সরকারি কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব: বিধিমালা সংশোধন করা প্রয়োজন
jugantor
সরকারি কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব: বিধিমালা সংশোধন করা প্রয়োজন

  সম্পাদকীয়  

১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিধিমালা অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব জমা দেওয়ার তাগিদ দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। ডিসেম্বরের মধ্যে এ হিসাব জমা দিতে হবে। সম্পদের হিসাব জমা না দিলে তা অসদাচরণ হিসাবে গণ্য হবে, এজন্য সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

সম্পদের হিসাব জমা দেওয়ার এ উদ্যোগটি যে ভালো তাতে কোনো সন্দেহ নেই। জনপ্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যেই সম্পদের হিসাব বিবরণী দাখিল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এ উদ্যোগ কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে রয়েছে সংশয়। কারণ বিদ্যমান বিধিমালাটি ত্রুটিপূর্ণ ও অসম্পূর্ণ।

‘সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯’ অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের সম্পদের হিসাব বলতে শুধু একজনের নয়, সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর পরিবার ও তার ওপর নির্ভরশীল সবার হিসাব দেওয়া বাধ্যতামূলক। মূল সমস্যাটি এখানেই। কারণ এ ক্ষেত্রে সম্পদের হিসাব নিতে হবে বিপুলসংখ্যক মানুষের-অন্তত ৩০ লাখ ব্যক্তির। এ সক্ষমতা সরকারের আছে কিনা, তা নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন। এ পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যমান বিধিমালার সংশোধন বা নতুন একটি আইন করা উচিত।

সম্পদের হিসাব দাখিলের ব্যবস্থা বিশ্বের প্রতিটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রেই রয়েছে। প্রতিবেশী দেশ ভারত ও শ্রীলংকায় অনেক আগেই এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। সেসব দেশে সম্পদের হিসাব দাখিল বাধ্যতামূলক। অথচ আমাদের দেশে এ সংক্রান্ত একটি বিধিমালা ছাড়া সুনির্দিষ্ট কোনো আইন নেই।

সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতি পাঁচ বছর অন্তর সম্পদের হিসাব দাখিলের জন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি নির্দেশনা রয়েছে। তবে এ নির্দেশনা পালনে তাদের মাঝে রয়েছে অনীহা। এর অন্যতম কারণ বিধিমালায় বর্ণিত শর্ত, যে কারণে তাদের সম্পদের হিসাব দেওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এছাড়া আজ পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নজির না থাকায় কর্মচারীদের মধ্যে এ নির্দেশনা অমান্য করার প্রবণতা রয়েছে। অধিকন্তু জনপ্রতিনিধি ও উচ্চপর্যায়ের কর্মচারীরা নিজেরাই যেখানে সম্পদের হিসাব দাখিল করেন না বা করতে আগ্রহী নন, সেখানে সম্পদের হিসাব দাখিল করার জন্য তাদের অধস্তনদের বাধ্য করার নৈতিক অধিকার কতটা আছে, সেটাও একটি প্রশ্ন। তারপরও আমরা আশা করব, সরকারি কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব জমা নেওয়া নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

সরকারি কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব: বিধিমালা সংশোধন করা প্রয়োজন

 সম্পাদকীয় 
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিধিমালা অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব জমা দেওয়ার তাগিদ দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। ডিসেম্বরের মধ্যে এ হিসাব জমা দিতে হবে। সম্পদের হিসাব জমা না দিলে তা অসদাচরণ হিসাবে গণ্য হবে, এজন্য সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

সম্পদের হিসাব জমা দেওয়ার এ উদ্যোগটি যে ভালো তাতে কোনো সন্দেহ নেই। জনপ্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যেই সম্পদের হিসাব বিবরণী দাখিল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এ উদ্যোগ কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে রয়েছে সংশয়। কারণ বিদ্যমান বিধিমালাটি ত্রুটিপূর্ণ ও অসম্পূর্ণ।

‘সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯’ অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের সম্পদের হিসাব বলতে শুধু একজনের নয়, সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর পরিবার ও তার ওপর নির্ভরশীল সবার হিসাব দেওয়া বাধ্যতামূলক। মূল সমস্যাটি এখানেই। কারণ এ ক্ষেত্রে সম্পদের হিসাব নিতে হবে বিপুলসংখ্যক মানুষের-অন্তত ৩০ লাখ ব্যক্তির। এ সক্ষমতা সরকারের আছে কিনা, তা নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন। এ পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যমান বিধিমালার সংশোধন বা নতুন একটি আইন করা উচিত।

সম্পদের হিসাব দাখিলের ব্যবস্থা বিশ্বের প্রতিটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রেই রয়েছে। প্রতিবেশী দেশ ভারত ও শ্রীলংকায় অনেক আগেই এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। সেসব দেশে সম্পদের হিসাব দাখিল বাধ্যতামূলক। অথচ আমাদের দেশে এ সংক্রান্ত একটি বিধিমালা ছাড়া সুনির্দিষ্ট কোনো আইন নেই।

সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতি পাঁচ বছর অন্তর সম্পদের হিসাব দাখিলের জন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি নির্দেশনা রয়েছে। তবে এ নির্দেশনা পালনে তাদের মাঝে রয়েছে অনীহা। এর অন্যতম কারণ বিধিমালায় বর্ণিত শর্ত, যে কারণে তাদের সম্পদের হিসাব দেওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এছাড়া আজ পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নজির না থাকায় কর্মচারীদের মধ্যে এ নির্দেশনা অমান্য করার প্রবণতা রয়েছে। অধিকন্তু জনপ্রতিনিধি ও উচ্চপর্যায়ের কর্মচারীরা নিজেরাই যেখানে সম্পদের হিসাব দাখিল করেন না বা করতে আগ্রহী নন, সেখানে সম্পদের হিসাব দাখিল করার জন্য তাদের অধস্তনদের বাধ্য করার নৈতিক অধিকার কতটা আছে, সেটাও একটি প্রশ্ন। তারপরও আমরা আশা করব, সরকারি কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব জমা নেওয়া নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন