সাক্ষী সুরক্ষা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা
jugantor
সাক্ষী সুরক্ষা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা
পুলিশের এ উদ্যোগ প্রশংসাযোগ্য

  সম্পাদকীয়  

১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

যে কোনো অপরাধ প্রমাণের জন্য সাক্ষীর ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সাক্ষীর সাক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করেই বিচারক রায় দিয়ে থাকেন।

অপরাধ প্রমাণে সাক্ষীর ভূমিকা এতই গুরুত্বপূর্ণ যে, তাদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ট্রাভেলিং অ্যালাউন্স (টিএ) এবং ডেইলি অ্যালাউন্সের (ডিএ) ব্যবস্থা করা হয়, যদিও বাস্তবে সাক্ষীরা এই টিএ ও ডিএ অ্যালাউন্স অনেক ক্ষেত্রেই পান না।

উলটো তারা নানা ধরনের দুর্ভোগ ও হয়রানির শিকার হন। আদালতের সংখ্যা বেশি হওয়ায় সাধারণ সাক্ষীরা সংশ্লিষ্ট আদালত খুঁজে পান না, আবার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে অনীহা প্রকাশ করেন।

এ অবস্থায় পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ও সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটররা (এপিপি) ঠিকমতো সাক্ষীদের আদালতে উপস্থাপন করতে পারেন না। আবার বিশেষ কারণ দেখিয়ে সাক্ষী হাজির না করে আইনজীবীরা মামলার কার্যক্রম বিলম্বিত করেন, এমন নজিরও রয়েছে। কখনো কখনো সাক্ষীদের সমন দেওয়া হলে আসামি পক্ষ থেকে তা গায়েব করে দেওয়া হয়। এসব কারণে বিচারে দেখা দেয় দীর্ঘসূত্রতা। এক পর্যায়ে পর্যাপ্ত সাক্ষ্যের অভাবে ঝুলে থাকা মামলার আসামিরা খালাস পেয়ে যায়।

উপর্যুক্ত বাস্তবতায় সাক্ষীদের সুরক্ষা ও সহায়তা দিতে পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে সম্প্রতি ১৩টি জেলার আদালতে বাদী, ভিকটিম ও সাক্ষী সহায়তা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে, পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলায় এ ধরনের কেন্দ্র স্থাপন করা হবে।

জানা গেছে, ইতোমধ্যে স্থাপিত কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে এরই মধ্যে ১২ হাজার ৫৫৪ জনকে সেবা দেওয়া হয়েছে। পুলিশের এ নতুন উদ্যোগে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। প্রতিদিন সেবাপ্রার্থীরা ভিড় করছেন সেবা কেন্দ্রগুলোয়। সাক্ষীদের মধ্যে তৈরি হচ্ছে নির্ভয়ে সাক্ষ্য প্রদানের মানসিকতা।

পুলিশের পক্ষ থেকে গৃহীত সাক্ষী সহায়তা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগটি নিঃসন্দেহে সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। আমাদের দেশের বিচারব্যবস্থার অন্যতম দুর্বলতা হচ্ছে, মামলার সাক্ষীদের একটি অংশ প্রভাবশালী ও দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় সাক্ষ্য প্রদানে ভয় পেয়ে থাকে।

আবার কেউ কেউ সাক্ষ্য প্রদানকে অযথা হয়রানি মনে করে থাকেন। অথচ সাক্ষীদের সাক্ষ্য প্রদান একটি রাষ্ট্রীয় ও নৈতিক দায়িত্বও বটে। এই দায়িত্ব পালন না করার অর্থ হচ্ছে অপরাধীদের বিশেষ ছাড় দেওয়া। তাই দেশকে অপরাধমুক্ত করতে হলে সাক্ষীদের অবশ্যই নিজ দায়িত্বে আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করতে হবে।

তবে সাক্ষীদের প্রতিও রাষ্ট্রের দায়িত্ব রয়েছে। তাদের ঠিকমতো টিএ ও ডিএ অ্যালাউন্স প্রদান এবং আদালতে তাদের জন্য বিশ্রামাগার প্রস্তুত রাখার বিষয়গুলো নিশ্চিত করা দরকার। পুলিশের সাক্ষী সহায়তা কেন্দ্র সাক্ষীদের শুধু সুরক্ষা দেওয়া নয়, তাদের সব ধরনের সমস্যার নিষ্পত্তি করবে বলে আমাদের বিশ্বাস।

সাক্ষী সুরক্ষা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা

পুলিশের এ উদ্যোগ প্রশংসাযোগ্য
 সম্পাদকীয় 
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

যে কোনো অপরাধ প্রমাণের জন্য সাক্ষীর ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সাক্ষীর সাক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করেই বিচারক রায় দিয়ে থাকেন।

অপরাধ প্রমাণে সাক্ষীর ভূমিকা এতই গুরুত্বপূর্ণ যে, তাদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ট্রাভেলিং অ্যালাউন্স (টিএ) এবং ডেইলি অ্যালাউন্সের (ডিএ) ব্যবস্থা করা হয়, যদিও বাস্তবে সাক্ষীরা এই টিএ ও ডিএ অ্যালাউন্স অনেক ক্ষেত্রেই পান না।

উলটো তারা নানা ধরনের দুর্ভোগ ও হয়রানির শিকার হন। আদালতের সংখ্যা বেশি হওয়ায় সাধারণ সাক্ষীরা সংশ্লিষ্ট আদালত খুঁজে পান না, আবার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে অনীহা প্রকাশ করেন।

এ অবস্থায় পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ও সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটররা (এপিপি) ঠিকমতো সাক্ষীদের আদালতে উপস্থাপন করতে পারেন না। আবার বিশেষ কারণ দেখিয়ে সাক্ষী হাজির না করে আইনজীবীরা মামলার কার্যক্রম বিলম্বিত করেন, এমন নজিরও রয়েছে। কখনো কখনো সাক্ষীদের সমন দেওয়া হলে আসামি পক্ষ থেকে তা গায়েব করে দেওয়া হয়। এসব কারণে বিচারে দেখা দেয় দীর্ঘসূত্রতা। এক পর্যায়ে পর্যাপ্ত সাক্ষ্যের অভাবে ঝুলে থাকা মামলার আসামিরা খালাস পেয়ে যায়।

উপর্যুক্ত বাস্তবতায় সাক্ষীদের সুরক্ষা ও সহায়তা দিতে পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে সম্প্রতি ১৩টি জেলার আদালতে বাদী, ভিকটিম ও সাক্ষী সহায়তা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে, পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলায় এ ধরনের কেন্দ্র স্থাপন করা হবে।

জানা গেছে, ইতোমধ্যে স্থাপিত কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে এরই মধ্যে ১২ হাজার ৫৫৪ জনকে সেবা দেওয়া হয়েছে। পুলিশের এ নতুন উদ্যোগে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। প্রতিদিন সেবাপ্রার্থীরা ভিড় করছেন সেবা কেন্দ্রগুলোয়। সাক্ষীদের মধ্যে তৈরি হচ্ছে নির্ভয়ে সাক্ষ্য প্রদানের মানসিকতা।

পুলিশের পক্ষ থেকে গৃহীত সাক্ষী সহায়তা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগটি নিঃসন্দেহে সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। আমাদের দেশের বিচারব্যবস্থার অন্যতম দুর্বলতা হচ্ছে, মামলার সাক্ষীদের একটি অংশ প্রভাবশালী ও দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় সাক্ষ্য প্রদানে ভয় পেয়ে থাকে।

আবার কেউ কেউ সাক্ষ্য প্রদানকে অযথা হয়রানি মনে করে থাকেন। অথচ সাক্ষীদের সাক্ষ্য প্রদান একটি রাষ্ট্রীয় ও নৈতিক দায়িত্বও বটে। এই দায়িত্ব পালন না করার অর্থ হচ্ছে অপরাধীদের বিশেষ ছাড় দেওয়া। তাই দেশকে অপরাধমুক্ত করতে হলে সাক্ষীদের অবশ্যই নিজ দায়িত্বে আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করতে হবে।

তবে সাক্ষীদের প্রতিও রাষ্ট্রের দায়িত্ব রয়েছে। তাদের ঠিকমতো টিএ ও ডিএ অ্যালাউন্স প্রদান এবং আদালতে তাদের জন্য বিশ্রামাগার প্রস্তুত রাখার বিষয়গুলো নিশ্চিত করা দরকার। পুলিশের সাক্ষী সহায়তা কেন্দ্র সাক্ষীদের শুধু সুরক্ষা দেওয়া নয়, তাদের সব ধরনের সমস্যার নিষ্পত্তি করবে বলে আমাদের বিশ্বাস।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন