সরকারি জমি নিয়ে দুর্নীতি: জালিয়াতচক্রকে আইনের আওতায় আনুন
jugantor
সরকারি জমি নিয়ে দুর্নীতি: জালিয়াতচক্রকে আইনের আওতায় আনুন

  সম্পাদকীয়  

২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে সরকারি জমির বেদখল কিংবা অপব্যবহারের বিষয়টি নতুন নয়। সরকারি জমি ব্যক্তির নামে রেজিস্ট্রেশন করার মতো ঘটনাও দেশে ঘটেছে। গতকাল যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমি ব্যাংকে বন্ধক রেখে প্রায় দেড়শ কোটি টাকা ঋণ তুলে নিয়েছে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।

অথচ জালিয়াতির মাধ্যমে এই জমি ব্যক্তিমালিকানায় কেনাবেচাও করা হয়। এমনকি চক্রটি নামজারি করে নিতেও সক্ষম হয়েছে! দুই ব্যাংকে এই জমি বন্ধক রেখে ঢাকার একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বিপুল অঙ্কের ঋণ তুলে নেয়। উল্লেখ্য, ১৯৬৩ সালে এই জমি অধিগ্রহণ করা হয়। সর্বশেষ মাঠ জরিপেও জমিটি পাউবোর নামে অন্তর্ভুক্ত থাকা সত্ত্বেও সরকারি এই জমি সাবরেজিস্ট্রি অফিসে বেচাকেনা হয় কী করে?

তথ্যানুসন্ধানে পাওয়া নথিপত্রে দেখা যায়, ২০১২ সালে একটি ব্যাংক বরফকল স্থাপনের জন্য ১০ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন দেয়। পরে ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানতে পারে, বন্ধকি জমির কাগজপত্র সঠিক নয়। এজন্য অনুমোদিত ঋণ প্রকল্পটি বাতিল করা হয়। কিন্তু এর মধ্যে ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠান এক কোটি টাকা তুলে নেয়। ওই ব্যাংকের নথিপত্রে প্রকল্পের উৎপাদিত পণ্য হিসাবে দেখানো হয়েছে ইলিশ মাছ হিমায়িতকরণ ও আইস ব্লক স্থাপন। ৫ হাজার ৬শ মেট্রিক টন ইলিশ হিমায়িতকরণ ছাড়াও প্রায় ৩০ হাজার টন বরফ সংরক্ষণের তথ্য দেওয়া আছে ব্যাংকের অঙ্গীকারনামায়। এদিকে ২০১৬ সালে একই প্রকল্পে ১৪৪ কোটি টাকা ঋণ দেয় আরেকটি ব্যাংক। গত ৯ বছরে যে প্রতিষ্ঠান চালুই হয়নি, এটিকে উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠান উল্লেখ করে এই ব্যাংকটি ২০১৭ সালেই ৮৭ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে।

প্রশ্ন হলো, কোনো প্রতিষ্ঠানের জমি ব্যক্তির নামে রেজিস্ট্রেশন হয় কী করে? এটা স্পষ্ট, জালিয়াতচক্র বিভিন্ন অফিসে বিভিন্ন প্রভাবশালীর সহযোগিতা পেয়ে থাকে। কাজেই জালিয়াতচক্রকে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি তাদের যারা সহযোগিতা করে, তাদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। সব ধরনের দুর্নীতি রোধে শূন্য সহিষ্ণুতার নীতিতে অটল না থাকলে জালিয়াতি রোধে কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলব কিনা, সে বিষয়ে সন্দেহ থেকেই যায়।

সরকারি জমি নিয়ে দুর্নীতি: জালিয়াতচক্রকে আইনের আওতায় আনুন

 সম্পাদকীয় 
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে সরকারি জমির বেদখল কিংবা অপব্যবহারের বিষয়টি নতুন নয়। সরকারি জমি ব্যক্তির নামে রেজিস্ট্রেশন করার মতো ঘটনাও দেশে ঘটেছে। গতকাল যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমি ব্যাংকে বন্ধক রেখে প্রায় দেড়শ কোটি টাকা ঋণ তুলে নিয়েছে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।

অথচ জালিয়াতির মাধ্যমে এই জমি ব্যক্তিমালিকানায় কেনাবেচাও করা হয়। এমনকি চক্রটি নামজারি করে নিতেও সক্ষম হয়েছে! দুই ব্যাংকে এই জমি বন্ধক রেখে ঢাকার একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বিপুল অঙ্কের ঋণ তুলে নেয়। উল্লেখ্য, ১৯৬৩ সালে এই জমি অধিগ্রহণ করা হয়। সর্বশেষ মাঠ জরিপেও জমিটি পাউবোর নামে অন্তর্ভুক্ত থাকা সত্ত্বেও সরকারি এই জমি সাবরেজিস্ট্রি অফিসে বেচাকেনা হয় কী করে?

তথ্যানুসন্ধানে পাওয়া নথিপত্রে দেখা যায়, ২০১২ সালে একটি ব্যাংক বরফকল স্থাপনের জন্য ১০ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন দেয়। পরে ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানতে পারে, বন্ধকি জমির কাগজপত্র সঠিক নয়। এজন্য অনুমোদিত ঋণ প্রকল্পটি বাতিল করা হয়। কিন্তু এর মধ্যে ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠান এক কোটি টাকা তুলে নেয়। ওই ব্যাংকের নথিপত্রে প্রকল্পের উৎপাদিত পণ্য হিসাবে দেখানো হয়েছে ইলিশ মাছ হিমায়িতকরণ ও আইস ব্লক স্থাপন। ৫ হাজার ৬শ মেট্রিক টন ইলিশ হিমায়িতকরণ ছাড়াও প্রায় ৩০ হাজার টন বরফ সংরক্ষণের তথ্য দেওয়া আছে ব্যাংকের অঙ্গীকারনামায়। এদিকে ২০১৬ সালে একই প্রকল্পে ১৪৪ কোটি টাকা ঋণ দেয় আরেকটি ব্যাংক। গত ৯ বছরে যে প্রতিষ্ঠান চালুই হয়নি, এটিকে উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠান উল্লেখ করে এই ব্যাংকটি ২০১৭ সালেই ৮৭ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে।

প্রশ্ন হলো, কোনো প্রতিষ্ঠানের জমি ব্যক্তির নামে রেজিস্ট্রেশন হয় কী করে? এটা স্পষ্ট, জালিয়াতচক্র বিভিন্ন অফিসে বিভিন্ন প্রভাবশালীর সহযোগিতা পেয়ে থাকে। কাজেই জালিয়াতচক্রকে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি তাদের যারা সহযোগিতা করে, তাদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। সব ধরনের দুর্নীতি রোধে শূন্য সহিষ্ণুতার নীতিতে অটল না থাকলে জালিয়াতি রোধে কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলব কিনা, সে বিষয়ে সন্দেহ থেকেই যায়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন