সংস্কারগুলো যুগান্তকারী
jugantor
সংস্কারগুলো যুগান্তকারী

  ড. মোহাম্মদ মোহেববুল্লাহ খান  

১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জাতীয় শিক্ষাক্রমের রূপরেখায় যেসব পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে, তা আধুনিক, বিজ্ঞানসম্মত এবং বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাওয়ার অন্যতম মাধ্যম বলে মনে করি। প্রস্তাবিত শিক্ষাক্রমে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষা না থাকার বিষয়ে আমি একমত।

আমার মতে, তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত শিশুরা তাদের চোখে দেখার গণ্ডি থেকে জ্ঞান আহরণ করবে। তাদের আহরিত জ্ঞানের পরিপূর্ণতার জন্য একদিকে শিক্ষকরা স্কুলে, অন্যদিকে অভিভাবকরা বাড়িতে ভূমিকা রাখবেন। ফলে শিক্ষার্থীর পরিবারের মধ্যেও সচেতনতা বোধ জাগ্রত হবে। এ বয়সে শিশুরা পরীক্ষার জটিলতায় আবদ্ধ থাকলে তাদের মনে সর্বদা ভীতি কাজ করবে। ফলে সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশ ও সুষ্ঠু সামাজিকীকরণে বাধা থাকবে। তাই আমি মনে করি, প্রস্তাবিত শিক্ষাক্রমের এ বিষয়টি যুগান্তকারী একটি পদক্ষেপ।

দশম শ্রেণির আগে কোনো পাবলিক পরীক্ষা হবে না, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ১০টি অভিন্ন বিষয়ে পড়ানো হবে এবং কোনো গ্রুপ না রাখার বিষয়েও আমি একমত পোষণ করি।

শিক্ষার্থীদের একটি নির্দিষ্ট বিভাগে নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে আবদ্ধ রাখলে তারা শিক্ষিত হতে পারে, কিন্তু সুশিক্ষিত হতে পারে না। ফলে পরনির্ভশীলতার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত অভিন্ন পাঠদান হলে একজন শিক্ষার্থী সামগ্রিক জ্ঞান লাভে সক্ষম হবে এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ, ইতিহাস-ঐতিহ্য, শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি এবং স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে এই শিক্ষানীতির মাধ্যমে ভবিষৎ প্রজন্ম জানতে পারবে।

প্রতি শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় শিক্ষার্থীরা পাশের চিন্তায় শিক্ষকদের শরণাপন্ন হয়। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অনেক শিক্ষক কোচিং বাণিজ্য সম্প্রসারণ করেন।

প্রস্তাবিত শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের এরূপ সমস্যা অনেক লাঘব হবে। তবে প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ৫০ নম্বর যথাযথ হওয়ার বিষয়ে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। বিগত সময়ে পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষার তেমন কোনো প্রভাব পরিলক্ষিত হয়নি বলে আমি মনে করি। কারণ পিইসির জন্য প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা শুধু পঞ্চম শ্রেণিকে এবং জেএসসির জন্য মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা শুধু অষ্টম শ্রেণিকেই বেশি মূল্যায়ন করে থাকে বলে প্রাইভেট পড়ার হিড়িক পড়ে যায়। তাদের পূর্ববর্তী শ্রেণির শিক্ষার্থীদের যথাযথ জ্ঞান অর্জিত হয় না।

উচ্চমাধ্যমিক স্তরে দুবারে পরীক্ষা নেওয়াকে আমি যুগোপযোগী বলে মনে করি। বর্তমানে শিক্ষার্থীরা দুই বছরের পাঠ একসঙ্গে গোছাতে গিয়ে এইচএসসি পরীক্ষার আগে বিপাকে পড়ে এবং অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনে ব্যর্থ হয়। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের মাঝে উৎফুল্লতা বাড়বে এবং তারা প্রতিবছরের পাঠ প্রতিবছর যথাযথভাবে শেখার চেষ্টা করবে। কোনো কারণে প্রথম বর্ষের ফলাফল আশানুরূপ না হলে দ্বিতীয় বর্ষে ভালো ফলাফলের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। সরকার কর্তৃক গৃহীত শিক্ষাসংক্রান্ত এ যুগান্তকারী সংস্কার কার্যক্রমকে আমি আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই।

ড. মোহাম্মদ মোহেববুল্লাহ খান : অধ্যক্ষ, গৃদকালিন্দিয়া হাজেরা হাসমত বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, ফরিদগঞ্জ, চাঁদপুর

সংস্কারগুলো যুগান্তকারী

 ড. মোহাম্মদ মোহেববুল্লাহ খান 
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জাতীয় শিক্ষাক্রমের রূপরেখায় যেসব পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে, তা আধুনিক, বিজ্ঞানসম্মত এবং বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাওয়ার অন্যতম মাধ্যম বলে মনে করি। প্রস্তাবিত শিক্ষাক্রমে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষা না থাকার বিষয়ে আমি একমত।

আমার মতে, তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত শিশুরা তাদের চোখে দেখার গণ্ডি থেকে জ্ঞান আহরণ করবে। তাদের আহরিত জ্ঞানের পরিপূর্ণতার জন্য একদিকে শিক্ষকরা স্কুলে, অন্যদিকে অভিভাবকরা বাড়িতে ভূমিকা রাখবেন। ফলে শিক্ষার্থীর পরিবারের মধ্যেও সচেতনতা বোধ জাগ্রত হবে। এ বয়সে শিশুরা পরীক্ষার জটিলতায় আবদ্ধ থাকলে তাদের মনে সর্বদা ভীতি কাজ করবে। ফলে সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশ ও সুষ্ঠু সামাজিকীকরণে বাধা থাকবে। তাই আমি মনে করি, প্রস্তাবিত শিক্ষাক্রমের এ বিষয়টি যুগান্তকারী একটি পদক্ষেপ।

দশম শ্রেণির আগে কোনো পাবলিক পরীক্ষা হবে না, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ১০টি অভিন্ন বিষয়ে পড়ানো হবে এবং কোনো গ্রুপ না রাখার বিষয়েও আমি একমত পোষণ করি।

শিক্ষার্থীদের একটি নির্দিষ্ট বিভাগে নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে আবদ্ধ রাখলে তারা শিক্ষিত হতে পারে, কিন্তু সুশিক্ষিত হতে পারে না। ফলে পরনির্ভশীলতার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত অভিন্ন পাঠদান হলে একজন শিক্ষার্থী সামগ্রিক জ্ঞান লাভে সক্ষম হবে এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ, ইতিহাস-ঐতিহ্য, শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি এবং স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে এই শিক্ষানীতির মাধ্যমে ভবিষৎ প্রজন্ম জানতে পারবে।

প্রতি শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় শিক্ষার্থীরা পাশের চিন্তায় শিক্ষকদের শরণাপন্ন হয়। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অনেক শিক্ষক কোচিং বাণিজ্য সম্প্রসারণ করেন।

প্রস্তাবিত শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের এরূপ সমস্যা অনেক লাঘব হবে। তবে প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ৫০ নম্বর যথাযথ হওয়ার বিষয়ে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। বিগত সময়ে পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষার তেমন কোনো প্রভাব পরিলক্ষিত হয়নি বলে আমি মনে করি। কারণ পিইসির জন্য প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা শুধু পঞ্চম শ্রেণিকে এবং জেএসসির জন্য মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা শুধু অষ্টম শ্রেণিকেই বেশি মূল্যায়ন করে থাকে বলে প্রাইভেট পড়ার হিড়িক পড়ে যায়। তাদের পূর্ববর্তী শ্রেণির শিক্ষার্থীদের যথাযথ জ্ঞান অর্জিত হয় না।

উচ্চমাধ্যমিক স্তরে দুবারে পরীক্ষা নেওয়াকে আমি যুগোপযোগী বলে মনে করি। বর্তমানে শিক্ষার্থীরা দুই বছরের পাঠ একসঙ্গে গোছাতে গিয়ে এইচএসসি পরীক্ষার আগে বিপাকে পড়ে এবং অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনে ব্যর্থ হয়। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের মাঝে উৎফুল্লতা বাড়বে এবং তারা প্রতিবছরের পাঠ প্রতিবছর যথাযথভাবে শেখার চেষ্টা করবে। কোনো কারণে প্রথম বর্ষের ফলাফল আশানুরূপ না হলে দ্বিতীয় বর্ষে ভালো ফলাফলের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। সরকার কর্তৃক গৃহীত শিক্ষাসংক্রান্ত এ যুগান্তকারী সংস্কার কার্যক্রমকে আমি আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই।

ড. মোহাম্মদ মোহেববুল্লাহ খান : অধ্যক্ষ, গৃদকালিন্দিয়া হাজেরা হাসমত বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, ফরিদগঞ্জ, চাঁদপুর

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন