কর্মসংস্থানে নতুন চ্যালেঞ্জ
jugantor
কর্মসংস্থানে নতুন চ্যালেঞ্জ
সমন্বিত পদক্ষেপ দরকার

  সম্পাদকীয়  

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কর্মসংস্থানে নতুন চ্যালেঞ্জ

করোনার কারণে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ ও রপ্তানি খাত বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ কারণে দেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হয়েছে। সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) এবং অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ওয়েবিনারে উল্লিখিত পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বক্তারা বলেন, দেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

শনিবার ‘৮ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় তরুণ জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন এজেন্ডা’ শীর্ষক ওয়েবিনারে বক্তারা কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে যে প্রধান তিন চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করেছেন, এর প্রথমটি হলো কর্মসংস্থান প্রবৃদ্ধির হার। দেশে বর্তমানে কর্মসংস্থান প্রবৃদ্ধির হার জিডিপির প্রবৃদ্ধির হারের চেয়ে কম। এছাড়া উৎপাদন ও নির্মাণ খাতে কর্মসংস্থান ২০১৩ থেকে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের মধ্যবর্তী সময়ে হ্রাস পেয়েছে। এমন পরিস্থিতিতেই অনানুষ্ঠানিক খাতে তরুণদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত কয়েক বছর দেশের অর্থনীতিতে সবচেয়ে বড় সংকট ছিল বেসরকারি খাতের বিনিয়োগে স্থবিরতা। করোনা এসে সেই সংকটকে মহাসংকটে রূপ দিয়েছে। এ পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠে কী করে কাক্সিক্ষত মাত্রায় নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা যায়, এটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। বস্তুত অর্থনীতির বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠার জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এ পরিকল্পনা এমন সময়ে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে, যখন দেশ মহামারির কারণে সৃষ্ট আর্থসামাজিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের অর্জিত সাফল্যের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা এক বড় চ্যালেঞ্জ। দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষার মানোন্নয়ন, লিঙ্গসমতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অন্যান্য চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব না হলে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড কাজে লাগানোর যে সুযোগ রয়েছে, তাও ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এ বিষয়গুলো ছাড়াও স্বাস্থ্য খাতের বিদ্যমান পরিস্থিতি ওয়েবিনারে বক্তাদের আলোচনায় গুরুত্ব পায়। এখন সবার জন্য টিকা নিশ্চিত করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। সেই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের সংক্রামক রোগ ও মহামারি সফলভাবে মোকাবিলায় স্বাস্থ্য খাতকে ঢেলে সাজাতে হবে।

করোনার কারণে দেশে যখন সব স্থবির ছিল, তখনও মানুষের ব্যয় থেমে থাকেনি। করোনাকালে অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চলমান ছিল; কিন্তু প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি না থাকায় বহু শিক্ষার্থী অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত থাকতে পারেনি। কোনো কোনো শিক্ষার্থী অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমে আংশিক যুক্ত থাকতে সক্ষম হয়েছে। এতে ধনী ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের মাঝে যে বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে, তা দূর করা দরকার। পরিবারের অনটনের কারণে বহু শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে। ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের কী করে মানবসম্পদে পরিণত করা যায়, এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। এ ছাড়া ই-কমার্স খাতে দুর্নীতির কারণে এ খাতের ওপর আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে, যা এ খাতের সৎ তরুণ উদ্যোক্তাদের ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। ওয়েবিনারের বক্তাদের মতামত দেশের নীতিনির্ধারকরা বিবেচনায় নিলে তা দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে, এ কথা বলাই বাহুল্য।

কর্মসংস্থানে নতুন চ্যালেঞ্জ

সমন্বিত পদক্ষেপ দরকার
 সম্পাদকীয় 
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
কর্মসংস্থানে নতুন চ্যালেঞ্জ
ফাইল ছবি

করোনার কারণে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ ও রপ্তানি খাত বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ কারণে দেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হয়েছে। সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) এবং অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ওয়েবিনারে উল্লিখিত পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বক্তারা বলেন, দেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

শনিবার ‘৮ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় তরুণ জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন এজেন্ডা’ শীর্ষক ওয়েবিনারে বক্তারা কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে যে প্রধান তিন চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করেছেন, এর প্রথমটি হলো কর্মসংস্থান প্রবৃদ্ধির হার। দেশে বর্তমানে কর্মসংস্থান প্রবৃদ্ধির হার জিডিপির প্রবৃদ্ধির হারের চেয়ে কম। এছাড়া উৎপাদন ও নির্মাণ খাতে কর্মসংস্থান ২০১৩ থেকে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের মধ্যবর্তী সময়ে হ্রাস পেয়েছে। এমন পরিস্থিতিতেই অনানুষ্ঠানিক খাতে তরুণদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত কয়েক বছর দেশের অর্থনীতিতে সবচেয়ে বড় সংকট ছিল বেসরকারি খাতের বিনিয়োগে স্থবিরতা। করোনা এসে সেই সংকটকে মহাসংকটে রূপ দিয়েছে। এ পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠে কী করে কাক্সিক্ষত মাত্রায় নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা যায়, এটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। বস্তুত অর্থনীতির বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠার জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এ পরিকল্পনা এমন সময়ে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে, যখন দেশ মহামারির কারণে সৃষ্ট আর্থসামাজিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের অর্জিত সাফল্যের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা এক বড় চ্যালেঞ্জ। দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষার মানোন্নয়ন, লিঙ্গসমতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অন্যান্য চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব না হলে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড কাজে লাগানোর যে সুযোগ রয়েছে, তাও ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এ বিষয়গুলো ছাড়াও স্বাস্থ্য খাতের বিদ্যমান পরিস্থিতি ওয়েবিনারে বক্তাদের আলোচনায় গুরুত্ব পায়। এখন সবার জন্য টিকা নিশ্চিত করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। সেই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের সংক্রামক রোগ ও মহামারি সফলভাবে মোকাবিলায় স্বাস্থ্য খাতকে ঢেলে সাজাতে হবে।

করোনার কারণে দেশে যখন সব স্থবির ছিল, তখনও মানুষের ব্যয় থেমে থাকেনি। করোনাকালে অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চলমান ছিল; কিন্তু প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি না থাকায় বহু শিক্ষার্থী অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত থাকতে পারেনি। কোনো কোনো শিক্ষার্থী অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমে আংশিক যুক্ত থাকতে সক্ষম হয়েছে। এতে ধনী ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের মাঝে যে বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে, তা দূর করা দরকার। পরিবারের অনটনের কারণে বহু শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে। ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের কী করে মানবসম্পদে পরিণত করা যায়, এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। এ ছাড়া ই-কমার্স খাতে দুর্নীতির কারণে এ খাতের ওপর আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে, যা এ খাতের সৎ তরুণ উদ্যোক্তাদের ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। ওয়েবিনারের বক্তাদের মতামত দেশের নীতিনির্ধারকরা বিবেচনায় নিলে তা দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে, এ কথা বলাই বাহুল্য।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন