ লক্ষ্যে সরকারকে বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতের অর্থ সাশ্রয়ের পরিকল্পনা নিতে হবে।

পাঁচ বিদ্যুৎ কেন্দ্র উদ্বোধন: সঞ্চালন ও বিতরণ লাইনেরও মানোন্নয়ন করতে হবে

 সম্পাদকীয় 
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রোববার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে নতুন পাঁচটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসব বিদ্যুৎ কেন্দ্র মোট ৭৭৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম। এর ফলে শতভাগ বিদ্যুতায়নের সাফল্যের মাইলফলক স্পর্শ করতে যাচ্ছে দেশ।

একসময় গ্রামীণ এলাকা এবং দুর্গম চরের বিপুলসংখ্যক মানুষ ছিল বিদ্যুৎ সুবিধার বাইরে। তখন বাসাবাড়িতে বা কোনো শিল্প-কারখানায় বিদ্যুতের সংযোগ পেতে হলে বহু কাঠখড় পোড়াতে হতো। সেই পরিস্থিতি এখন ইতিহাসে পরিণত হয়েছে।

বস্তুত বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির ফলে গ্রাম পর্যায়েও সরকার নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দিতে পেরেছে। এতে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর নাগরিক সুবিধা অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।

এক সময় দেশে দৈনিক উৎপাদিত হতো ৩ হাজার মেগাওয়াটের কিছু বেশি বিদ্যুৎ। আর এখন দেশে দৈনিক বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে ২৫ হাজার মেগাওয়াটেরও বেশি। দেশে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে বলেই এখন প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষও টেলিভিশন, ফ্রিজ, এমনকি এসিও ব্যবহার করতে পারছে। সরকারের এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলে নাগরিক সুবিধার বিবেচনায় গ্রাম ও শহরের বৈষম্য কমে আসবে।

এতে মানুষের শহরমুখী হওয়ার প্রবণতা কমবে, এটা আশা করা যায়। আগামীতে দেশে বিদ্যুৎচালিত মেট্রোরেল চালু হবে, এ তথ্য এখন আর কারও অজানা নয়। ভবিষ্যতে বিদ্যুৎচালিত আরও যানবাহনের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।

বাসাবাড়ি বা শিল্প-কারখানায় প্রয়োজনীয় বিদ্যুতের সংযোগ পেতে মানুষের যাতে কোনো অসুবিধা না হয় সেজন্য বর্তমান সরকার বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি প্রদান করছে। এ অবস্থায় সবাইকে বিদ্যুৎ ব্যবহারে বিশেষভাবে সতর্ক হতে হবে। প্রধানমন্ত্রী জনগণকে বিদ্যুৎ ব্যবহারে মিতব্যয়ী হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বিদ্যুৎ খাতে তার সরকারের দেওয়া ভর্তুকির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

সরকার গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি দিচ্ছে বলেই উৎপাদনের যে খরচ সেটা বিদ্যুৎ বিল হিসাবে আমাদের দিতে হচ্ছে না; অনেক কম বিল দিতে হচ্ছে। কাজেই সবার উচিত প্রয়োজন না হলে নিজের হাতেই বিদ্যুতের সুইচগুলো বন্ধ করা। তাতে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে, বিলও কম আসবে।

তবে সরকার অগ্রাধিকার দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ালেও সঞ্চালন ও বিতরণ লাইনের সমস্যার কারণে বহু ভোক্তা কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় সেবা পাচ্ছে না। কাজেই নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের পাশাপাশি মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে হলে সঞ্চালন ও বিতরণ লাইনের উন্নয়নে কর্তৃপক্ষকে সময়মতো দৃষ্টি দিতে হবে।

রূপপুর ও মাতারবাড়ীর মতো বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো চালু হওয়ার পরই বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় কমবে। এসব বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হওয়ার জন্য আরও বেশ কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। সে পর্যন্ত সরকারকে আরও অর্থ ভর্তুকি দিতে হবে। বিদ্যুৎ খাতে নাগরিক সেবার মান যাতে আরও বাড়ানো যায়, এ লক্ষ্যে সরকারকে বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতের অর্থ সাশ্রয়ের পরিকল্পনা নিতে হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন