ডেঙ্গির প্রকোপ বৃদ্ধি: সব মহলকেই সচেতন হতে হবে
jugantor
ডেঙ্গির প্রকোপ বৃদ্ধি: সব মহলকেই সচেতন হতে হবে

  সম্পাদকীয়  

১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে করোনা পরিস্থিতি মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলা যায়। কিন্তু এ নিয়ন্ত্রণ সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফেরাতে পারছে না। কারণ করোনা আতঙ্কের জায়গা দখল করেছে ডেঙ্গি আতঙ্ক। থামছে না ডেঙ্গি সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি। জুলাইয়ের তুলনায় সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গি রোগীর সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে।

উদ্বেগের বিষয়ই বটে, গত ১৭ দিনে ডেঙ্গি রোগীর সংখ্যা ৫ হাজারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। সব মিলিয়ে জানুয়ারি থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সাড়ে ৮ মাসে ডেঙ্গি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৬৫-তে। ডেঙ্গি শনাক্তের পাশাপাশি বাড়ছে মৃত্যুও। চলতি বছরে এ পর্যন্ত ডেঙ্গি আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৫৭ জন। এর মধ্যে আগস্টে মারা গেছেন ৩৪ জন, জুলাইয়ে ১২ এবং চলতি মাসে এখন পর্যন্ত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

উল্লেখ করা যেতে পারে, ২০১৯ সালে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চসংখ্যক ডেঙ্গি রোগী শনাক্ত হয়। ওই বছর এই রোগে মারা গিয়েছিলেন ৩০০ জন। এ বছর ডেঙ্গি আক্রান্তের যে সংখ্যা বলা হচ্ছে, বাস্তবে তা আরও বেশি বলেই মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার। তার মতে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর শুধু নির্দিষ্ট হাসপাতালের তথ্যই গণমাধ্যমে প্রকাশ করছে, এর বাইরে অনেকে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন, যা সরকারি হিসাবে আসছে না।

ডেঙ্গি এখন ফি-বাৎসরিক একটি রোগের নাম। এর বড় কারণ হচ্ছে, এডিস মশা নির্মূলে বছরজুড়ে যে কর্মসূচি থাকার কথা, বাস্তবে তা থাকছে না। ডেঙ্গির প্রাদুর্ভাব শুরু হলেই শুধু সিটি করপোরেশনকে নড়েচড়ে বসতে দেখা যায়। অবশ্য এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে শুধু সিটি করপোরেশনকে দায়ী করা উচিত হবে না।

নাগরিক সমাজের সবাই যদি সচেতন না হন, তাহলে এডিস মশা নির্মূল সম্ভব নয়। দেখা গেছে, বসতবাড়ি ও আঙ্গিনায় জমে থাকা পানিতেই এডিসের বিস্তার হচ্ছে বেশি। আবার সম্প্রতি খুলে দেওয়া হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় এসব প্রতিষ্ঠানে এডিসের লার্ভা থাকার কথা। ফলে যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার আগে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়নি, সেগুলো অবশ্যই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ মাসজুড়েই বাড়তে পারে ডেঙ্গির প্রকোপ। তাই ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন ব্যবস্থা জোরদার করার কোনো বিকল্প নেই। জনগণকেও এ কাজে সম্পৃক্ত করতে হবে। বিশেষ করে নজর দিতে হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দিকে। সপ্তাহে অন্তত একদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিষ্কার করার পাশাপাশি সেগুলোয় মশার ওষুধ ছিটাতে হবে। আমরা আশা করব, ডেঙ্গি আক্রান্ত রোগীদের সুচিকিৎসা যেমন নিশ্চিত করা হবে, তেমনি এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে দুই সিটি করপোরেশন যথাসাধ্য চেষ্টা চালিয়ে যাবে।

ডেঙ্গির প্রকোপ বৃদ্ধি: সব মহলকেই সচেতন হতে হবে

 সম্পাদকীয় 
১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে করোনা পরিস্থিতি মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলা যায়। কিন্তু এ নিয়ন্ত্রণ সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফেরাতে পারছে না। কারণ করোনা আতঙ্কের জায়গা দখল করেছে ডেঙ্গি আতঙ্ক। থামছে না ডেঙ্গি সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি। জুলাইয়ের তুলনায় সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গি রোগীর সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে।

উদ্বেগের বিষয়ই বটে, গত ১৭ দিনে ডেঙ্গি রোগীর সংখ্যা ৫ হাজারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। সব মিলিয়ে জানুয়ারি থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সাড়ে ৮ মাসে ডেঙ্গি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৬৫-তে। ডেঙ্গি শনাক্তের পাশাপাশি বাড়ছে মৃত্যুও। চলতি বছরে এ পর্যন্ত ডেঙ্গি আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৫৭ জন। এর মধ্যে আগস্টে মারা গেছেন ৩৪ জন, জুলাইয়ে ১২ এবং চলতি মাসে এখন পর্যন্ত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

উল্লেখ করা যেতে পারে, ২০১৯ সালে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চসংখ্যক ডেঙ্গি রোগী শনাক্ত হয়। ওই বছর এই রোগে মারা গিয়েছিলেন ৩০০ জন। এ বছর ডেঙ্গি আক্রান্তের যে সংখ্যা বলা হচ্ছে, বাস্তবে তা আরও বেশি বলেই মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার। তার মতে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর শুধু নির্দিষ্ট হাসপাতালের তথ্যই গণমাধ্যমে প্রকাশ করছে, এর বাইরে অনেকে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন, যা সরকারি হিসাবে আসছে না।

ডেঙ্গি এখন ফি-বাৎসরিক একটি রোগের নাম। এর বড় কারণ হচ্ছে, এডিস মশা নির্মূলে বছরজুড়ে যে কর্মসূচি থাকার কথা, বাস্তবে তা থাকছে না। ডেঙ্গির প্রাদুর্ভাব শুরু হলেই শুধু সিটি করপোরেশনকে নড়েচড়ে বসতে দেখা যায়। অবশ্য এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে শুধু সিটি করপোরেশনকে দায়ী করা উচিত হবে না।

নাগরিক সমাজের সবাই যদি সচেতন না হন, তাহলে এডিস মশা নির্মূল সম্ভব নয়। দেখা গেছে, বসতবাড়ি ও আঙ্গিনায় জমে থাকা পানিতেই এডিসের বিস্তার হচ্ছে বেশি। আবার সম্প্রতি খুলে দেওয়া হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় এসব প্রতিষ্ঠানে এডিসের লার্ভা থাকার কথা। ফলে যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার আগে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়নি, সেগুলো অবশ্যই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ মাসজুড়েই বাড়তে পারে ডেঙ্গির প্রকোপ। তাই ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন ব্যবস্থা জোরদার করার কোনো বিকল্প নেই। জনগণকেও এ কাজে সম্পৃক্ত করতে হবে। বিশেষ করে নজর দিতে হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দিকে। সপ্তাহে অন্তত একদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিষ্কার করার পাশাপাশি সেগুলোয় মশার ওষুধ ছিটাতে হবে। আমরা আশা করব, ডেঙ্গি আক্রান্ত রোগীদের সুচিকিৎসা যেমন নিশ্চিত করা হবে, তেমনি এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে দুই সিটি করপোরেশন যথাসাধ্য চেষ্টা চালিয়ে যাবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন