ভুল পরিকল্পনার খেসারত
jugantor
ভুল পরিকল্পনার খেসারত
অদক্ষ প্রতিষ্ঠানকে কাজের দায়িত্ব দেওয়া অনুচিত

  সম্পাদকীয়.  

২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর অভিজাত এলাকা ধানমণ্ডির ২৭ নম্বর সড়কে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এ সমস্যা নিরসনে গত ১০ বছরে এ সড়কে তিনবার পানি নিষ্কাশন ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে।

এজন্য ব্যয় হয়েছে অন্তত ৫০ কোটি টাকা। সর্বশেষ ২০ কোটি ৪৯ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন পাইপলাইন নির্মাণ করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।

জানা যায়, সড়কটির একপাশের ফুটপাতের নিচে ও মিডিয়ানে দুটি পানি নিষ্কাশন পাইপলাইন ছিল। নতুন করে অপর পাশের ফুটপাতে আরও একটি পাইপলাইন নির্মাণ করা হয়েছে।

কিন্তু এরপরও এ সড়কের জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান হয়নি, বরং নগরবাসীর দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। বিষয়টি উদ্বেগজনক। প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, এর পেছনের কারণ কি সঠিক পরিকল্পনার অভাব, নাকি সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের দুর্নীতিপ্রবণ মানসিকতা? নাকি তাদের অদক্ষতা, উদাসীনতা ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতা এ জন্য দায়ী?

জানা যায়, ধানমণ্ডি ২৭ নম্বর সড়কে নতুন পাইপলাইন স্থাপন কাজের দরপত্র আহ্বান করা হয় ২০১৯ সালে। এ দরপত্রে মাত্র একটি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। তা সত্ত্বেও পুনঃদরপত্র না ডেকে যথাযথ প্রতিযোগিতা ছাড়াই ওই প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়। সেক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির কাজের মান ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। বোঝাই যাচ্ছে, পানি নিষ্কাশনের উদ্দেশ্যে যেভাবে কাজটি করা হয়েছে, তা সঠিক পদ্ধতি নয়।

ড্রেন দিয়ে কেন পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না, তা ভালোভাবে পরীক্ষা করে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। সেটি না করায় গোড়ায় গলদ থেকে গেছে। অবস্থা যা ছিল, প্রায় তা-ই রয়েছে; অর্থাৎ এখনো সামান্য বৃষ্টিতে সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। এভাবে সরকারি টাকার অপচয় মেনে নেওয়া যায় না। বস্তুত সঠিক পরিকল্পনার অভাব এবং দুর্নীতির কারণে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার কাজে প্রায়ই এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে।

এসব বন্ধ হওয়া জরুরি। এজন্য প্রতিটি উন্নয়ন কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহি হওয়া প্রয়োজন। ধানমণ্ডি ২৭ নম্বর সড়কে পাইপলাইন স্থাপন কাজের ক্ষেত্রেও একথা প্রযোজ্য। আমরা আশা করব, এ সড়কের জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসনে ডিএসসিসি কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

ভুল পরিকল্পনার খেসারত

অদক্ষ প্রতিষ্ঠানকে কাজের দায়িত্ব দেওয়া অনুচিত
 সম্পাদকীয়. 
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর অভিজাত এলাকা ধানমণ্ডির ২৭ নম্বর সড়কে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এ সমস্যা নিরসনে গত ১০ বছরে এ সড়কে তিনবার পানি নিষ্কাশন ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে।

এজন্য ব্যয় হয়েছে অন্তত ৫০ কোটি টাকা। সর্বশেষ ২০ কোটি ৪৯ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন পাইপলাইন নির্মাণ করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।

জানা যায়, সড়কটির একপাশের ফুটপাতের নিচে ও মিডিয়ানে দুটি পানি নিষ্কাশন পাইপলাইন ছিল। নতুন করে অপর পাশের ফুটপাতে আরও একটি পাইপলাইন নির্মাণ করা হয়েছে।

কিন্তু এরপরও এ সড়কের জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান হয়নি, বরং নগরবাসীর দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। বিষয়টি উদ্বেগজনক। প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, এর পেছনের কারণ কি সঠিক পরিকল্পনার অভাব, নাকি সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের দুর্নীতিপ্রবণ মানসিকতা? নাকি তাদের অদক্ষতা, উদাসীনতা ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতা এ জন্য দায়ী?

জানা যায়, ধানমণ্ডি ২৭ নম্বর সড়কে নতুন পাইপলাইন স্থাপন কাজের দরপত্র আহ্বান করা হয় ২০১৯ সালে। এ দরপত্রে মাত্র একটি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। তা সত্ত্বেও পুনঃদরপত্র না ডেকে যথাযথ প্রতিযোগিতা ছাড়াই ওই প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়। সেক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির কাজের মান ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। বোঝাই যাচ্ছে, পানি নিষ্কাশনের উদ্দেশ্যে যেভাবে কাজটি করা হয়েছে, তা সঠিক পদ্ধতি নয়।

ড্রেন দিয়ে কেন পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না, তা ভালোভাবে পরীক্ষা করে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। সেটি না করায় গোড়ায় গলদ থেকে গেছে। অবস্থা যা ছিল, প্রায় তা-ই রয়েছে; অর্থাৎ এখনো সামান্য বৃষ্টিতে সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। এভাবে সরকারি টাকার অপচয় মেনে নেওয়া যায় না। বস্তুত সঠিক পরিকল্পনার অভাব এবং দুর্নীতির কারণে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার কাজে প্রায়ই এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে।

এসব বন্ধ হওয়া জরুরি। এজন্য প্রতিটি উন্নয়ন কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহি হওয়া প্রয়োজন। ধানমণ্ডি ২৭ নম্বর সড়কে পাইপলাইন স্থাপন কাজের ক্ষেত্রেও একথা প্রযোজ্য। আমরা আশা করব, এ সড়কের জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসনে ডিএসসিসি কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন