জাতীয় সংসদে স্বাস্থ্য খাত, অনেক অভিযোগই আমলযোগ্য
jugantor
জাতীয় সংসদে স্বাস্থ্য খাত, অনেক অভিযোগই আমলযোগ্য

  সম্পাদকীয়  

১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বুধবার জাতীয় সংসদে দেশের স্বাস্থ্য খাত নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতেই তুমুল আলোচনা করেছেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা।

এদিন ‘মেডিকেল কলেজ গভর্নিং বডি বিল’ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব পাশের সময় বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা স্বাস্থ্য খাত নিয়ে বেশকিছু অভিযোগ তুলে ধরেন। সমালোচনার মুখে পড়েন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

সমালোচনাগুলো ছিল করোনা মোকাবিলায় ব্যর্থতা, স্বাস্থ্য খাতে সমন্বয়হীনতা, অনিয়ম, দুর্নীতি ইত্যাদি বিষয়কে কেন্দ্র করে। এ সময় চিকিৎসক সংকট, স্বাস্থ্যসেবার অপ্রতুলতা এবং সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের সমস্যা নিয়েও বক্তব্য ও পালটা বক্তব্য চলে।

চিকিৎসকরা কেন রাজনীতি করবেন, সে প্রশ্নও উঠে আসে সংসদ সদস্যদের বক্তব্যে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তারা আলোকপাত করেছেন যা হলো, চিকিৎসার বিল দিতে না পারলে বেসরকারি হাসপাতালগুলো রোগী আটকে রাখে। দেশে প্রতিষ্ঠিত বেসরকারি হাসপাতালগুলোর মধ্যে কয়টি মানসম্মত, সে প্রশ্নও উঠে আসে।

বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ বলেছেন, দেশ পঞ্চাশ বছর অতিক্রম করেছে, অথচ বেহাল স্বাস্থ্য খাত দেখছি আমরা। তিনি বলেন, করোনায় সংকটাপন্ন অবস্থায় পড়ে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা না পেয়ে নিরুপায় হয়ে বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন অনেকে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের বক্তব্যের জবাব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সমালোচনা আমাকে শক্তিশালী করে।

স্বাস্থ্য খাত নিয়ে জাতীয় সংসদে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিপরীতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী তার ও সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বক্তব্য দিয়েছেন বটে; তবে প্রশ্ন হচ্ছে, উত্থাপিত অভিযোগগুলোর কোনোটির মধ্যেই কি কোনো সারবত্তা নেই?

করোনাকালে দেশের স্বাস্থ্য খাতে এমন অনেক ঘটনাই ঘটেছে, যেগুলো নিয়ে প্রশ্ন তোলাই যায়। কিছুদিন আগে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এমনও বলেছেন, অক্সিজেনের অভাবে কিংবা হাসপাতালে চিকিৎসা না পেয়ে কেউ মারা যাননি। তার এ কথাই বা কতটা সত্য?

এ মুহূর্তের কথা বললে হয়তো স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কথাটা ঠিক; কিন্তু করোনাকাল শুরু হওয়ার পর থেকে কেউ কি অক্সিজেনের অভাবে কিংবা চিকিৎসা না পেয়ে মারা যাননি? সংবাদপত্র ও টেলিভিশনের প্রতিবেদনগুলো স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কথার পক্ষে সায় দেয় না। স্বাস্থ্য খাতের সমন্বয়হীনতার অভিযোগ তুলেছেন সংসদ সদস্যরা। এই অভিযোগও সত্য বটে।

সমন্বয়হীনতার কারণেই একই বিষয়ে একাধিকবার সিদ্ধান্ত পালটাতে দেখেছি আমরা। স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতির কথা উঠলে এক শাহেদকাণ্ডের কথা বললেই যথেষ্ট হয় বলে মনে করি আমরা। আমাদের বক্তব্য হলো, স্বাস্থ্য খাত নিয়ে ঢালাও অভিযোগ ঠিক নয় বটে, তবে এ খাত সম্পর্কে উত্থাপিত অনেক অভিযোগই সত্য।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, সমালোচনা তাকে শক্তিশালী করে; এই কথার ওপর ভিত্তি করেই তাকে দেশের স্বাস্থ্য খাত সম্পর্কে আরও সচেতন হতে হবে। এ খাতকে তুলে ধরতে হবে সব ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার ঊর্ধ্বে।

জাতীয় সংসদে স্বাস্থ্য খাত, অনেক অভিযোগই আমলযোগ্য

 সম্পাদকীয় 
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বুধবার জাতীয় সংসদে দেশের স্বাস্থ্য খাত নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতেই তুমুল আলোচনা করেছেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা।

এদিন ‘মেডিকেল কলেজ গভর্নিং বডি বিল’ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব পাশের সময় বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা স্বাস্থ্য খাত নিয়ে বেশকিছু অভিযোগ তুলে ধরেন। সমালোচনার মুখে পড়েন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

সমালোচনাগুলো ছিল করোনা মোকাবিলায় ব্যর্থতা, স্বাস্থ্য খাতে সমন্বয়হীনতা, অনিয়ম, দুর্নীতি ইত্যাদি বিষয়কে কেন্দ্র করে। এ সময় চিকিৎসক সংকট, স্বাস্থ্যসেবার অপ্রতুলতা এবং সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের সমস্যা নিয়েও বক্তব্য ও পালটা বক্তব্য চলে।

চিকিৎসকরা কেন রাজনীতি করবেন, সে প্রশ্নও উঠে আসে সংসদ সদস্যদের বক্তব্যে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তারা আলোকপাত করেছেন যা হলো, চিকিৎসার বিল দিতে না পারলে বেসরকারি হাসপাতালগুলো রোগী আটকে রাখে। দেশে প্রতিষ্ঠিত বেসরকারি হাসপাতালগুলোর মধ্যে কয়টি মানসম্মত, সে প্রশ্নও উঠে আসে।

বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ বলেছেন, দেশ পঞ্চাশ বছর অতিক্রম করেছে, অথচ বেহাল স্বাস্থ্য খাত দেখছি আমরা। তিনি বলেন, করোনায় সংকটাপন্ন অবস্থায় পড়ে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা না পেয়ে নিরুপায় হয়ে বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন অনেকে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের বক্তব্যের জবাব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সমালোচনা আমাকে শক্তিশালী করে।

স্বাস্থ্য খাত নিয়ে জাতীয় সংসদে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিপরীতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী তার ও সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বক্তব্য দিয়েছেন বটে; তবে প্রশ্ন হচ্ছে, উত্থাপিত অভিযোগগুলোর কোনোটির মধ্যেই কি কোনো সারবত্তা নেই?

করোনাকালে দেশের স্বাস্থ্য খাতে এমন অনেক ঘটনাই ঘটেছে, যেগুলো নিয়ে প্রশ্ন তোলাই যায়। কিছুদিন আগে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এমনও বলেছেন, অক্সিজেনের অভাবে কিংবা হাসপাতালে চিকিৎসা না পেয়ে কেউ মারা যাননি। তার এ কথাই বা কতটা সত্য?

এ মুহূর্তের কথা বললে হয়তো স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কথাটা ঠিক; কিন্তু করোনাকাল শুরু হওয়ার পর থেকে কেউ কি অক্সিজেনের অভাবে কিংবা চিকিৎসা না পেয়ে মারা যাননি? সংবাদপত্র ও টেলিভিশনের প্রতিবেদনগুলো স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কথার পক্ষে সায় দেয় না। স্বাস্থ্য খাতের সমন্বয়হীনতার অভিযোগ তুলেছেন সংসদ সদস্যরা। এই অভিযোগও সত্য বটে।

সমন্বয়হীনতার কারণেই একই বিষয়ে একাধিকবার সিদ্ধান্ত পালটাতে দেখেছি আমরা। স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতির কথা উঠলে এক শাহেদকাণ্ডের কথা বললেই যথেষ্ট হয় বলে মনে করি আমরা। আমাদের বক্তব্য হলো, স্বাস্থ্য খাত নিয়ে ঢালাও অভিযোগ ঠিক নয় বটে, তবে এ খাত সম্পর্কে উত্থাপিত অনেক অভিযোগই সত্য।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, সমালোচনা তাকে শক্তিশালী করে; এই কথার ওপর ভিত্তি করেই তাকে দেশের স্বাস্থ্য খাত সম্পর্কে আরও সচেতন হতে হবে। এ খাতকে তুলে ধরতে হবে সব ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার ঊর্ধ্বে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন