শিক্ষক নিয়োগে দীর্ঘসূত্রতা
jugantor
শিক্ষক নিয়োগে দীর্ঘসূত্রতা
স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পুলিশ ভ্যারিফিকেশন দ্রুত করুন

  সম্পাদকীয়  

২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনার কারণে শিক্ষা খাতের অপূরণীয় ক্ষতির বিষয়টি বহুল আলোচিত। এ ক্ষতি দ্রুত কাটিয়ে ওঠার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

বৃহস্পতিবার যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারি-বেসরকারি হাইস্কুলে ঝুলে আছে ৪০ হাজার শিক্ষক নিয়োগ। বিষয়টি উদ্বেগজনক। জানা গেছে, পুলিশ ভ্যারিফিকেশন আর স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফাঁদে আটকা পড়ে আছে সরকারি ও বেসরকারি হাইস্কুলে ৪০ হাজার নির্বাচিত শিক্ষক নিয়োগ।

এর মধ্যে সরকারি হাইস্কুলে নিয়োগের লক্ষ্যে ২ হাজার ১৫৫ প্রার্থীকে গত ২৯ ডিসেম্বর নিয়োগের সুপারিশ করে সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি)।

বর্তমানে এসব প্রার্থীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা চলছে। এছাড়া বেসরকারি হাইস্কুলের শূন্যপদে নিয়োগের জন্য জাতীয় শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসি) ৩৮ হাজার ২৮৬ প্রার্থীর নাম সুপারিশ করেছে। বিধান অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এসব প্রার্থীর নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ।

কিন্তু এই প্রথমবারের মতো শিক্ষা মন্ত্রণালয় সুপারিশপ্রাপ্তদের ব্যক্তিগত জীবনের তথ্য সংগ্রহে পুলিশ ভ্যারিফিকেশনের উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে তাদের কাছ থেকে নির্ধারিত ফরমে তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।

এভাবে উভয় ধরনের প্রার্থীর নিয়োগ প্রক্রিয়া ঝুলে গেছে। এতে শিক্ষক সংকটকাল দীর্ঘায়িত হচ্ছে। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নিয়োগদান সম্পন্ন হবে এটাই স্বাভাবিক। তবে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে যাতে বেশি সময় ব্যয় না হয় সেদিকেও দৃষ্টি দিতে হবে।

সরকারি-বেসরকারি হাইস্কুলে বিপুলসংখ্যক পদ শূন্য রয়েছে। কেবল বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকের শূন্যপদের সংখ্যা অর্ধলক্ষাধিক। এ অবস্থায় প্রার্থীর পুলিশ ভ্যারিফিকেশন ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করতে বেশি সময় ব্যয় করা হলে মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে তা সহজেই অনুমেয়। জানা গেছে, প্রাক-প্রাথমিক স্কুলে ২৫ হাজারের বেশি শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। আনুপাতিক হারে হিসাব করলে প্রাক-প্রাথমিক থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ১ লাখের বেশি শিক্ষকের পদ শূন্য। এ সমস্যা দীর্ঘদিনের। দেশের শিক্ষা খাত নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা হচ্ছে।

শিক্ষাবিষয়ক নতুন নতুন পরিকল্পনা করা হচ্ছ। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সময়মতো শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া জরুরি। নতুন জাতীয় শিক্ষাক্রমের রূপরেখায় প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের আনন্দময় পরিবেশে শিক্ষা প্রদানের কথা গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে। সময়মতো শিক্ষক সংকট দূর করা না হলে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা কঠিন হবে।

বিশ্বে জ্ঞান-বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে আমরা যাতে নেতৃত্ব দিতে পারি, সেই লক্ষ্য অর্জনের বিষয়টিও বারবার আলোচনায় আসছে। সময়মতো শিক্ষক সংকট দূর করা না হলে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা কোনোভাবেই সম্ভব হবে না। প্রাথমিক শিক্ষায় বর্তমান সরকারের অর্জন দেশ-বিদেশে সমাদৃত হয়েছে। কিন্তু শিক্ষক সংকট অব্যাহত থাকলে এসব অর্জন পূর্ণতা পাবে না।

সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও দ্রুত উন্নয়নের জন্য আমাদের মানবসম্পদ উন্নয়নে বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে। দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষকরাই পারেন দ্রুত মানবসম্পদ উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে। বিভিন্ন স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সময়মতো শিক্ষক সংকট দূর করার পাশাপাশি নিয়োগকৃত শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থাও করতে হবে। আকর্ষণীয় বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা না হলে মেধাবীরা শিক্ষকতা পেশায় আকৃষ্ট হবে না।

শিক্ষক নিয়োগে দীর্ঘসূত্রতা

স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পুলিশ ভ্যারিফিকেশন দ্রুত করুন
 সম্পাদকীয় 
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনার কারণে শিক্ষা খাতের অপূরণীয় ক্ষতির বিষয়টি বহুল আলোচিত। এ ক্ষতি দ্রুত কাটিয়ে ওঠার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

বৃহস্পতিবার যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারি-বেসরকারি হাইস্কুলে ঝুলে আছে ৪০ হাজার শিক্ষক নিয়োগ। বিষয়টি উদ্বেগজনক। জানা গেছে, পুলিশ ভ্যারিফিকেশন আর স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফাঁদে আটকা পড়ে আছে সরকারি ও বেসরকারি হাইস্কুলে ৪০ হাজার নির্বাচিত শিক্ষক নিয়োগ।

এর মধ্যে সরকারি হাইস্কুলে নিয়োগের লক্ষ্যে ২ হাজার ১৫৫ প্রার্থীকে গত ২৯ ডিসেম্বর নিয়োগের সুপারিশ করে সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি)।

বর্তমানে এসব প্রার্থীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা চলছে। এছাড়া বেসরকারি হাইস্কুলের শূন্যপদে নিয়োগের জন্য জাতীয় শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসি) ৩৮ হাজার ২৮৬ প্রার্থীর নাম সুপারিশ করেছে। বিধান অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এসব প্রার্থীর নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ।

কিন্তু এই প্রথমবারের মতো শিক্ষা মন্ত্রণালয় সুপারিশপ্রাপ্তদের ব্যক্তিগত জীবনের তথ্য সংগ্রহে পুলিশ ভ্যারিফিকেশনের উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে তাদের কাছ থেকে নির্ধারিত ফরমে তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।

এভাবে উভয় ধরনের প্রার্থীর নিয়োগ প্রক্রিয়া ঝুলে গেছে। এতে শিক্ষক সংকটকাল দীর্ঘায়িত হচ্ছে। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নিয়োগদান সম্পন্ন হবে এটাই স্বাভাবিক। তবে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে যাতে বেশি সময় ব্যয় না হয় সেদিকেও দৃষ্টি দিতে হবে।

সরকারি-বেসরকারি হাইস্কুলে বিপুলসংখ্যক পদ শূন্য রয়েছে। কেবল বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকের শূন্যপদের সংখ্যা অর্ধলক্ষাধিক। এ অবস্থায় প্রার্থীর পুলিশ ভ্যারিফিকেশন ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করতে বেশি সময় ব্যয় করা হলে মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে তা সহজেই অনুমেয়। জানা গেছে, প্রাক-প্রাথমিক স্কুলে ২৫ হাজারের বেশি শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। আনুপাতিক হারে হিসাব করলে প্রাক-প্রাথমিক থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ১ লাখের বেশি শিক্ষকের পদ শূন্য। এ সমস্যা দীর্ঘদিনের। দেশের শিক্ষা খাত নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা হচ্ছে।

শিক্ষাবিষয়ক নতুন নতুন পরিকল্পনা করা হচ্ছ। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সময়মতো শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া জরুরি। নতুন জাতীয় শিক্ষাক্রমের রূপরেখায় প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের আনন্দময় পরিবেশে শিক্ষা প্রদানের কথা গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে। সময়মতো শিক্ষক সংকট দূর করা না হলে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা কঠিন হবে।

বিশ্বে জ্ঞান-বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে আমরা যাতে নেতৃত্ব দিতে পারি, সেই লক্ষ্য অর্জনের বিষয়টিও বারবার আলোচনায় আসছে। সময়মতো শিক্ষক সংকট দূর করা না হলে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা কোনোভাবেই সম্ভব হবে না। প্রাথমিক শিক্ষায় বর্তমান সরকারের অর্জন দেশ-বিদেশে সমাদৃত হয়েছে। কিন্তু শিক্ষক সংকট অব্যাহত থাকলে এসব অর্জন পূর্ণতা পাবে না।

সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও দ্রুত উন্নয়নের জন্য আমাদের মানবসম্পদ উন্নয়নে বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে। দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষকরাই পারেন দ্রুত মানবসম্পদ উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে। বিভিন্ন স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সময়মতো শিক্ষক সংকট দূর করার পাশাপাশি নিয়োগকৃত শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থাও করতে হবে। আকর্ষণীয় বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা না হলে মেধাবীরা শিক্ষকতা পেশায় আকৃষ্ট হবে না।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন