১৬১ ইউপিতে ভোট
jugantor
১৬১ ইউপিতে ভোট
ইসির সামনে ভালো দৃষ্টান্ত স্থাপনের সুযোগ

  সম্পাদকীয়  

২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের ২৩ উপজেলার ১৬১টি ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) আজ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ১১টি ইউপিতে ইভিএম ও বাকি ১৫০টিতে ব্যালট পেপারে ভোটগ্রহণের কথা রয়েছে। এছাড়া ৯টি পৌরসভা ও সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান, কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান এবং মাদারীপুরের কালকিনি ও পাবনার ভাঙ্গুরা পৌরসভার একটি করে ওয়ার্ডে ভোটগ্রহণ করা হবে। উল্লিখিত ১৬১টি ইউপি নির্বাচন ঘিরে বেশ কয়েকটি এলাকায় সহিংসতার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে অন্তত চারজন জেলা প্রশাসকের চাহিদার ভিত্তিতে সেখানকার কয়েকটি ইউপিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাড়তি সদস্য মোতায়েন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

উল্লেখ্য, গত ১১ এপ্রিল ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করে ৪ মার্চ প্রথম ধাপের ৩৭১টি ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছিল ইসি; কিন্তু করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে দুই দফায় স্থগিত হয়ে তফসিল ঘোষণার ছয় মাসেরও বেশি সময় পরে এসব ইউপি ও পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ইতঃপূর্বে প্রচার-প্রচারণা চলাকালে কয়েকটি ইউপিতে নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর ও প্রচারে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি। অবশ্য সহিংসতার তেমন কোনো তথ্য নির্বাচন কমিশনের কাছে নেই জানিয়ে তারা শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণের আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। বস্তুত আমাদের প্রত্যাশাও তাই। সন্দেহ নেই, আজকের নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত করা সম্ভব হলে এটি দেশের সবচেয়ে বড় স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ইউপি নির্বাচনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে, যা সবার কাম্য।

সাধারণত নির্বাচনী আচরণবিধি লংঘনসহ সহিংসতার ঘটনায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রভাবশালীরা সম্পৃক্ত থাকেন। ফলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে সেখানকার প্রশাসনের মধ্যে খুব একটা আগ্রহ লক্ষ করা যায় না। এ প্রবণতা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পক্ষে সহায়ক নয়, তা বলাই বাহুল্য। ইউনিয়ন পরিষদ (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা, ২০১৬-এর ৩১ বিধি অনুসারে, আচরণবিধি লংঘনের দায়ে ৬ মাস কারাদণ্ড অথবা ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। আচরণবিধি লংঘনের ঘটনায় কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে ব্যর্থ হলে নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতা ও অরাজকতা ব্যাপক আকার ধারণ করতে পারে। কাজেই এক্ষেত্রে যথাযথ প্রস্তুতি থাকা দরকার। ২০১৬ সালে দেশে প্রথমবারের মতো দলীয় ভিত্তিতে ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত হওয়ার পর দেশের স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞরা সে সময় নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতা ও অনিয়ম বিগত দিনের নির্বাচনগুলোর চেয়ে অনেক বেশি হবে বলে ভবিষ্যৎ বাণী করেছিলেন। তাদের আশঙ্কা যে অমূলক ছিল না, তখন নির্বাচনকেন্দ্রিক ব্যাপক সহিংসতা, অনিয়ম ও প্রাণহানি ঘটনায় তার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল। অতীতের সে ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয়, এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাড়তি মনোযোগ থাকা জরুরি।

এ কথা সত্য, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন এক বিশাল কর্মযজ্ঞ। এ কর্মযজ্ঞে প্রতিটি অনিয়ম-বিশৃঙ্খলা এবং পর্দার অন্তরালে সংঘটিত সব ঘটনার সমাধান দেওয়া অতি দুরূহ কাজ। তবে মোটা দাগে অনিয়ম ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা রোধ করা অসম্ভব কিছু নয়। নির্বাচন কমিশন তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনে ব্যর্থ হলে সাংবিধানিক এ প্রতিষ্ঠানটির প্রতি মানুষের আস্থা বলতে কিছু আর অবশিষ্ট থাকবে না। আমরা আশা করব, ইউপি নির্বাচনে সচরাচর সংঘটিত অনিয়ম ও ব্যাপক সহিংসতার কথা মাথায় রেখে আজকের নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত করার মাধ্যমে মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রাক্কালে ইসি দেশবাসীর সামনে একটি ভালো দৃষ্টান্ত স্থাপনে সক্ষম হবে।

১৬১ ইউপিতে ভোট

ইসির সামনে ভালো দৃষ্টান্ত স্থাপনের সুযোগ
 সম্পাদকীয় 
২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের ২৩ উপজেলার ১৬১টি ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) আজ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ১১টি ইউপিতে ইভিএম ও বাকি ১৫০টিতে ব্যালট পেপারে ভোটগ্রহণের কথা রয়েছে। এছাড়া ৯টি পৌরসভা ও সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান, কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান এবং মাদারীপুরের কালকিনি ও পাবনার ভাঙ্গুরা পৌরসভার একটি করে ওয়ার্ডে ভোটগ্রহণ করা হবে। উল্লিখিত ১৬১টি ইউপি নির্বাচন ঘিরে বেশ কয়েকটি এলাকায় সহিংসতার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে অন্তত চারজন জেলা প্রশাসকের চাহিদার ভিত্তিতে সেখানকার কয়েকটি ইউপিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাড়তি সদস্য মোতায়েন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

উল্লেখ্য, গত ১১ এপ্রিল ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করে ৪ মার্চ প্রথম ধাপের ৩৭১টি ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছিল ইসি; কিন্তু করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে দুই দফায় স্থগিত হয়ে তফসিল ঘোষণার ছয় মাসেরও বেশি সময় পরে এসব ইউপি ও পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ইতঃপূর্বে প্রচার-প্রচারণা চলাকালে কয়েকটি ইউপিতে নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর ও প্রচারে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি। অবশ্য সহিংসতার তেমন কোনো তথ্য নির্বাচন কমিশনের কাছে নেই জানিয়ে তারা শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণের আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। বস্তুত আমাদের প্রত্যাশাও তাই। সন্দেহ নেই, আজকের নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত করা সম্ভব হলে এটি দেশের সবচেয়ে বড় স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ইউপি নির্বাচনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে, যা সবার কাম্য।

সাধারণত নির্বাচনী আচরণবিধি লংঘনসহ সহিংসতার ঘটনায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রভাবশালীরা সম্পৃক্ত থাকেন। ফলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে সেখানকার প্রশাসনের মধ্যে খুব একটা আগ্রহ লক্ষ করা যায় না। এ প্রবণতা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পক্ষে সহায়ক নয়, তা বলাই বাহুল্য। ইউনিয়ন পরিষদ (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা, ২০১৬-এর ৩১ বিধি অনুসারে, আচরণবিধি লংঘনের দায়ে ৬ মাস কারাদণ্ড অথবা ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। আচরণবিধি লংঘনের ঘটনায় কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে ব্যর্থ হলে নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতা ও অরাজকতা ব্যাপক আকার ধারণ করতে পারে। কাজেই এক্ষেত্রে যথাযথ প্রস্তুতি থাকা দরকার। ২০১৬ সালে দেশে প্রথমবারের মতো দলীয় ভিত্তিতে ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত হওয়ার পর দেশের স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞরা সে সময় নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতা ও অনিয়ম বিগত দিনের নির্বাচনগুলোর চেয়ে অনেক বেশি হবে বলে ভবিষ্যৎ বাণী করেছিলেন। তাদের আশঙ্কা যে অমূলক ছিল না, তখন নির্বাচনকেন্দ্রিক ব্যাপক সহিংসতা, অনিয়ম ও প্রাণহানি ঘটনায় তার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল। অতীতের সে ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয়, এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাড়তি মনোযোগ থাকা জরুরি।

এ কথা সত্য, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন এক বিশাল কর্মযজ্ঞ। এ কর্মযজ্ঞে প্রতিটি অনিয়ম-বিশৃঙ্খলা এবং পর্দার অন্তরালে সংঘটিত সব ঘটনার সমাধান দেওয়া অতি দুরূহ কাজ। তবে মোটা দাগে অনিয়ম ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা রোধ করা অসম্ভব কিছু নয়। নির্বাচন কমিশন তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনে ব্যর্থ হলে সাংবিধানিক এ প্রতিষ্ঠানটির প্রতি মানুষের আস্থা বলতে কিছু আর অবশিষ্ট থাকবে না। আমরা আশা করব, ইউপি নির্বাচনে সচরাচর সংঘটিত অনিয়ম ও ব্যাপক সহিংসতার কথা মাথায় রেখে আজকের নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত করার মাধ্যমে মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রাক্কালে ইসি দেশবাসীর সামনে একটি ভালো দৃষ্টান্ত স্থাপনে সক্ষম হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন