খুলনার নাগরিক দুর্ভোগ
jugantor
খুলনার নাগরিক দুর্ভোগ
কর্তৃপক্ষের সক্রিয় ভূমিকা জরুরি

  সম্পাদকীয়  

২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

যুগান্তরের চার পর্বের ধারাবাহিক প্রতিবেদনে খুলনা নগরীর জনজীবনে দুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) আওতাধীন মোট সড়ক রয়েছে ১ হাজার ২১৫টি, সব মিলিয়ে যার দৈর্ঘ্য ৬৪০ কিলোমিটার।

উদ্বেগজনক হলো, এর মধ্যে অন্তত দেড়শ কিলোমিটার সড়কের অবস্থাই বেহাল; বিশেষ করে কেসিসির অভ্যন্তরীণ সংযোগ সড়কগুলো দীর্ঘদিন ধরে চলাচল অনুপযোগী। খানাখন্দে ভরা এসব সড়কে সামান্য বৃষ্টি হলেই পানি জমে যায়। এতে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয় নগরবাসীকে। তবে শুধু সড়কেই সীমাবদ্ধ নয় খুলনা নগরবাসীর দুর্ভোগ।

জানা গেছে, খুলনা নগরীর বাসিন্দারা বছরের আট মাসই সুপেয় পানির সংকটে থাকেন। বস্তুত চাহিদার অর্ধেক পানিও সরবরাহ করতে পারছে না খুলনা ওয়াসা। এমনকি নগরবাসীকে পানি সংকট থেকে রেহাই দিতে আড়াই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলেও সমস্যা যে তিমিরে ছিল, সেই তিমিরেই রয়ে গেছে।

খুলনার নাগরিক জীবনে ভোগান্তির একটি বড় কারণ বিদ্যমান গণপরিবহণ ব্যবস্থা। স্বাধীনতার পর ফুলতলা থেকে রূপসা পর্যন্ত নগর পরিবহণ সার্ভিস চালু থাকলেও বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসার পর তা বন্ধ হয়ে যায়। অবশ্য ২০১৬ সালে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উদ্যোগে বিআরটিসি সার্ভিস চালু হলেও তা বেশিদিন টেকেনি। নগর পরিবহণ সার্ভিস চালু থাকলে খুব অল্প খরচে নগরবাসী যাতায়াতের সুবিধা পেত, যা বলাই বাহুল্য।

কিন্তু তা না থাকায় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে নিম্ন -মধ্যবিত্ত শ্রেণি আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। মূলত এ অবস্থা থেকে নগরবাসীকে কিছুটা স্বস্তি দিতে নগরীতে ইজিবাইক নামানো হলেও তা দুর্ভোগ আরও বাড়িয়েছে। এর কারণ অবৈধ ইজিবাইকের আধিক্য। এগুলোর অনিয়ন্ত্রিত ও বেপরোয়া চলাচলে শহরে যানজট সৃষ্টি ছাড়াও অদক্ষ চালকের কারণে মাঝেমধ্যেই ঘটছে দুর্ঘটনা।

অন্যদিকে, প্রায় দুই যুগেও পূর্ণতা পায়নি বাগেরহাটের খানজাহান আলী বিমানবন্দর। এ বিমানবন্দর হলে মোংলা বন্দরের আয় ও সুন্দরবনে পর্যটক সমাগম বৃদ্ধির পাশাপাশি সেখানে শিল্প-কারখানা স্থাপনে অনেকে আগ্রহী হবেন।

বিশ্বব্যাংকের সুশাসন ইনডেক্সে বাংলাদেশের অবস্থান সুখকর নয়। এর মধ্যে দুর্নীতি, রাজনৈতিক সহিংসতা, রেগুলেটরি কোয়ালিটি ইত্যাদি রয়েছে সর্বনিম্ন অবস্থানে। সুশাসনের অনুপস্থিতিতেও দেশে আগামী কিছুদিন হয়তো অর্থনৈতিক উন্নতি অব্যাহত থাকবে। তবে এরপরই দেখা যাবে, সুশাসনের অভাবে আর এগোনো যাচ্ছে না। অর্থাৎ সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের সামনে ‘সুযোগের একটা জানালা’ আরও কিছুদিন খোলা থাকবে।

এ সময়ের মধ্যে আমরা যদি সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হই, তাহলে কেবল খুলনা নগরীকে কেন্দ্র করে আবর্তিত জনদুর্ভোগ ও জনভোগান্তিরই অবসান হবে না, পাশাপাশি সারা দেশের মানুষই নানারকম হয়রানি ও দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবে। খুলনা সিটি করপোরেশনে নির্বাচিত জনপ্রতিনিরা রয়েছেন, সরকারের বিধিবদ্ধ বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সবাই যদি নিজ নিজ ক্ষেত্রে সুশাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি নগরবাসীর কাছে তাদের দায়বদ্ধতার বিষয়টি বিস্মৃত না হন, তাহলে খুলনার নাগরিক জীবন স্বস্তিদায়ক ও সুন্দর হয়ে উঠবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

খুলনার নাগরিক দুর্ভোগ

কর্তৃপক্ষের সক্রিয় ভূমিকা জরুরি
 সম্পাদকীয় 
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

যুগান্তরের চার পর্বের ধারাবাহিক প্রতিবেদনে খুলনা নগরীর জনজীবনে দুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) আওতাধীন মোট সড়ক রয়েছে ১ হাজার ২১৫টি, সব মিলিয়ে যার দৈর্ঘ্য ৬৪০ কিলোমিটার।

উদ্বেগজনক হলো, এর মধ্যে অন্তত দেড়শ কিলোমিটার সড়কের অবস্থাই বেহাল; বিশেষ করে কেসিসির অভ্যন্তরীণ সংযোগ সড়কগুলো দীর্ঘদিন ধরে চলাচল অনুপযোগী। খানাখন্দে ভরা এসব সড়কে সামান্য বৃষ্টি হলেই পানি জমে যায়। এতে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয় নগরবাসীকে। তবে শুধু সড়কেই সীমাবদ্ধ নয় খুলনা নগরবাসীর দুর্ভোগ।

জানা গেছে, খুলনা নগরীর বাসিন্দারা বছরের আট মাসই সুপেয় পানির সংকটে থাকেন। বস্তুত চাহিদার অর্ধেক পানিও সরবরাহ করতে পারছে না খুলনা ওয়াসা। এমনকি নগরবাসীকে পানি সংকট থেকে রেহাই দিতে আড়াই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলেও সমস্যা যে তিমিরে ছিল, সেই তিমিরেই রয়ে গেছে।

খুলনার নাগরিক জীবনে ভোগান্তির একটি বড় কারণ বিদ্যমান গণপরিবহণ ব্যবস্থা। স্বাধীনতার পর ফুলতলা থেকে রূপসা পর্যন্ত নগর পরিবহণ সার্ভিস চালু থাকলেও বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসার পর তা বন্ধ হয়ে যায়। অবশ্য ২০১৬ সালে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উদ্যোগে বিআরটিসি সার্ভিস চালু হলেও তা বেশিদিন টেকেনি। নগর পরিবহণ সার্ভিস চালু থাকলে খুব অল্প খরচে নগরবাসী যাতায়াতের সুবিধা পেত, যা বলাই বাহুল্য।

কিন্তু তা না থাকায় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে নিম্ন -মধ্যবিত্ত শ্রেণি আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। মূলত এ অবস্থা থেকে নগরবাসীকে কিছুটা স্বস্তি দিতে নগরীতে ইজিবাইক নামানো হলেও তা দুর্ভোগ আরও বাড়িয়েছে। এর কারণ অবৈধ ইজিবাইকের আধিক্য। এগুলোর অনিয়ন্ত্রিত ও বেপরোয়া চলাচলে শহরে যানজট সৃষ্টি ছাড়াও অদক্ষ চালকের কারণে মাঝেমধ্যেই ঘটছে দুর্ঘটনা।

অন্যদিকে, প্রায় দুই যুগেও পূর্ণতা পায়নি বাগেরহাটের খানজাহান আলী বিমানবন্দর। এ বিমানবন্দর হলে মোংলা বন্দরের আয় ও সুন্দরবনে পর্যটক সমাগম বৃদ্ধির পাশাপাশি সেখানে শিল্প-কারখানা স্থাপনে অনেকে আগ্রহী হবেন।

বিশ্বব্যাংকের সুশাসন ইনডেক্সে বাংলাদেশের অবস্থান সুখকর নয়। এর মধ্যে দুর্নীতি, রাজনৈতিক সহিংসতা, রেগুলেটরি কোয়ালিটি ইত্যাদি রয়েছে সর্বনিম্ন অবস্থানে। সুশাসনের অনুপস্থিতিতেও দেশে আগামী কিছুদিন হয়তো অর্থনৈতিক উন্নতি অব্যাহত থাকবে। তবে এরপরই দেখা যাবে, সুশাসনের অভাবে আর এগোনো যাচ্ছে না। অর্থাৎ সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের সামনে ‘সুযোগের একটা জানালা’ আরও কিছুদিন খোলা থাকবে।

এ সময়ের মধ্যে আমরা যদি সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হই, তাহলে কেবল খুলনা নগরীকে কেন্দ্র করে আবর্তিত জনদুর্ভোগ ও জনভোগান্তিরই অবসান হবে না, পাশাপাশি সারা দেশের মানুষই নানারকম হয়রানি ও দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবে। খুলনা সিটি করপোরেশনে নির্বাচিত জনপ্রতিনিরা রয়েছেন, সরকারের বিধিবদ্ধ বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সবাই যদি নিজ নিজ ক্ষেত্রে সুশাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি নগরবাসীর কাছে তাদের দায়বদ্ধতার বিষয়টি বিস্মৃত না হন, তাহলে খুলনার নাগরিক জীবন স্বস্তিদায়ক ও সুন্দর হয়ে উঠবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন