ইউপি নির্বাচনে সহিংসতা: শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে
jugantor
ইউপি নির্বাচনে সহিংসতা: শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে

  সম্পাদকীয়  

২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বড় সব দল অংশ না নেওয়া সত্ত্বেও প্রথম ধাপের স্থগিত ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচনে সহিংস ঘটনা ঘটেছে। বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ, গোলাগুলি, ধাওয়া-পালটা ধাওয়া, কেন্দ্র দখল আর জাল ভোটের মধ্য দিয়ে সোমবার অনুষ্ঠিত হয়েছে ১৬০ ইউপির ভোটগ্রহণ। এসব ঘটনায় তিন ব্যক্তি নিহত হয়েছেন-দুজন ভোটগ্রহণ চলাকালে এবং একজন আগের রাতে দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে। আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক।

এছাড়া একইদিন ৯ পৌরসভা, দুটি উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান এবং দুটি পৌরসভার একটি করে ওয়ার্ডে ভোটগ্রহণ হয়েছে। তবে সেসব নির্বাচনে বড় ধরনের সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ রাখার দায়িত্ব মূলত নির্বাচন কমিশনের (ইসি)। তাই বলা যায়, বর্তমান ইসি মেয়াদের শেষ পর্যায়ে এসেও জাতিকে একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দিতে পারল না। এটি পরিতাপের বিষয়। তারপরও ইসি সচিব বলেছেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে।

এটি ঠিক, ইউপি নির্বাচন দলীয় ভিত্তিতে হলেও নির্বাচনী প্রচারণা সব ক্ষেত্রে দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। নির্বাচনী প্রচারণাকালে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও উত্তেজনা দেখা দেয়। নির্বাচিত হওয়ার জন্য প্রার্থী ও সমর্থকদের মরিয়া চেষ্টা শেষ পর্যন্ত রূপ নেয় সহিংসতায়।

এ কারণে নির্বাচনের আগে সহিংসতা রোধে পর্যাপ্ত নিরাপত্তামূলক প্রস্তুতি নেওয়া উচিত। সব নির্বাচনই শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হোক-এটাই সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নিশ্চিন্ত মনে ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট প্রদান করতে পারলে তাতে গণতন্ত্রের সৌন্দর্য প্রকাশ পায়। কিন্তু দুঃখজনক হলো, আমাদের দেশের নির্বাচনগুলো শতভাগ সহিংসতামুক্ত হতে পারছে না। বস্তুত রাজনৈতিক সংস্কৃতির নিম্নমানই নির্বাচনে সহিংসতার মূল কারণ।

স্থানীয় সরকার থেকে শুরু করে জাতীয় নির্বাচন-প্রতিটিতেই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব অপরিসীম। সামনের দিনগুলোতে অনুষ্ঠেয় স্থানীয় পর্যায়ের বাকি ধাপের নির্বাচনগুলো যাতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হতে পারে, সেদিকে ইসি ও রাজনৈতিক দলগুলোকে বিশেষ নজর দিতে হবে।

ইসিকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে। প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকদেরও নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলতে হবে। মনে রাখতে হবে, নির্বাচন কমিশনের একার পক্ষে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান করা সম্ভব নয়। বস্তুত নির্বাচনের সব অংশীজনকেই উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিচয় দিতে হবে।

ইউপি নির্বাচনে সহিংসতা: শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে

 সম্পাদকীয় 
২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বড় সব দল অংশ না নেওয়া সত্ত্বেও প্রথম ধাপের স্থগিত ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচনে সহিংস ঘটনা ঘটেছে। বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ, গোলাগুলি, ধাওয়া-পালটা ধাওয়া, কেন্দ্র দখল আর জাল ভোটের মধ্য দিয়ে সোমবার অনুষ্ঠিত হয়েছে ১৬০ ইউপির ভোটগ্রহণ। এসব ঘটনায় তিন ব্যক্তি নিহত হয়েছেন-দুজন ভোটগ্রহণ চলাকালে এবং একজন আগের রাতে দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে। আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক।

এছাড়া একইদিন ৯ পৌরসভা, দুটি উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান এবং দুটি পৌরসভার একটি করে ওয়ার্ডে ভোটগ্রহণ হয়েছে। তবে সেসব নির্বাচনে বড় ধরনের সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ রাখার দায়িত্ব মূলত নির্বাচন কমিশনের (ইসি)। তাই বলা যায়, বর্তমান ইসি মেয়াদের শেষ পর্যায়ে এসেও জাতিকে একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দিতে পারল না। এটি পরিতাপের বিষয়। তারপরও ইসি সচিব বলেছেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে।

এটি ঠিক, ইউপি নির্বাচন দলীয় ভিত্তিতে হলেও নির্বাচনী প্রচারণা সব ক্ষেত্রে দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। নির্বাচনী প্রচারণাকালে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও উত্তেজনা দেখা দেয়। নির্বাচিত হওয়ার জন্য প্রার্থী ও সমর্থকদের মরিয়া চেষ্টা শেষ পর্যন্ত রূপ নেয় সহিংসতায়।

এ কারণে নির্বাচনের আগে সহিংসতা রোধে পর্যাপ্ত নিরাপত্তামূলক প্রস্তুতি নেওয়া উচিত। সব নির্বাচনই শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হোক-এটাই সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নিশ্চিন্ত মনে ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট প্রদান করতে পারলে তাতে গণতন্ত্রের সৌন্দর্য প্রকাশ পায়। কিন্তু দুঃখজনক হলো, আমাদের দেশের নির্বাচনগুলো শতভাগ সহিংসতামুক্ত হতে পারছে না। বস্তুত রাজনৈতিক সংস্কৃতির নিম্নমানই নির্বাচনে সহিংসতার মূল কারণ।

স্থানীয় সরকার থেকে শুরু করে জাতীয় নির্বাচন-প্রতিটিতেই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব অপরিসীম। সামনের দিনগুলোতে অনুষ্ঠেয় স্থানীয় পর্যায়ের বাকি ধাপের নির্বাচনগুলো যাতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হতে পারে, সেদিকে ইসি ও রাজনৈতিক দলগুলোকে বিশেষ নজর দিতে হবে।

ইসিকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে। প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকদেরও নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলতে হবে। মনে রাখতে হবে, নির্বাচন কমিশনের একার পক্ষে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান করা সম্ভব নয়। বস্তুত নির্বাচনের সব অংশীজনকেই উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিচয় দিতে হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন