টেকসই নদী শাসন জরুরি
jugantor
টেকসই নদী শাসন জরুরি

  আব্দুস সালাম  

১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

এদেশের মাটি অত্যন্ত উর্বর ও উৎপাদনমুখী, যার মূল কারণ বাংলার বুকে বয়ে চলা কয়েকশ নদী। মিঠা পানির বন্যা প্রতিবছর নদী তীরবর্তী জমিগুলোকে আরও উর্বর করে। নদীর প্রয়োজনীয়তা অনেক, কিন্তু এর প্রধান সমস্যা ভাঙন। ভাঙনের কারণে প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ ভিটেমাটি হারিয়ে রাস্তাঘাটে, পরের জমিতে কোনরকমে আশ্রয় নেন। অনেকে আবার সর্বস্ব হারিয়ে ভাসমান কচুরিপানার মতো শহর-বন্দরে পাড়ি দেন, যাদের প্রকৃত হিসাব সরকারি-বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানের নেই।

দেশে অতি ভাঙন সৃষ্টিকারী নদীর মধ্যে তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার, পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র উল্লেখযোগ্য। নদী ভাঙনের শিকার মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মতো লোক খুঁজে পাওয়া যায় না, যা পাওয়া যায় তা নামমাত্র। কখনো কখনো সহায়তার নামে মানুষের জীবনের সঙ্গে নাটক করা হয়। বিভিন্ন জায়গায় নদী রক্ষায় বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের কথা শোনা গেলেও বাস্তবে দৃশ্যমান কাজ চোখে পড়ে না। যেটুকু কাজ হয় তা আদৌ বিশেষজ্ঞ দ্বারা করা হয় কিনা সন্দেহ।

কারণ যেখানে যেভাবে প্রয়োজন সেভাবেই কাজ করতে হবে। নদী শাসনের প্রকল্পে অধিকাংশ জায়গায় বস্তা ফেলা হলেও তাতে সাময়িক সময়ের জন্য কিছু স্থান ভাঙন থেকে রক্ষা পায়; কিন্তু সেটা কোনো টেকসই সমাধান নয়। বাজেট হওয়ার পর যেনতেনভাবে অনভিজ্ঞ শ্রমিক দ্বারা বস্তা ফেলা হয়। নদী শাসন করতে চাইলে অবশ্যই নদীপথ সোজা করে দিতে হবে, আঁকাবাঁকা করে কাজ করলে সে কাজ স্থায়ী হবে না। কারণ নদীর কাজ বাঁকা পথে চলা আর দুকূল ভাঙা। নদী ভাঙন সমস্যার টেকসই সমাধানের জন্য Delta plan 2100 নামে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থাকলেও এর কাজ কতদিনে শুরু হবে আর কতদিনে ভাঙা কূলের জনসাধারণ উপকৃত হবে, তার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই।

সরকার যেহেতু ২০৪১ সালের মধ্যে দেশকে একটি প্রতিনিধিত্বশীল উন্নত রাষ্ট্র করতে ইচ্ছুক, সেহেতু নদী ভাঙন প্রতিরোধে টেকসই পরিকল্পনা অনুযায়ী দ্রুত কাজ করতে হবে, যাতে নতুন দরিদ্রের সংখ্যা না বাড়ে। নদী রক্ষা ও সম্পদের যথাযথ ব্যবহারে যেসব কার্যক্রম হাতে নেওয়া প্রয়োজন তা হলো- ১. বিভিন্ন নদীর ভাঙনের স্থান চিহ্নিতকরণ, ২. গবেষক কমিটি গঠন, যেখানে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের উপস্থিতি থাকবে, ৩. গবেষণা অনুযায়ী প্রকল্প সম্পাদন, ৪. ভাঙন অংশের পথ সরলীকরণ, ৫. বোল্ডার দ্বারা বাঁধ নির্মাণ, ৬. নির্দিষ্ট সময় পরপর পরিদর্শন ও ছোটখাটো সমস্যার দ্রুত সমাধান, ৭. প্রয়োজনে নদী খনন, ৮. ক্ষতিগ্রস্ত জনসাধারণের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং ৯. বন্যা নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা সৃষ্টিমূলক কার্যক্রম পরিচালনা এবং অধিক আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ করা।

রাষ্ট্রের কল্যাণের জন্য আমাদের ভবিষ্যৎ ভেবে কাজ করতে হবে। অন্যথায় একদিকে পুরোনো দারিদ্র্যের হার কমানোর প্রচেষ্টা, অন্যদিকে নতুন নতুন দারিদ্র্যের সৃষ্টি উন্নতির পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে। চলমান বৈশ্বিক প্রতিযোগিতামূলক পরিস্থিতিতে নিজেদের টিকে থাকার জন্য আমাদের টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনা করে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। তাহলেই আমরা ১৯৭১ সালের বীরদের ত্যাগের মর্যাদা দিতে সক্ষম হব।

আব্দুস সালাম : শিক্ষার্থী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর

টেকসই নদী শাসন জরুরি

 আব্দুস সালাম 
১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

এদেশের মাটি অত্যন্ত উর্বর ও উৎপাদনমুখী, যার মূল কারণ বাংলার বুকে বয়ে চলা কয়েকশ নদী। মিঠা পানির বন্যা প্রতিবছর নদী তীরবর্তী জমিগুলোকে আরও উর্বর করে। নদীর প্রয়োজনীয়তা অনেক, কিন্তু এর প্রধান সমস্যা ভাঙন। ভাঙনের কারণে প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ ভিটেমাটি হারিয়ে রাস্তাঘাটে, পরের জমিতে কোনরকমে আশ্রয় নেন। অনেকে আবার সর্বস্ব হারিয়ে ভাসমান কচুরিপানার মতো শহর-বন্দরে পাড়ি দেন, যাদের প্রকৃত হিসাব সরকারি-বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানের নেই।

দেশে অতি ভাঙন সৃষ্টিকারী নদীর মধ্যে তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার, পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র উল্লেখযোগ্য। নদী ভাঙনের শিকার মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মতো লোক খুঁজে পাওয়া যায় না, যা পাওয়া যায় তা নামমাত্র। কখনো কখনো সহায়তার নামে মানুষের জীবনের সঙ্গে নাটক করা হয়। বিভিন্ন জায়গায় নদী রক্ষায় বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের কথা শোনা গেলেও বাস্তবে দৃশ্যমান কাজ চোখে পড়ে না। যেটুকু কাজ হয় তা আদৌ বিশেষজ্ঞ দ্বারা করা হয় কিনা সন্দেহ।

কারণ যেখানে যেভাবে প্রয়োজন সেভাবেই কাজ করতে হবে। নদী শাসনের প্রকল্পে অধিকাংশ জায়গায় বস্তা ফেলা হলেও তাতে সাময়িক সময়ের জন্য কিছু স্থান ভাঙন থেকে রক্ষা পায়; কিন্তু সেটা কোনো টেকসই সমাধান নয়। বাজেট হওয়ার পর যেনতেনভাবে অনভিজ্ঞ শ্রমিক দ্বারা বস্তা ফেলা হয়। নদী শাসন করতে চাইলে অবশ্যই নদীপথ সোজা করে দিতে হবে, আঁকাবাঁকা করে কাজ করলে সে কাজ স্থায়ী হবে না। কারণ নদীর কাজ বাঁকা পথে চলা আর দুকূল ভাঙা। নদী ভাঙন সমস্যার টেকসই সমাধানের জন্য Delta plan 2100 নামে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থাকলেও এর কাজ কতদিনে শুরু হবে আর কতদিনে ভাঙা কূলের জনসাধারণ উপকৃত হবে, তার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই।

সরকার যেহেতু ২০৪১ সালের মধ্যে দেশকে একটি প্রতিনিধিত্বশীল উন্নত রাষ্ট্র করতে ইচ্ছুক, সেহেতু নদী ভাঙন প্রতিরোধে টেকসই পরিকল্পনা অনুযায়ী দ্রুত কাজ করতে হবে, যাতে নতুন দরিদ্রের সংখ্যা না বাড়ে। নদী রক্ষা ও সম্পদের যথাযথ ব্যবহারে যেসব কার্যক্রম হাতে নেওয়া প্রয়োজন তা হলো- ১. বিভিন্ন নদীর ভাঙনের স্থান চিহ্নিতকরণ, ২. গবেষক কমিটি গঠন, যেখানে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের উপস্থিতি থাকবে, ৩. গবেষণা অনুযায়ী প্রকল্প সম্পাদন, ৪. ভাঙন অংশের পথ সরলীকরণ, ৫. বোল্ডার দ্বারা বাঁধ নির্মাণ, ৬. নির্দিষ্ট সময় পরপর পরিদর্শন ও ছোটখাটো সমস্যার দ্রুত সমাধান, ৭. প্রয়োজনে নদী খনন, ৮. ক্ষতিগ্রস্ত জনসাধারণের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং ৯. বন্যা নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা সৃষ্টিমূলক কার্যক্রম পরিচালনা এবং অধিক আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ করা।

রাষ্ট্রের কল্যাণের জন্য আমাদের ভবিষ্যৎ ভেবে কাজ করতে হবে। অন্যথায় একদিকে পুরোনো দারিদ্র্যের হার কমানোর প্রচেষ্টা, অন্যদিকে নতুন নতুন দারিদ্র্যের সৃষ্টি উন্নতির পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে। চলমান বৈশ্বিক প্রতিযোগিতামূলক পরিস্থিতিতে নিজেদের টিকে থাকার জন্য আমাদের টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনা করে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। তাহলেই আমরা ১৯৭১ সালের বীরদের ত্যাগের মর্যাদা দিতে সক্ষম হব।

আব্দুস সালাম : শিক্ষার্থী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন