আর কোনো শিক্ষার্থী-শিক্ষক যেন হারিয়ে না যায়
jugantor
আর কোনো শিক্ষার্থী-শিক্ষক যেন হারিয়ে না যায়

  মো. সিদ্দিকুর রহমান  

২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বঙ্গবন্ধু গরিব-মেহনতি মানুষের সন্তানদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিতকরণে ৩৭ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করেছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৩ সালে ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি বিদ্যালয় জাতীয়করণ করে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামো ও সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা বাড়ছে। তা সত্ত্বেও বর্তমানে শতকরা ২০ ভাগ শিশু করোনা মহামারির কারণে বিদ্যালয় থেকে হারিয়ে গেছে। নিু আয়ের মানুষের অনেকের আয়ের পথ বন্ধ হওয়ায় তারা তাদের সন্তানদের পারিবারিক কাজ বা শিশুশ্রমে নিয়োজিত করেছেন। অনেক মেয়ে শিক্ষার্থী বাল্যবিয়ের শিকার হয়েছে।

বিশ্বব্যাপী করোনার ভয়াবহ থাবার পর দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থীর উপস্থিতি আমার দৃষ্টিতে মোটামুটি সন্তোষজনক। তদুপরি হোম ভিজিটের মাধ্যমে তাদের বিদ্যালয়ে আনার সব ধরনের কার্যক্রম চালাতে হবে। অতিদরিদ্র পরিবারের তালিকা তৈরি করে সেসব পরিবারকে বিশেষ অনুদান প্রদান করে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ধরে রাখার উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। করোনাকালে আনুমানিক এক-তৃতীয়াংশ কিন্ডারগার্টেন বন্ধ হয়ে গেছে। শিক্ষক হওয়ার ব্রত নিয়ে অনেকেই নামমাত্র বেতনে কিন্ডারগার্টেনে শিক্ষকতা করতেন। কোচিং কিংবা বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিক্ষার্থী পড়িয়ে কোনরকমে জীবনযাপন করতেন। স্কুল বন্ধ হওয়ায় জীবিকার সন্ধানে অনেক শিক্ষক দিনমজুর, কলা, তরকারি বিক্রেতাসহ হরেকরকম পেশায় জড়িয়ে পড়েন। এ অবস্থায় প্রাথমিক শিক্ষক সংকট আরও বেড়ে গেছে। শিক্ষক নিয়োগের দীর্ঘসূত্রতা, শিক্ষক নিয়োগে লিখিত পরীক্ষার ধীরগতির কারণে এ বছরেও শিক্ষার্থীরা শিক্ষক সংকটে ভুগবে। কাজকর্ম চলছে অনেকটা আমলাতান্ত্রিক গতিতে। এ প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২০১৪ সালের নিয়োগ প্রার্থীরা। ওই প্রার্থীরা দীর্ঘ চার বছর পর ২০১৮ সালে লিখিত পরীক্ষায় উপযুক্ত হওয়ার পরও অসংখ্য পদ শূন্য রেখে আবার নতুন নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। আবার চলেছে দুই বছর সময়ক্ষেপণের পালা। এভাবে ২/৩/৪ বছর সময়ক্ষেপণের মাধ্যমে ‘ব্যাঙের উপর শিশুদের ঢিল মারা’র মতো খেলা আর কতদিন চলবে? ২০১৪ সালে শিক্ষক হওয়ার বাসনা নিয়ে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও অনেকের স্বপ্ন ভেঙে খান খান হয়ে গেছে এবং অনেকের আবেদন করার বয়স পেরিয়ে গেছে। তাদের মনের একান্ত বাসনা ছিল প্রাথমিকের শিক্ষক হওয়া। দীর্ঘ সময়ক্ষেপণে তাদের স্বপ্নপূরণ না হওয়ার বিষয়টিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আর কোনো শিক্ষক-শিক্ষার্থী যাতে হারিয়ে না যায়, সে জন্য কতিপয় সুপারিশ উপস্থাপন করছি- ১. কিন্ডারগার্টেন বিদ্যালয় সহজ শর্তে রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আনতে হবে। ২. শিশু মনোবিজ্ঞান বহির্ভূত পাঠদান বন্ধ করতে হবে। ৩. কিন্ডারগার্টেন স্কুল সরকারি নিয়ন্ত্রণে এনে যুগোপযোগী পাঠ্যক্রমের আওতায় আনতে হবে। ৪. কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষকদের বিশেষ ভাতা দিতে হবে, যাতে চরম সংকটেও তারা শিক্ষকতা পেশায় টিকে থাকতে পারে। ৫. কিন্ডারগার্টেন শিক্ষকদের ইউআরসি প্রশিক্ষণের সুযোগ দিতে হবে। ৬. খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডসহ সব জাতীয় ও বিশেষ দিবস পালন বাধ্যতামূলক থাকতে হবে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী, সচিব, ডিজি প্রাথমিক শিক্ষার কাছে বিনীত নিবেদন- আর যেন কোনো শিক্ষার্থী-শিক্ষক দুর্যোগে হারিয়ে না যায়। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হবে, এই ভরসা করছি।

মো. সিদ্দিকুর রহমান : সভাপতি, বঙ্গবন্ধু প্রাথমিক শিক্ষা গবেষণা পরিষদ

আর কোনো শিক্ষার্থী-শিক্ষক যেন হারিয়ে না যায়

 মো. সিদ্দিকুর রহমান 
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বঙ্গবন্ধু গরিব-মেহনতি মানুষের সন্তানদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিতকরণে ৩৭ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করেছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৩ সালে ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি বিদ্যালয় জাতীয়করণ করে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামো ও সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা বাড়ছে। তা সত্ত্বেও বর্তমানে শতকরা ২০ ভাগ শিশু করোনা মহামারির কারণে বিদ্যালয় থেকে হারিয়ে গেছে। নিু আয়ের মানুষের অনেকের আয়ের পথ বন্ধ হওয়ায় তারা তাদের সন্তানদের পারিবারিক কাজ বা শিশুশ্রমে নিয়োজিত করেছেন। অনেক মেয়ে শিক্ষার্থী বাল্যবিয়ের শিকার হয়েছে।

বিশ্বব্যাপী করোনার ভয়াবহ থাবার পর দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থীর উপস্থিতি আমার দৃষ্টিতে মোটামুটি সন্তোষজনক। তদুপরি হোম ভিজিটের মাধ্যমে তাদের বিদ্যালয়ে আনার সব ধরনের কার্যক্রম চালাতে হবে। অতিদরিদ্র পরিবারের তালিকা তৈরি করে সেসব পরিবারকে বিশেষ অনুদান প্রদান করে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ধরে রাখার উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। করোনাকালে আনুমানিক এক-তৃতীয়াংশ কিন্ডারগার্টেন বন্ধ হয়ে গেছে। শিক্ষক হওয়ার ব্রত নিয়ে অনেকেই নামমাত্র বেতনে কিন্ডারগার্টেনে শিক্ষকতা করতেন। কোচিং কিংবা বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিক্ষার্থী পড়িয়ে কোনরকমে জীবনযাপন করতেন। স্কুল বন্ধ হওয়ায় জীবিকার সন্ধানে অনেক শিক্ষক দিনমজুর, কলা, তরকারি বিক্রেতাসহ হরেকরকম পেশায় জড়িয়ে পড়েন। এ অবস্থায় প্রাথমিক শিক্ষক সংকট আরও বেড়ে গেছে। শিক্ষক নিয়োগের দীর্ঘসূত্রতা, শিক্ষক নিয়োগে লিখিত পরীক্ষার ধীরগতির কারণে এ বছরেও শিক্ষার্থীরা শিক্ষক সংকটে ভুগবে। কাজকর্ম চলছে অনেকটা আমলাতান্ত্রিক গতিতে। এ প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২০১৪ সালের নিয়োগ প্রার্থীরা। ওই প্রার্থীরা দীর্ঘ চার বছর পর ২০১৮ সালে লিখিত পরীক্ষায় উপযুক্ত হওয়ার পরও অসংখ্য পদ শূন্য রেখে আবার নতুন নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। আবার চলেছে দুই বছর সময়ক্ষেপণের পালা। এভাবে ২/৩/৪ বছর সময়ক্ষেপণের মাধ্যমে ‘ব্যাঙের উপর শিশুদের ঢিল মারা’র মতো খেলা আর কতদিন চলবে? ২০১৪ সালে শিক্ষক হওয়ার বাসনা নিয়ে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও অনেকের স্বপ্ন ভেঙে খান খান হয়ে গেছে এবং অনেকের আবেদন করার বয়স পেরিয়ে গেছে। তাদের মনের একান্ত বাসনা ছিল প্রাথমিকের শিক্ষক হওয়া। দীর্ঘ সময়ক্ষেপণে তাদের স্বপ্নপূরণ না হওয়ার বিষয়টিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আর কোনো শিক্ষক-শিক্ষার্থী যাতে হারিয়ে না যায়, সে জন্য কতিপয় সুপারিশ উপস্থাপন করছি- ১. কিন্ডারগার্টেন বিদ্যালয় সহজ শর্তে রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আনতে হবে। ২. শিশু মনোবিজ্ঞান বহির্ভূত পাঠদান বন্ধ করতে হবে। ৩. কিন্ডারগার্টেন স্কুল সরকারি নিয়ন্ত্রণে এনে যুগোপযোগী পাঠ্যক্রমের আওতায় আনতে হবে। ৪. কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষকদের বিশেষ ভাতা দিতে হবে, যাতে চরম সংকটেও তারা শিক্ষকতা পেশায় টিকে থাকতে পারে। ৫. কিন্ডারগার্টেন শিক্ষকদের ইউআরসি প্রশিক্ষণের সুযোগ দিতে হবে। ৬. খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডসহ সব জাতীয় ও বিশেষ দিবস পালন বাধ্যতামূলক থাকতে হবে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী, সচিব, ডিজি প্রাথমিক শিক্ষার কাছে বিনীত নিবেদন- আর যেন কোনো শিক্ষার্থী-শিক্ষক দুর্যোগে হারিয়ে না যায়। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হবে, এই ভরসা করছি।

মো. সিদ্দিকুর রহমান : সভাপতি, বঙ্গবন্ধু প্রাথমিক শিক্ষা গবেষণা পরিষদ

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন