জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ
jugantor
জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ
বিশেষ তাৎপর্য বহন করে

  সম্পাদকীয়  

২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনা-পরবর্তী সময়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈশ্বিক পরিকল্পনা গ্রহণে বিশ্বনেতাদের প্রতি যে আহ্বান জানিয়েছেন, তা বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতায় বিভিন্ন সংকট মোকাবিলায় ছয়টি প্রস্তাব তুলে ধরেছেন। এ সময় জরুরিভিত্তিতে টিকা বৈষম্য দূর করার পাশাপাশি রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করতে বিশ্বনেতাদের প্রতি জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বানও জানান তিনি। শুক্রবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনাদিকাল থেকে মানবজাতি প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং মানবসৃষ্ট নানা সংঘাত ও দুর্যোগ মোকাবিলা করে আসছে।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে করোনামুক্ত বিশ্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে টিকার সর্বজনীন ও সাশ্রয়ী মূল্যে প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার যে আহ্বান জানিয়েছেন, তা মূলত সমগ্র বিশ্ববাসীরই প্রাণের দাবি। উল্লেখ্য, এযাবৎ উৎপাদিত টিকার ৮৪ শতাংশ উচ্চ ও উচ্চমধ্যম আয়ের দেশগুলোর মানুষের কাছে পৌঁছেছে। এ বৈষম্য দূর করা না হলে বিশ্ববাসীর নিরাপত্তার জন্য কী হুমকি সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তাও তার বক্তব্যে তুলে ধরেন। প্রযুক্তি সহায়তা ও মেধাস্বত্ববিষয়ক জটিলতা দূর করা না হলে কাক্সিক্ষত সময়ে বিশ্ববাসীর জন্য পর্যাপ্তসংখ্যক টিকা তৈরি করা সম্ভব হবে না, যা বলাই বাহুল্য।

জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক আইপিসিসি’র ওয়ার্কিং গ্র“প-১-এর প্রতিবেদনে আমাদের এ গ্রহের ভবিষ্যতের এক ভয়াল চিত্র ফুটে উঠেছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে জলবায়ু পরিবর্তনের ধ্বংসাত্মক প্রভাব কাটিয়ে ওঠা কঠিন হবে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ধনী ও শিল্পোন্নত দেশগুলোর প্রতি শেখ হাসিনা যে আহ্বান জানিয়েছেন, তাও বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। কারণ চলমান মহামারি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোকে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, তা বিশ্বনেতাদের অজানা নয়। জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশ বৈশ্বিক পথিকৃৎ হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে। এখন অন্য দেশগুলোর উচিত বৈশ্বিক তাপমাত্রা যাতে কাক্সিক্ষত মাত্রায় নিয়ন্ত্রণ করা যায় সে জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া।

করোনাকালে বিদ্যালয়গুলো আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধের কারণে বিশ্বের প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিম্ন আয়ের দেশগুলোর লাখ লাখ ছাত্রছাত্রীর দূরশিক্ষণে অংশগ্রহণের সক্ষমতা না থাকায় বিভিন্ন অর্জন হুমকির মুখে পড়েছে। এখন ডিজিটাল সরঞ্জামাদি ও অন্যান্য সেবা সহজলভ্য করা না হলে শিক্ষার্থীরা দ্রুত ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবে না। এ সমস্যার সমাধানে জাতিসংঘকে অংশীদারিত্ব ও প্রয়োজনীয় সম্পদ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন শেখ হাসিনা। করোনাকালীন নজিরবিহীন প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পথে রয়েছে। শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে বলেছেন, স্বল্পোন্নত দেশের টেকসই উত্তরণ ত্বরান্বিত করার জন্য উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে আমরা প্রণোদনাভিত্তিক উত্তরণ কাঠামো প্রণয়নে আরও সহায়তা আশা করি।

রোহিঙ্গা সংকট এবার পঞ্চম বছরে পদার্পণ করল। বহু প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের একজনকেও তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি। এ সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বিশ্বনেতাদের প্রতি যেসব আহ্বান জানিয়েছেন, সেসব বাস্তবায়নে সময়মতো পদক্ষেপ নেওয়া হবে, এটাই আমরা আশা করব।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

বিশেষ তাৎপর্য বহন করে
 সম্পাদকীয় 
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনা-পরবর্তী সময়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈশ্বিক পরিকল্পনা গ্রহণে বিশ্বনেতাদের প্রতি যে আহ্বান জানিয়েছেন, তা বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতায় বিভিন্ন সংকট মোকাবিলায় ছয়টি প্রস্তাব তুলে ধরেছেন। এ সময় জরুরিভিত্তিতে টিকা বৈষম্য দূর করার পাশাপাশি রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করতে বিশ্বনেতাদের প্রতি জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বানও জানান তিনি। শুক্রবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনাদিকাল থেকে মানবজাতি প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং মানবসৃষ্ট নানা সংঘাত ও দুর্যোগ মোকাবিলা করে আসছে।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে করোনামুক্ত বিশ্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে টিকার সর্বজনীন ও সাশ্রয়ী মূল্যে প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার যে আহ্বান জানিয়েছেন, তা মূলত সমগ্র বিশ্ববাসীরই প্রাণের দাবি। উল্লেখ্য, এযাবৎ উৎপাদিত টিকার ৮৪ শতাংশ উচ্চ ও উচ্চমধ্যম আয়ের দেশগুলোর মানুষের কাছে পৌঁছেছে। এ বৈষম্য দূর করা না হলে বিশ্ববাসীর নিরাপত্তার জন্য কী হুমকি সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তাও তার বক্তব্যে তুলে ধরেন। প্রযুক্তি সহায়তা ও মেধাস্বত্ববিষয়ক জটিলতা দূর করা না হলে কাক্সিক্ষত সময়ে বিশ্ববাসীর জন্য পর্যাপ্তসংখ্যক টিকা তৈরি করা সম্ভব হবে না, যা বলাই বাহুল্য।

জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক আইপিসিসি’র ওয়ার্কিং গ্র“প-১-এর প্রতিবেদনে আমাদের এ গ্রহের ভবিষ্যতের এক ভয়াল চিত্র ফুটে উঠেছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে জলবায়ু পরিবর্তনের ধ্বংসাত্মক প্রভাব কাটিয়ে ওঠা কঠিন হবে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ধনী ও শিল্পোন্নত দেশগুলোর প্রতি শেখ হাসিনা যে আহ্বান জানিয়েছেন, তাও বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। কারণ চলমান মহামারি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোকে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, তা বিশ্বনেতাদের অজানা নয়। জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশ বৈশ্বিক পথিকৃৎ হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে। এখন অন্য দেশগুলোর উচিত বৈশ্বিক তাপমাত্রা যাতে কাক্সিক্ষত মাত্রায় নিয়ন্ত্রণ করা যায় সে জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া।

করোনাকালে বিদ্যালয়গুলো আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধের কারণে বিশ্বের প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিম্ন আয়ের দেশগুলোর লাখ লাখ ছাত্রছাত্রীর দূরশিক্ষণে অংশগ্রহণের সক্ষমতা না থাকায় বিভিন্ন অর্জন হুমকির মুখে পড়েছে। এখন ডিজিটাল সরঞ্জামাদি ও অন্যান্য সেবা সহজলভ্য করা না হলে শিক্ষার্থীরা দ্রুত ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবে না। এ সমস্যার সমাধানে জাতিসংঘকে অংশীদারিত্ব ও প্রয়োজনীয় সম্পদ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন শেখ হাসিনা। করোনাকালীন নজিরবিহীন প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পথে রয়েছে। শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে বলেছেন, স্বল্পোন্নত দেশের টেকসই উত্তরণ ত্বরান্বিত করার জন্য উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে আমরা প্রণোদনাভিত্তিক উত্তরণ কাঠামো প্রণয়নে আরও সহায়তা আশা করি।

রোহিঙ্গা সংকট এবার পঞ্চম বছরে পদার্পণ করল। বহু প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের একজনকেও তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি। এ সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বিশ্বনেতাদের প্রতি যেসব আহ্বান জানিয়েছেন, সেসব বাস্তবায়নে সময়মতো পদক্ষেপ নেওয়া হবে, এটাই আমরা আশা করব।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন