কেমন বাজেট চাই শীর্ষক আলোচনা

প্রস্তাবগুলো আমলে নেয়া উচিত

  সম্পাদকীয় ১০ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাজেট

এনটিভি ও এফবিসিসিআইয়ের আলোচনায় বক্তারা বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানবান্ধব বাজেট প্রণয়নের যে তাগিদ দিয়েছেন, তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত বলে আমরা মনে করি।

বলার অপেক্ষা রাখে না, নতুন অর্থবছরের বাজেট বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানবান্ধব করতে হলে ব্যাংক ঋণের সুদ হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনতে হবে। পাশাপাশি এলএনজি গ্যাসের মূল্য নির্ধারণ ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা জরুরি।

খুবই বোধগম্য, বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হলে নতুন শিল্প যেমন গড়ে উঠবে না, তেমনি চলমান শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোও সম্প্রসারিত হবে না। এর ফলে কর্মসংস্থানের পথ সংকুচিত হবে, যা মোটেই কাম্য নয়।

ভারতসহ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোয় বাণিজ্য সহায়ক পরিবেশ তৈরির তাগিদ থেকে ব্যাংকগুলোর সুদের হার ৬ শতাংশ ও সার্ভিস চার্জ নমনীয় পর্যায়ে রাখার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হলেও আমাদের দেশে ঠিক তার বিপরীত চিত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে, যা মোটেই কাম্য নয়।

বিনিয়োগের মন্দাভাব কাটাতে ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার ব্যাপারে সরকারকে অবশ্যই দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। তবে ব্যাংকিং খাত পুনর্গঠন না করে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও সুদ কমানোর উদ্যোগ কাজে আসবে না বলেই মনে হয়। কাজেই বিষয়টি মাথায় রেখে ব্যাংকিং খাত পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিতে হবে।

অর্থমন্ত্রী নতুন অর্থবছরের বাজেট সম্পর্কে ধারণা দিতে গিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠানে বলেছেন, বাজেট হবে চার লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকার মতো। উল্লেখ্য, ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটকে উচ্চাভিলাষী আখ্যায়িত করে অর্থনীতিবিদরা সে সময় বলেছিলেন- এটি একটি বাস্তবায়ন অযোগ্য বাজেট।

দেখা যায়, প্রতি বছর অনেক বড় বাজেট দেয়া হয়। অর্থমন্ত্রী যদিও নতুন বাজেটকে নির্বাচনী বাজেট বলতে রাজি নন, বরং মনে করেন- এটি সরকারের ধারাবাহিক কার্যক্রম, তারপরও সন্দেহ নেই- প্রায় প্রতিটি বাজেটের মধ্যে ‘লোক দেখানো’ একটি প্রবণতা থাকে।

এ প্রবণতা থেকে বের হওয়া জরুরি। বস্তুত বাজেটের আকার বড় করলে হবে না; এটি বাস্তবায়নযোগ্য করতে হবে। নিম্নমধ্যম আয়ের দেশ থেকে বের হওয়ার বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

এখন আমরা উন্নয়নশীল দেশ। আগামী কয়েক বছরে দেশ কীভাবে পরিচালিত হবে, তা সামনে রেখে কাজ করতে হবে। এজন্য কর্মসংস্থান ও দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন প্রচেষ্টা সফল হলে তবেই বাজেট ফলপ্রসূ হবে।

বাজেটকে ফলপ্রসূ করার জন্য বক্তারা নতুন অর্থবছরের বাজেট বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানবান্ধব করতে ব্যাংক ঋণের সুদ হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনা, এলএনজি গ্যাসের মূল্য নির্ধারণ ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কর না বাড়িয়ে করদাতার সংখ্যা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন।

একই সঙ্গে কর্পোরেট ট্যাক্স কমিয়ে আনার কথাও বলেছেন তারা। অন্য একটি আলোচনায় এনবিআর চেয়ারম্যানও একই ধরনের মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, ব্যবসায়ীদের প্রণোদনা দিলে বিনিয়োগ বাড়বে। তার এ বক্তব্য যে যথার্থ, এতে কোনো সংশয় নেই।

বলার অপেক্ষা রাখে না, বিভিন্ন খাতে কর কমানো হলে বিনিয়োগে এগিয়ে আসবেন ব্যবসায়ীরা। প্রথম বছরে রাজস্ব আদায়ে হয়তো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে কর আদায় বাড়বে, যা দেশের উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

এনটিভি ও এফবিসিসিআইয়ের ‘কেমন বাজেট চাই’ শীর্ষক উন্মুক্ত এ আলোচনায় বক্তারা রাজস্বনীতি ও মুদ্রানীতির মধ্যে সমন্বয় থাকা, আইসিটি খাতে প্রণোদনা, বিনিয়োগের সঠিক পলিসি প্রণয়ন, কৃষকের ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ, ভ্যাট আদায়ে ব্যবসায়ীদের হয়রানি বন্ধ, সরকারের ব্যয়ের গুণগত মান নিশ্চিত করা ও সিগারেটের একক মূল্যস্তর নির্ধারণেরও প্রস্তাব দিয়েছেন। নতুন অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের আগে এসব প্রস্তাব আমলে নেয়া হবে, এটাই প্রত্যাশা।

ঘটনাপ্রবাহ : বাজেট ২০১৮

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter