মানি লন্ডারিং প্রতিরোধের উদ্যোগ
jugantor
মানি লন্ডারিং প্রতিরোধের উদ্যোগ
সব ছিদ্রই বন্ধ করতে হবে

  সম্পাদকীয়  

২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অর্থ পাচার প্রতিরোধে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১ কোটি ৩৪ লাখ নগদ লেনদেন এবং ৩ হাজার ৩০২ সন্দেহজনক লেনদেন পর্যালোচনা করছে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট (বিএফআইইউ)। এরই মধ্যে পর্যালোচনা করে যেসব লেনদেনের ঘটনা প্রয়োজন মনে করা হয়েছে, সেগুলোর তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। এটি অর্থ পাচার প্রতিরোধের একটি কার্যকর পন্থা বটে; তবে একমাত্র পন্থা নয়। ইতঃপূর্বে ওয়াশিংটনভিত্তিক গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটির (জিএফআই) প্রতিবেদনে বাংলাদেশ থেকে চারটি প্রক্রিয়ায় অর্থ পাচারের কথা বলা হয়েছে। এগুলো হল-বিদেশ থেকে পণ্য আমদানি মূল্য বেশি দেখানো (ওভার ইনভয়েসিং), রফতানিতে মূল্য কম দেখানো (আন্ডার ইনভয়েসিং), হুন্ডি ও অন্যান্য মাধ্যমে বিদেশে লেনদেন এবং ভিওআইপি ব্যবসা। এছাড়া অভিযোগ আছে, একটি চক্র বৈদেশিক মুদ্রায় প্রবাসীদের রেমিট্যান্স সংগ্রহ করে তা বিদেশেই রেখে দেয়, আর দেশে দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত টাকায় এর দায় শোধ করা হয়। আমাদের ধারণা, এসব ছাড়াও আরও নানাভাবে অর্থ পাচার হচ্ছে। পাচারের ছিদ্রগুলো সঠিকভাবে চিহ্নিত করে তা বন্ধের পদক্ষেপ নেওয়া গেলে রোধ হতে পারে অর্থ পাচার। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে তৎপর হতে হবে এবং নজরদারি বাড়াতে হবে। এসব ক্ষেত্রে সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকাটাও জরুরি বটে।

দেশ থেকে অর্থ পাচার যে অব্যাহত আছে, তা নানাভাবেই প্রকাশ পাচ্ছে। শুধু অব্যাহত আছে তাই নয়, যে হারে অর্থ পাচার হচ্ছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সর্বশেষ জিএআই প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ সালে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৫ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। এই বিপুল অঙ্কের অর্থের পাচার রোধ করা গেলে দেশ কতটা উপকৃত হতে পারত তা সহজেই অনুমেয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, করোনাকালে বিদেশে অর্থ পাচার কমেছিল। তবে করোনা পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে আসায় অর্থ পাচার আবার বেড়েছে। এর একটি বড় লক্ষণ হলো সাম্প্রতিক সময়ে বৈধভাবে বিদেশ থেকে আসা রেমিট্যান্স কমে যাওয়া। এতে ধারণা করা হচ্ছে, হুন্ডি ব্যবস্থা শক্তিশালী হচ্ছে, যার মাধ্যমে অর্থ পাচারও বাড়ছে। কাজেই অর্থ পাচার রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি হয়ে উঠেছে। সেক্ষেত্রে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে মোটা অঙ্কের নগদ ও সন্দেহজনক লেনদেন একটি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত অবশ্যই। তবে এ ক্ষেত্রে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে সংশ্লিষ্টদের।

মনে রাখতে হবে, বিদেশে পাচার হয়ে যাওয়া অর্থের বড় অংশই দুর্নীতির টাকা। কাজেই অর্থ পাচার রোধের পদক্ষেপের পাশাপাশি দুর্নীতির লাগামও টেনে ধরতে হবে শক্ত হাতে। সেই সঙ্গে দেশে বিনিয়োগ পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে হবে। কারণ যে অর্থ পাচার হয়ে যায়, দেশে বিনিয়োগের পরিবেশ ভালো থাকলে সেই অর্থ দেশেই বিনিয়োজিত হতো। এর ফলে নতুন নতুন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠত, বাড়ত কর্মসংস্থানের সুযোগ। কাজেই অর্থ পাচার রোধে বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য হওয়া উচিত।

মানি লন্ডারিং প্রতিরোধের উদ্যোগ

সব ছিদ্রই বন্ধ করতে হবে
 সম্পাদকীয় 
২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অর্থ পাচার প্রতিরোধে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১ কোটি ৩৪ লাখ নগদ লেনদেন এবং ৩ হাজার ৩০২ সন্দেহজনক লেনদেন পর্যালোচনা করছে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট (বিএফআইইউ)। এরই মধ্যে পর্যালোচনা করে যেসব লেনদেনের ঘটনা প্রয়োজন মনে করা হয়েছে, সেগুলোর তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। এটি অর্থ পাচার প্রতিরোধের একটি কার্যকর পন্থা বটে; তবে একমাত্র পন্থা নয়। ইতঃপূর্বে ওয়াশিংটনভিত্তিক গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটির (জিএফআই) প্রতিবেদনে বাংলাদেশ থেকে চারটি প্রক্রিয়ায় অর্থ পাচারের কথা বলা হয়েছে। এগুলো হল-বিদেশ থেকে পণ্য আমদানি মূল্য বেশি দেখানো (ওভার ইনভয়েসিং), রফতানিতে মূল্য কম দেখানো (আন্ডার ইনভয়েসিং), হুন্ডি ও অন্যান্য মাধ্যমে বিদেশে লেনদেন এবং ভিওআইপি ব্যবসা। এছাড়া অভিযোগ আছে, একটি চক্র বৈদেশিক মুদ্রায় প্রবাসীদের রেমিট্যান্স সংগ্রহ করে তা বিদেশেই রেখে দেয়, আর দেশে দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত টাকায় এর দায় শোধ করা হয়। আমাদের ধারণা, এসব ছাড়াও আরও নানাভাবে অর্থ পাচার হচ্ছে। পাচারের ছিদ্রগুলো সঠিকভাবে চিহ্নিত করে তা বন্ধের পদক্ষেপ নেওয়া গেলে রোধ হতে পারে অর্থ পাচার। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে তৎপর হতে হবে এবং নজরদারি বাড়াতে হবে। এসব ক্ষেত্রে সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকাটাও জরুরি বটে।

দেশ থেকে অর্থ পাচার যে অব্যাহত আছে, তা নানাভাবেই প্রকাশ পাচ্ছে। শুধু অব্যাহত আছে তাই নয়, যে হারে অর্থ পাচার হচ্ছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সর্বশেষ জিএআই প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ সালে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৫ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। এই বিপুল অঙ্কের অর্থের পাচার রোধ করা গেলে দেশ কতটা উপকৃত হতে পারত তা সহজেই অনুমেয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, করোনাকালে বিদেশে অর্থ পাচার কমেছিল। তবে করোনা পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে আসায় অর্থ পাচার আবার বেড়েছে। এর একটি বড় লক্ষণ হলো সাম্প্রতিক সময়ে বৈধভাবে বিদেশ থেকে আসা রেমিট্যান্স কমে যাওয়া। এতে ধারণা করা হচ্ছে, হুন্ডি ব্যবস্থা শক্তিশালী হচ্ছে, যার মাধ্যমে অর্থ পাচারও বাড়ছে। কাজেই অর্থ পাচার রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি হয়ে উঠেছে। সেক্ষেত্রে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে মোটা অঙ্কের নগদ ও সন্দেহজনক লেনদেন একটি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত অবশ্যই। তবে এ ক্ষেত্রে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে সংশ্লিষ্টদের।

মনে রাখতে হবে, বিদেশে পাচার হয়ে যাওয়া অর্থের বড় অংশই দুর্নীতির টাকা। কাজেই অর্থ পাচার রোধের পদক্ষেপের পাশাপাশি দুর্নীতির লাগামও টেনে ধরতে হবে শক্ত হাতে। সেই সঙ্গে দেশে বিনিয়োগ পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে হবে। কারণ যে অর্থ পাচার হয়ে যায়, দেশে বিনিয়োগের পরিবেশ ভালো থাকলে সেই অর্থ দেশেই বিনিয়োজিত হতো। এর ফলে নতুন নতুন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠত, বাড়ত কর্মসংস্থানের সুযোগ। কাজেই অর্থ পাচার রোধে বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য হওয়া উচিত।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন