ঋণ জালিয়াতি
jugantor
ঋণ জালিয়াতি
ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা জরুরি

  সম্পাদকীয়  

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ঋণ জালিয়াতি

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোয় বড় অঙ্কের ঋণ জালিয়াতির কারণে খেলাপি ঋণের উল্লম্ফন ঘটার সংবাদ উদ্বেগজনক। উল্লেখ্য, ২০১০ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোয় হাজার কোটি টাকার বেশি অঙ্কের ১০টি ঋণ জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে, যার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে হলমার্ক গ্রুপ, বিসমিল্লাহ গ্রুপ, ক্রিসেন্ট গ্রুপ, অ্যানন টেক্স গ্রুপ, এসএ গ্রুপ, সিটিসেল, সানমুন গ্রুপ, নূরজাহান গ্রুপ, ইমাম গ্রুপ ও পিকে হালদার। এছাড়া ব্যাংক জালিয়াতির দুটি ঘটনায় যুক্ত হয়েছে বেসিক ব্যাংক ও ফারমার্স ব্যাংকের নাম। এর মাধ্যমে জালিয়াতচক্র অন্তত ৩১ হাজার কোটি টাকা সরিয়ে নিয়েছে, যার মধ্যে খেলাপি হয়েছে ২৬ হাজার ২০০ কোটি টাকার ঋণ। আশঙ্কার বিষয় হলো, ইতোমধ্যে এগুলো আদায় অযোগ্য কুঋণে পরিণত হওয়ায় এর বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে শতভাগ প্রভিশন রাখতে হচ্ছে। ফলে একদিকে যেমন ঋণের দ্বিগুণ অর্থ আটকে আছে, অন্যদিকে জালিয়াতির মামলা পরিচালনা ও জামানত রক্ষণাবেক্ষণেও ব্যাংকগুলোকে অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে, যা অনভিপ্রেত।

মূলত অব্যবস্থাপনা ও দুর্বল আইনের কারণে প্রতিবছর ব্যাংকিং খাত থেকে ঋণের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট হচ্ছে এবং এর সিংহভাগই পাচার হচ্ছে। দেখা যায়, অনিয়ম বা জালিয়াতির মাধ্যমে বিতরণ করা ঋণের অধিকাংশই কুঋণ বা খেলাপি ঋণে পর্যবসিত হয়। এ অবস্থায় দেশের ব্যাংকিং খাত সংস্কারের দিকেও মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। অর্থনীতিবিদরা অনেকদিন ধরেই বলে আসছেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সবচেয়ে বড় সমস্যা খেলাপি ঋণ। এটা কমাতে না পারলে আমাদের অর্থনীতি টেকসই হবে না, তা বলাই বাহুল্য।

বড় অঙ্কের জালিয়াতি রোধে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকি বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক নিরীক্ষা প্রতিবেদনেও এ বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করে বলা হয়েছে, ব্যাংকিং খাতে জাল-জালিয়াতির প্রবণতা কমাতে হলে বড় অঙ্কের ঋণের ওপর তদারকি বাড়াতে হবে এবং এসব ঋণ যাতে খেলাপি না হয়, সেদিকে নজর দিতে হবে। ব্যাংকিং খাতে অসৎ কর্মকর্তাদের দাপট ও আধিপত্যের কথা আজকাল প্রায়ই শোনা যায়। বস্তুত অসৎ ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজশে গড়ে ওঠা জালিয়াতচক্র বিভিন্ন সময় ব্যাংকের বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করেছে এবং এসব ঘটনায় আমানতকারীদের বিশ্বাস ভঙ্গের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকিং খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ অবস্থায় ঋণ জালিয়াতিসহ সব অনিয়ম বন্ধে ব্যাংকিং খাতে সুশাসন ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি কঠোর পদক্ষেপ কাম্য।

ঋণ জালিয়াতি

ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা জরুরি
 সম্পাদকীয় 
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
ঋণ জালিয়াতি
প্রতীকী ছবি

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোয় বড় অঙ্কের ঋণ জালিয়াতির কারণে খেলাপি ঋণের উল্লম্ফন ঘটার সংবাদ উদ্বেগজনক। উল্লেখ্য, ২০১০ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোয় হাজার কোটি টাকার বেশি অঙ্কের ১০টি ঋণ জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে, যার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে হলমার্ক গ্রুপ, বিসমিল্লাহ গ্রুপ, ক্রিসেন্ট গ্রুপ, অ্যানন টেক্স গ্রুপ, এসএ গ্রুপ, সিটিসেল, সানমুন গ্রুপ, নূরজাহান গ্রুপ, ইমাম গ্রুপ ও পিকে হালদার। এছাড়া ব্যাংক জালিয়াতির দুটি ঘটনায় যুক্ত হয়েছে বেসিক ব্যাংক ও ফারমার্স ব্যাংকের নাম। এর মাধ্যমে জালিয়াতচক্র অন্তত ৩১ হাজার কোটি টাকা সরিয়ে নিয়েছে, যার মধ্যে খেলাপি হয়েছে ২৬ হাজার ২০০ কোটি টাকার ঋণ। আশঙ্কার বিষয় হলো, ইতোমধ্যে এগুলো আদায় অযোগ্য কুঋণে পরিণত হওয়ায় এর বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে শতভাগ প্রভিশন রাখতে হচ্ছে। ফলে একদিকে যেমন ঋণের দ্বিগুণ অর্থ আটকে আছে, অন্যদিকে জালিয়াতির মামলা পরিচালনা ও জামানত রক্ষণাবেক্ষণেও ব্যাংকগুলোকে অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে, যা অনভিপ্রেত।

মূলত অব্যবস্থাপনা ও দুর্বল আইনের কারণে প্রতিবছর ব্যাংকিং খাত থেকে ঋণের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট হচ্ছে এবং এর সিংহভাগই পাচার হচ্ছে। দেখা যায়, অনিয়ম বা জালিয়াতির মাধ্যমে বিতরণ করা ঋণের অধিকাংশই কুঋণ বা খেলাপি ঋণে পর্যবসিত হয়। এ অবস্থায় দেশের ব্যাংকিং খাত সংস্কারের দিকেও মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। অর্থনীতিবিদরা অনেকদিন ধরেই বলে আসছেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সবচেয়ে বড় সমস্যা খেলাপি ঋণ। এটা কমাতে না পারলে আমাদের অর্থনীতি টেকসই হবে না, তা বলাই বাহুল্য।

বড় অঙ্কের জালিয়াতি রোধে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকি বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক নিরীক্ষা প্রতিবেদনেও এ বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করে বলা হয়েছে, ব্যাংকিং খাতে জাল-জালিয়াতির প্রবণতা কমাতে হলে বড় অঙ্কের ঋণের ওপর তদারকি বাড়াতে হবে এবং এসব ঋণ যাতে খেলাপি না হয়, সেদিকে নজর দিতে হবে। ব্যাংকিং খাতে অসৎ কর্মকর্তাদের দাপট ও আধিপত্যের কথা আজকাল প্রায়ই শোনা যায়। বস্তুত অসৎ ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজশে গড়ে ওঠা জালিয়াতচক্র বিভিন্ন সময় ব্যাংকের বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করেছে এবং এসব ঘটনায় আমানতকারীদের বিশ্বাস ভঙ্গের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকিং খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ অবস্থায় ঋণ জালিয়াতিসহ সব অনিয়ম বন্ধে ব্যাংকিং খাতে সুশাসন ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি কঠোর পদক্ষেপ কাম্য।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন