রেলে জনবল বৃদ্ধির উদ্যোগ
jugantor
রেলে জনবল বৃদ্ধির উদ্যোগ
নিয়োগ প্রক্রিয়া শতভাগ স্বচ্ছ হতে হবে

  সম্পাদকীয়  

২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দীর্ঘদিন পর রেলের বিভিন্ন পর্যায়ে ১৫ হাজার শূন্য পদে লোকবল নিয়োগের সিদ্ধান্তটি ইতিবাচক। উদ্বেগের বিষয় হলো, এরই মধ্যে সুযোগসন্ধানী একটি চক্র নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যে সক্রিয় হয়ে উঠেছে, যা শক্ত হাতে দমন করতে হবে। রেলের জনবল নিয়োগে অনিয়ম-দুর্নীতি রোধে কঠোর না হলে এ নিয়ে একটা শঙ্কা থেকেই যাবে। অবশ্য রেলমন্ত্রী ইতোমধ্যে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম-দুর্নীতি সহ্য না করার ঘোষণা দিয়েছেন। মন্ত্রীর এ ঘোষণা শতভাগ কার্যকর হলে তা সবার জন্য স্বস্তিদায়ক হবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ৯ এপ্রিল তৎকালীন রেলপথমন্ত্রীর এপিএসের গাড়িতে নিয়োগ বাণিজ্যের ৭০ লাখ টাকা পাওয়ার পর দেশজুড়ে শোরগোল শুরু হলে ‘নিয়োগ বাণিজ্যে অর্থ কেলেঙ্কারির’ দায় কাঁধে নিয়ে সেই মন্ত্রী পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। পাশাপাশি দুর্নীতি কাণ্ডে রেলের মহাব্যবস্থাপকসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে সে সময় বরখাস্ত করা হয়েছিল।

বর্তমানে রেলে অন্তত ২৩ হাজার পদে জনবলের ঘাটতি রয়েছে। তাছাড়া চাকরির মেয়াদ শেষে অনেকেই নিয়মিত অবসরে যাচ্ছেন। শূন্য পদের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়লেও এর বিপরীতে নিয়মিত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়াটা দুঃখজনক। স্বাধীনতার পর সারা দেশে চলাচলকারী ট্রেনের সংখ্যা ছিল অন্যূন ১৬০। বর্তমানে এ সংখ্যা ৩৬০-এ উন্নীত হলেও সে অনুযায়ী নতুন চালক তৈরি, নিয়োগ ও অন্যান্য কাজ কেন যথাযথভাবে সম্পন্ন হলো না, এ প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। এছাড়া রেলে এখন ব্যাপক হারে উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাওয়া উচিত। তবে এক্ষেত্রে অনিয়ম-দুর্নীতি বরদাশত করা হলে যোগ্য ও মেধাবীরা চাকরি লাভের ন্যায্য সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে, যা মোটেই কাম্য নয়।

বস্তুত, ৫০ বছর ধরে প্রশাসনসহ সর্বক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতি, দলীয়করণ ও অগণতান্ত্রিক নিয়োগ প্রক্রিয়ার দায় বয়ে বেড়াচ্ছে দেশের সাধারণ মানুষ। উৎকোচ ও দলীয় আশীর্বাদ যদি নিয়োগলাভের একমাত্র মাপকাঠি হয়, তাহলে মেধাবী ও যোগ্য প্রার্থীরা স্বাভাবিকভাবেই চাকরি লাভের প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে পড়বে। অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় যারা নিয়োগ পায়, তাদের কাছ থেকে সততা ও নৈতিকতা আশা করা দুরাশামাত্র। রেলের জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে এমনটি ঘটলে স্বাভাবিকভাবেই এ যোগাযোগ মাধ্যমের কাক্সিক্ষত উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে। কাজেই রেলে জনবল নিয়োগে শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রাখার উদ্যোগ নেওয়া হবে, এটাই প্রত্যাশা।

রেলে জনবল বৃদ্ধির উদ্যোগ

নিয়োগ প্রক্রিয়া শতভাগ স্বচ্ছ হতে হবে
 সম্পাদকীয় 
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দীর্ঘদিন পর রেলের বিভিন্ন পর্যায়ে ১৫ হাজার শূন্য পদে লোকবল নিয়োগের সিদ্ধান্তটি ইতিবাচক। উদ্বেগের বিষয় হলো, এরই মধ্যে সুযোগসন্ধানী একটি চক্র নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যে সক্রিয় হয়ে উঠেছে, যা শক্ত হাতে দমন করতে হবে। রেলের জনবল নিয়োগে অনিয়ম-দুর্নীতি রোধে কঠোর না হলে এ নিয়ে একটা শঙ্কা থেকেই যাবে। অবশ্য রেলমন্ত্রী ইতোমধ্যে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম-দুর্নীতি সহ্য না করার ঘোষণা দিয়েছেন। মন্ত্রীর এ ঘোষণা শতভাগ কার্যকর হলে তা সবার জন্য স্বস্তিদায়ক হবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ৯ এপ্রিল তৎকালীন রেলপথমন্ত্রীর এপিএসের গাড়িতে নিয়োগ বাণিজ্যের ৭০ লাখ টাকা পাওয়ার পর দেশজুড়ে শোরগোল শুরু হলে ‘নিয়োগ বাণিজ্যে অর্থ কেলেঙ্কারির’ দায় কাঁধে নিয়ে সেই মন্ত্রী পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। পাশাপাশি দুর্নীতি কাণ্ডে রেলের মহাব্যবস্থাপকসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে সে সময় বরখাস্ত করা হয়েছিল।

বর্তমানে রেলে অন্তত ২৩ হাজার পদে জনবলের ঘাটতি রয়েছে। তাছাড়া চাকরির মেয়াদ শেষে অনেকেই নিয়মিত অবসরে যাচ্ছেন। শূন্য পদের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়লেও এর বিপরীতে নিয়মিত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়াটা দুঃখজনক। স্বাধীনতার পর সারা দেশে চলাচলকারী ট্রেনের সংখ্যা ছিল অন্যূন ১৬০। বর্তমানে এ সংখ্যা ৩৬০-এ উন্নীত হলেও সে অনুযায়ী নতুন চালক তৈরি, নিয়োগ ও অন্যান্য কাজ কেন যথাযথভাবে সম্পন্ন হলো না, এ প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। এছাড়া রেলে এখন ব্যাপক হারে উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাওয়া উচিত। তবে এক্ষেত্রে অনিয়ম-দুর্নীতি বরদাশত করা হলে যোগ্য ও মেধাবীরা চাকরি লাভের ন্যায্য সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে, যা মোটেই কাম্য নয়।

বস্তুত, ৫০ বছর ধরে প্রশাসনসহ সর্বক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতি, দলীয়করণ ও অগণতান্ত্রিক নিয়োগ প্রক্রিয়ার দায় বয়ে বেড়াচ্ছে দেশের সাধারণ মানুষ। উৎকোচ ও দলীয় আশীর্বাদ যদি নিয়োগলাভের একমাত্র মাপকাঠি হয়, তাহলে মেধাবী ও যোগ্য প্রার্থীরা স্বাভাবিকভাবেই চাকরি লাভের প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে পড়বে। অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় যারা নিয়োগ পায়, তাদের কাছ থেকে সততা ও নৈতিকতা আশা করা দুরাশামাত্র। রেলের জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে এমনটি ঘটলে স্বাভাবিকভাবেই এ যোগাযোগ মাধ্যমের কাক্সিক্ষত উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে। কাজেই রেলে জনবল নিয়োগে শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রাখার উদ্যোগ নেওয়া হবে, এটাই প্রত্যাশা।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন