অনলাইনে রাজউকের সেবা
jugantor
অনলাইনে রাজউকের সেবা
কাজে স্বচ্ছতা ও গতি আসুক

  সম্পাদকীয়  

২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের যেসব সেবা প্রতিষ্ঠানের ওপর মানুষ বেশি নির্ভরশীল; বলা হয়ে থাকে, সেসব প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম-দুর্নীতি তত বেশি। অভিযোগ আছে, কোনো নির্মাণ কাজের ক্ষেত্রেও সেবাপ্রার্থীকে পদে পদে ঘুষ দিতে হয়। এ ক্ষেত্রে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বিগত সময়ে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও রাজউকের কাজে জনগণের ভোগান্তি কমেনি। জনগণের ভোগান্তি কমানোর লক্ষ্যে সরকার এ প্রতিষ্ঠানে কাগজবিহীন সেবা পদ্ধতি প্রবর্তনের যে উদ্যোগ নিয়েছে তা ইতিবাচক। উল্লেখ্য, আগামী ছয় মাসের মধ্যে ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র, নকশা অনুমোদন ও অকুপেন্সি সনদসহ (ব্যবহার অনুমোদন) সেবা কার্যক্রম শতভাগ অনলাইনে পরিচালনা করার ঘোষণা দিয়েছে রাজউক। রোববার অবকাঠামো নির্মাণ ও নগর পরিকল্পনায় ভূমিকম্প ঝুঁকি প্রশমনে বাংলাদেশে ‘ইলেকট্রনিক কনস্ট্রাকশন পারমিটিং (ইসিপি) সিস্টেমের’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, গ্রাহকসেবার মান বৃদ্ধি এবং দুর্ভোগ কমাতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসরণ করে কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। এরই অংশ হিসাবে রাজউকে কাগজবিহীন সেবা পদ্ধতি প্রবর্তনের কাজ শুরু করা হয়েছে।

রাজউকের সেবা কার্যক্রম সহজ করার এ উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। জানা গেছে, একজন সেবাপ্রার্থী বাসায় বসে ভবনের ছাড়পত্র, নকশা অনুমোদন, অকুপেন্সি সনদ এবং অন্যান্য সেবাপ্রাপ্তির আবেদন করে অনলাইনে ফিও পরিশোধ করতে পারবেন। ইতোমধ্যে ভূমি ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মানুষ আশা করছে, এর ফলে হয়রানি কমবে এবং নতুন পদক্ষেপ দুর্নীতি নিরসনে সহায়ক হবে। কাগজবিহীন অনলাইন সেবা চালু হওয়ায় রাজউকের কর্মকাণ্ডে গতি আসার বিষয়টি প্রত্যাশিত। তবে নতুন পদ্ধতি প্রবর্তনের ফলে নাগরিক দুর্ভোগ কমবে কিনা এটাই বড় প্রশ্ন। নতুন পদ্ধতির ফলে রাজউকের কর্মকতা-কর্মচারীদের মনোভাবে কী পরিবর্তন আসবে, এটাও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বস্তুত পরিকল্পিত নগরায়নে রাজউক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিল্ডিং কোড, ইমারত নির্মাণ বিধিমালা যথাযথ অনুসরণ না করে অতীতে রাজধানীতে বহু ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। আগামীতে যেন তা না ঘটে সেজন্য রাজউকসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। ভবনের নকশা প্রণয়ন ও অনুমোদনসহ কোনো ক্ষেত্রে যাতে কোনোরকম অনিয়ম না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে জনসাধারণের মানসিকতায়ও পরিবর্তন আনতে হবে। প্রতিষ্ঠানের কর্মকতা-কর্মচারীর মানসিকতায় পরিবর্তন না এলে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলবে কিনা, সে বিষয়ে সন্দেহ থেকেই যায়।

অনলাইনে রাজউকের সেবা

কাজে স্বচ্ছতা ও গতি আসুক
 সম্পাদকীয় 
২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের যেসব সেবা প্রতিষ্ঠানের ওপর মানুষ বেশি নির্ভরশীল; বলা হয়ে থাকে, সেসব প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম-দুর্নীতি তত বেশি। অভিযোগ আছে, কোনো নির্মাণ কাজের ক্ষেত্রেও সেবাপ্রার্থীকে পদে পদে ঘুষ দিতে হয়। এ ক্ষেত্রে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বিগত সময়ে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও রাজউকের কাজে জনগণের ভোগান্তি কমেনি। জনগণের ভোগান্তি কমানোর লক্ষ্যে সরকার এ প্রতিষ্ঠানে কাগজবিহীন সেবা পদ্ধতি প্রবর্তনের যে উদ্যোগ নিয়েছে তা ইতিবাচক। উল্লেখ্য, আগামী ছয় মাসের মধ্যে ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র, নকশা অনুমোদন ও অকুপেন্সি সনদসহ (ব্যবহার অনুমোদন) সেবা কার্যক্রম শতভাগ অনলাইনে পরিচালনা করার ঘোষণা দিয়েছে রাজউক। রোববার অবকাঠামো নির্মাণ ও নগর পরিকল্পনায় ভূমিকম্প ঝুঁকি প্রশমনে বাংলাদেশে ‘ইলেকট্রনিক কনস্ট্রাকশন পারমিটিং (ইসিপি) সিস্টেমের’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, গ্রাহকসেবার মান বৃদ্ধি এবং দুর্ভোগ কমাতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসরণ করে কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। এরই অংশ হিসাবে রাজউকে কাগজবিহীন সেবা পদ্ধতি প্রবর্তনের কাজ শুরু করা হয়েছে।

রাজউকের সেবা কার্যক্রম সহজ করার এ উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। জানা গেছে, একজন সেবাপ্রার্থী বাসায় বসে ভবনের ছাড়পত্র, নকশা অনুমোদন, অকুপেন্সি সনদ এবং অন্যান্য সেবাপ্রাপ্তির আবেদন করে অনলাইনে ফিও পরিশোধ করতে পারবেন। ইতোমধ্যে ভূমি ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মানুষ আশা করছে, এর ফলে হয়রানি কমবে এবং নতুন পদক্ষেপ দুর্নীতি নিরসনে সহায়ক হবে। কাগজবিহীন অনলাইন সেবা চালু হওয়ায় রাজউকের কর্মকাণ্ডে গতি আসার বিষয়টি প্রত্যাশিত। তবে নতুন পদ্ধতি প্রবর্তনের ফলে নাগরিক দুর্ভোগ কমবে কিনা এটাই বড় প্রশ্ন। নতুন পদ্ধতির ফলে রাজউকের কর্মকতা-কর্মচারীদের মনোভাবে কী পরিবর্তন আসবে, এটাও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বস্তুত পরিকল্পিত নগরায়নে রাজউক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিল্ডিং কোড, ইমারত নির্মাণ বিধিমালা যথাযথ অনুসরণ না করে অতীতে রাজধানীতে বহু ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। আগামীতে যেন তা না ঘটে সেজন্য রাজউকসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। ভবনের নকশা প্রণয়ন ও অনুমোদনসহ কোনো ক্ষেত্রে যাতে কোনোরকম অনিয়ম না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে জনসাধারণের মানসিকতায়ও পরিবর্তন আনতে হবে। প্রতিষ্ঠানের কর্মকতা-কর্মচারীর মানসিকতায় পরিবর্তন না এলে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলবে কিনা, সে বিষয়ে সন্দেহ থেকেই যায়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন