সমস্যা জর্জরিত বিশ্ববিদ্যালয়: ভর্তি সতর্কতা জারিই কি যথেষ্ট?
jugantor
সমস্যা জর্জরিত বিশ্ববিদ্যালয়: ভর্তি সতর্কতা জারিই কি যথেষ্ট?

  সম্পাদকীয়  

২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বেসরকারি ২৬ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত গণবিজ্ঞপ্তি ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তালিকা সংস্থাটির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, দেশে বর্তমানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আছে ১০৮টি। তবে এগুলোর মধ্যে কেবল ৯৯টিতে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। বস্তুত ইউজিসির এ সতর্কতা একশ্রেণির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অরাজক পরিস্থিতিই নির্দেশ করে।

বলার অপেক্ষা রাখে না, উচ্চশিক্ষার প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহকে পুঁজি করে একশ্রেণির শিক্ষা-বেনিয়া ফাঁদ পেতে বসেছে। এর মাধ্যমে তারা শিক্ষার্থীদের প্রতারিত করার পাশাপাশি হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। মূলত তাদের শক্তিশালী সিণ্ডিকেটের কারণেই উচ্চশিক্ষা নিয়ে প্রতারণামূলক ব্যবসা বন্ধ করা যাচ্ছে না। বিষয়টি উদ্বেগজনক। এ ব্যাপারে সরকারের কঠোর হওয়ার বিকল্প নেই।

তালিকাভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ১০ ভাগে ভাগ করেছে ইউজিসি। এগুলোর মধ্যে আছে অবৈধ ক্যাম্পাস পরিচালনা ও সরকার কর্তৃক বন্ধ ঘোষিত তবে আদালতের রায় বা স্থগিতাদেশ নিয়ে পরিচালিত বিশ্ববিদ্যালয়। এ ছাড়া নানা সমস্যায় জর্জরিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও রয়েছে ইউজিসির তালিকায়। বস্তুত উচ্চশিক্ষার নামে অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অবাধে দুর্নীতি, অনিয়ম, ভর্তি ও সনদ বাণিজ্য চালিয়ে গেলেও অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় এসব দেখার কেউ নেই।

সবচেয়ে আশ্চর্যজনক হলো, রাজধানীর বাইরের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চলছে প্রায় অভিভাবক ছাড়াই। অভিযোগ রয়েছে, ওইসব বিশ্ববিদ্যালয়ে কারা পড়াচ্ছেন, কী পড়ানো হচ্ছে, তার খোঁজ রাখে না কেউ। ফলে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধেই সনদ ব্যবসা এবং নামমাত্র শিক্ষার মাধ্যমে সনদ ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) থেকে মাঝে-মধ্যে দু-একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে সতর্ক করে পত্র দেওয়া হলেও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ নেই বললেই চলে।

সরকারের পক্ষ থেকে দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে একটা নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসার কথা বলা হলেও এর কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে ইউজিসি যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে, অভিভাবকরা সেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ভালো করে খোঁজখবর নিয়ে সন্তানের ভর্তির বিষয়ে অগ্রসর হবেন, এটাই কাম্য। তবে আমরা মনে করি, এ ধরনের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ব্যাপারে সতর্কতা জারিই যথেষ্ট নয়; সমস্যার নিরসন না হওয়া পর্যন্ত এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ বা স্থগিত রাখা উচিত।

সমস্যা জর্জরিত বিশ্ববিদ্যালয়: ভর্তি সতর্কতা জারিই কি যথেষ্ট?

 সম্পাদকীয় 
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বেসরকারি ২৬ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত গণবিজ্ঞপ্তি ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তালিকা সংস্থাটির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, দেশে বর্তমানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আছে ১০৮টি। তবে এগুলোর মধ্যে কেবল ৯৯টিতে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। বস্তুত ইউজিসির এ সতর্কতা একশ্রেণির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অরাজক পরিস্থিতিই নির্দেশ করে।

বলার অপেক্ষা রাখে না, উচ্চশিক্ষার প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহকে পুঁজি করে একশ্রেণির শিক্ষা-বেনিয়া ফাঁদ পেতে বসেছে। এর মাধ্যমে তারা শিক্ষার্থীদের প্রতারিত করার পাশাপাশি হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। মূলত তাদের শক্তিশালী সিণ্ডিকেটের কারণেই উচ্চশিক্ষা নিয়ে প্রতারণামূলক ব্যবসা বন্ধ করা যাচ্ছে না। বিষয়টি উদ্বেগজনক। এ ব্যাপারে সরকারের কঠোর হওয়ার বিকল্প নেই।

তালিকাভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ১০ ভাগে ভাগ করেছে ইউজিসি। এগুলোর মধ্যে আছে অবৈধ ক্যাম্পাস পরিচালনা ও সরকার কর্তৃক বন্ধ ঘোষিত তবে আদালতের রায় বা স্থগিতাদেশ নিয়ে পরিচালিত বিশ্ববিদ্যালয়। এ ছাড়া নানা সমস্যায় জর্জরিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও রয়েছে ইউজিসির তালিকায়। বস্তুত উচ্চশিক্ষার নামে অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অবাধে দুর্নীতি, অনিয়ম, ভর্তি ও সনদ বাণিজ্য চালিয়ে গেলেও অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় এসব দেখার কেউ নেই।

সবচেয়ে আশ্চর্যজনক হলো, রাজধানীর বাইরের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চলছে প্রায় অভিভাবক ছাড়াই। অভিযোগ রয়েছে, ওইসব বিশ্ববিদ্যালয়ে কারা পড়াচ্ছেন, কী পড়ানো হচ্ছে, তার খোঁজ রাখে না কেউ। ফলে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধেই সনদ ব্যবসা এবং নামমাত্র শিক্ষার মাধ্যমে সনদ ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) থেকে মাঝে-মধ্যে দু-একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে সতর্ক করে পত্র দেওয়া হলেও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ নেই বললেই চলে।

সরকারের পক্ষ থেকে দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে একটা নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসার কথা বলা হলেও এর কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে ইউজিসি যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে, অভিভাবকরা সেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ভালো করে খোঁজখবর নিয়ে সন্তানের ভর্তির বিষয়ে অগ্রসর হবেন, এটাই কাম্য। তবে আমরা মনে করি, এ ধরনের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ব্যাপারে সতর্কতা জারিই যথেষ্ট নয়; সমস্যার নিরসন না হওয়া পর্যন্ত এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ বা স্থগিত রাখা উচিত।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন