বেপরোয়া কিশোর গ্যাং
jugantor
বেপরোয়া কিশোর গ্যাং
দৌরাত্ম্য রোধে অভিভাবকদেরও দায়িত্ব রয়েছে

  সম্পাদকীয়  

১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মাদারীপুরে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য কতটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে, তা গতকাল যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। কথিত বড়ভাইদের আশীর্বাদে নতুন চকচকে খুদে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন থেকে শুরু করে মাদকে সম্পৃক্ত হয়ে পড়ার বিষয়টি সমাজের চিন্তাশীল মানুষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ভাবিয়ে তুলেছে।

গত কয়েক মাসে মাদারীপুর পৌর এলাকায় হত্যা, নির্যাতনসহ একাধিক লোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় মামলা হলেও জামিনে বেরিয়ে এসে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা আধিপত্য বিস্তার নিয়ে প্রতিপক্ষ গ্রুপের এক কিশোরকে নির্দয়ভাবে পেটাচ্ছে। প্রাইভেট ক্লাস করে ফেরার সময় দশম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে ৮-১০ জন কিশোর উপর্যুপরি আঘাত করে রক্তাক্ত করে। তাদেরই একজন সদস্য তা মোবাইল ফোনে ধারণ করে পরে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়।

কেবল মাদারীপুর নয়, দেশজুড়ে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের বেপরোয়া হয়ে ওঠার বিষয়টি উদ্বেগজনক। এক সময়ের নগরকেন্দ্রিক এ সমস্যা এখন কম-বেশি সারা দেশেই ছড়িয়ে পড়েছে। তুচ্ছ বিরোধকে কেন্দ্র করে যেসব কিশোর বড় অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে, তাদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান শুরু হলেও এক সময় তা স্তিমিত হয়ে পড়ে। এক সময় দেশের উঠতি বয়সের তরুণদের মধ্যে নানারকম সমাজকল্যাণমূলক কাজের প্রতিযোগিতা লক্ষ করা যেত, আর এখন শহর-বন্দরে উঠতি বয়সের তরুণদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ একত্র হয়ে গ্যাং তৈরি করে নানা ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। আধিপত্য বিস্তার ছাড়াও বিভিন্ন তুচ্ছ ঘটনায় গ্রুপে গ্রুপে চলছে হাতাহাতি-মারামারি। কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্ন সময়ে দৃশ্যমান কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে।

এমন অভিযান অব্যাহত না থাকলে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পক্ষে সবার ঘরে ঘরে গিয়ে কিশোরদের সংশোধন করার কাজটি যে কঠিন, তা বলাই বাহুল্য। কিশোররা যাতে অপরাধে জড়াতে না পারে সেজন্য অভিভাবকদের কঠোর হতে হবে।

শিক্ষকরাও এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। নিুবিত্ত পরিবারের কিশোর, যারা নানাভাবে বঞ্চিত, তাদের অনেকে হতাশা থেকেও নানারকম অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। নানারকম প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে এ শিশু-কিশোরদের সম্পদে পরিণত করার পাশাপাশি তাদের উন্নত মূল্যবোধের দীক্ষা প্রদানে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হলে তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখা সহজ হবে। এ ক্ষত সমাজদেহে ব্যাপকভাবে বিস্তারের আগেই সবার এগিয়ে আসা উচিত।

বেপরোয়া কিশোর গ্যাং

দৌরাত্ম্য রোধে অভিভাবকদেরও দায়িত্ব রয়েছে
 সম্পাদকীয় 
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মাদারীপুরে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য কতটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে, তা গতকাল যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। কথিত বড়ভাইদের আশীর্বাদে নতুন চকচকে খুদে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন থেকে শুরু করে মাদকে সম্পৃক্ত হয়ে পড়ার বিষয়টি সমাজের চিন্তাশীল মানুষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ভাবিয়ে তুলেছে।

গত কয়েক মাসে মাদারীপুর পৌর এলাকায় হত্যা, নির্যাতনসহ একাধিক লোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় মামলা হলেও জামিনে বেরিয়ে এসে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা আধিপত্য বিস্তার নিয়ে প্রতিপক্ষ গ্রুপের এক কিশোরকে নির্দয়ভাবে পেটাচ্ছে। প্রাইভেট ক্লাস করে ফেরার সময় দশম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে ৮-১০ জন কিশোর উপর্যুপরি আঘাত করে রক্তাক্ত করে। তাদেরই একজন সদস্য তা মোবাইল ফোনে ধারণ করে পরে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়।

কেবল মাদারীপুর নয়, দেশজুড়ে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের বেপরোয়া হয়ে ওঠার বিষয়টি উদ্বেগজনক। এক সময়ের নগরকেন্দ্রিক এ সমস্যা এখন কম-বেশি সারা দেশেই ছড়িয়ে পড়েছে। তুচ্ছ বিরোধকে কেন্দ্র করে যেসব কিশোর বড় অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে, তাদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান শুরু হলেও এক সময় তা স্তিমিত হয়ে পড়ে। এক সময় দেশের উঠতি বয়সের তরুণদের মধ্যে নানারকম সমাজকল্যাণমূলক কাজের প্রতিযোগিতা লক্ষ করা যেত, আর এখন শহর-বন্দরে উঠতি বয়সের তরুণদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ একত্র হয়ে গ্যাং তৈরি করে নানা ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। আধিপত্য বিস্তার ছাড়াও বিভিন্ন তুচ্ছ ঘটনায় গ্রুপে গ্রুপে চলছে হাতাহাতি-মারামারি। কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্ন সময়ে দৃশ্যমান কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে।

এমন অভিযান অব্যাহত না থাকলে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পক্ষে সবার ঘরে ঘরে গিয়ে কিশোরদের সংশোধন করার কাজটি যে কঠিন, তা বলাই বাহুল্য। কিশোররা যাতে অপরাধে জড়াতে না পারে সেজন্য অভিভাবকদের কঠোর হতে হবে।

শিক্ষকরাও এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। নিুবিত্ত পরিবারের কিশোর, যারা নানাভাবে বঞ্চিত, তাদের অনেকে হতাশা থেকেও নানারকম অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। নানারকম প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে এ শিশু-কিশোরদের সম্পদে পরিণত করার পাশাপাশি তাদের উন্নত মূল্যবোধের দীক্ষা প্রদানে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হলে তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখা সহজ হবে। এ ক্ষত সমাজদেহে ব্যাপকভাবে বিস্তারের আগেই সবার এগিয়ে আসা উচিত।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন