ত্রুটিপূর্ণ শিক্ষা অবকাঠামো: শিক্ষার্থীদের জন্য ‘শিক্ষালয়’ তৈরি করুন
jugantor
ত্রুটিপূর্ণ শিক্ষা অবকাঠামো: শিক্ষার্থীদের জন্য ‘শিক্ষালয়’ তৈরি করুন

  সম্পাদকীয়  

১২ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিধিবিধানের তোয়াক্কা না করে যত্রতত্র বিশৃঙ্খলভাবে শিক্ষা অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে। দেখা যাচ্ছে, শিক্ষার ন্যূনতম পরিবেশ ছাড়াই দেশের আনাচে-কানাচে গড়ে উঠছে স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসা। অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলীদের অপেশাদার মনোভাবের কারণেই ত্রুটিপূর্ণভাবে এসব শিক্ষা অবকাঠামো নির্মিত হচ্ছে।

বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড অনুযায়ী, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জমির ন্যূনতম ৫০ ভাগ স্থান উন্মুক্ত রাখা বাধ্যতামূলক। এছাড়া জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০-এ প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একটি মাঠ থাকার কথা বলা হয়েছে। দুঃখজনক হলো, এসবের কিছুই মানা হচ্ছে না। শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা বোর্ড ও অন্যান্য নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা নাকি এ বিষয়টিকে তেমন গুরুত্বও দিচ্ছে না। পাঠদানের জন্য কোনোরকমে কয়েকটি শ্রেণিকক্ষ দেখাতে পারলেই কর্তৃপক্ষের অনুমোদন মিলছে।

শিক্ষার্থীদের পাসের হার বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে শিক্ষার্থীর সংখ্যাও। এ সুযোগে অনেকেই কোচিং সেন্টারের আদলে বহুতল ভবনের একটি বা দুটি ফ্লোর ভাড়া নিয়ে রাতারাতি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে বসেছেন। তবে শিক্ষাঙ্গন মানে হাজার-বারশ’ বর্গফুট আয়তনবিশিষ্ট কয়েকটি ক্লাসরুম নয়। এর ধারণা অনেক ব্যাপক। নিজস্ব ক্যাম্পাসের পাশাপাশি প্রয়োজনীয়সংখ্যক শিক্ষক, পাঠাগার ও গবেষণাগারসহ সমন্বিত পাঠদানের জন্য আনুষঙ্গিক সবকিছুই একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে থাকা প্রয়োজন।

দেশে বাসস্ট্যান্ড, আবাসিক এলাকা, এমনকি শিল্প-কারখানার আশপাশের ভবনে গড়ে ওঠা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় মুক্ত পরিবেশে জ্ঞানচর্চার কোনো সুযোগ নেই। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানে যে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, তাতে প্রকৃত শিক্ষার আলোয় আলোকিত মানুষ গড়ে তোলার বিষয়টি পুরোপুরি উপেক্ষিত হচ্ছে।

বস্তুত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হওয়া উচিত আনন্দমুখর। সেভাবেই তৈরি করতে হবে ভবন ও ক্যাম্পাস। দেশে দক্ষ স্থপতি ও প্রকৌশলীর অভাব নেই। তারপরও শিক্ষা অবকাঠামোয় শৃঙ্খলা না থাকার বিষয়টি গ্রহণযোগ্য নয়। মনে রাখতে হবে, ইট-পাথরের গাঁথুনি মানেই অবকাঠামো নয়। মূলত শিক্ষার্থীদের জন্য ‘ভবন’ তৈরি না করে ‘শিক্ষালয়’ তৈরি করতে হবে।

এ লক্ষ্যে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের জন্য আলাদা অবকাঠামোর কথা চিন্তা করা যেতে পারে। প্রত্যাশিত শিক্ষা অবকাঠামো নির্মাণে পেশাজীবীদের সমন্বয়ে (পরিকল্পনাবিদ, স্থপতি, প্রকৌশলী, মনোবিজ্ঞানী ও শরীরচর্চাবিদ) এ সংক্রান্ত একটি কার্যকর রূপরেখা বা স্বতন্ত্র নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে, এটাই প্রত্যাশা।

ত্রুটিপূর্ণ শিক্ষা অবকাঠামো: শিক্ষার্থীদের জন্য ‘শিক্ষালয়’ তৈরি করুন

 সম্পাদকীয় 
১২ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিধিবিধানের তোয়াক্কা না করে যত্রতত্র বিশৃঙ্খলভাবে শিক্ষা অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে। দেখা যাচ্ছে, শিক্ষার ন্যূনতম পরিবেশ ছাড়াই দেশের আনাচে-কানাচে গড়ে উঠছে স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসা। অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলীদের অপেশাদার মনোভাবের কারণেই ত্রুটিপূর্ণভাবে এসব শিক্ষা অবকাঠামো নির্মিত হচ্ছে।

বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড অনুযায়ী, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জমির ন্যূনতম ৫০ ভাগ স্থান উন্মুক্ত রাখা বাধ্যতামূলক। এছাড়া জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০-এ প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একটি মাঠ থাকার কথা বলা হয়েছে। দুঃখজনক হলো, এসবের কিছুই মানা হচ্ছে না। শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা বোর্ড ও অন্যান্য নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা নাকি এ বিষয়টিকে তেমন গুরুত্বও দিচ্ছে না। পাঠদানের জন্য কোনোরকমে কয়েকটি শ্রেণিকক্ষ দেখাতে পারলেই কর্তৃপক্ষের অনুমোদন মিলছে।

শিক্ষার্থীদের পাসের হার বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে শিক্ষার্থীর সংখ্যাও। এ সুযোগে অনেকেই কোচিং সেন্টারের আদলে বহুতল ভবনের একটি বা দুটি ফ্লোর ভাড়া নিয়ে রাতারাতি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে বসেছেন। তবে শিক্ষাঙ্গন মানে হাজার-বারশ’ বর্গফুট আয়তনবিশিষ্ট কয়েকটি ক্লাসরুম নয়। এর ধারণা অনেক ব্যাপক। নিজস্ব ক্যাম্পাসের পাশাপাশি প্রয়োজনীয়সংখ্যক শিক্ষক, পাঠাগার ও গবেষণাগারসহ সমন্বিত পাঠদানের জন্য আনুষঙ্গিক সবকিছুই একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে থাকা প্রয়োজন।

দেশে বাসস্ট্যান্ড, আবাসিক এলাকা, এমনকি শিল্প-কারখানার আশপাশের ভবনে গড়ে ওঠা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় মুক্ত পরিবেশে জ্ঞানচর্চার কোনো সুযোগ নেই। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানে যে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, তাতে প্রকৃত শিক্ষার আলোয় আলোকিত মানুষ গড়ে তোলার বিষয়টি পুরোপুরি উপেক্ষিত হচ্ছে।

বস্তুত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হওয়া উচিত আনন্দমুখর। সেভাবেই তৈরি করতে হবে ভবন ও ক্যাম্পাস। দেশে দক্ষ স্থপতি ও প্রকৌশলীর অভাব নেই। তারপরও শিক্ষা অবকাঠামোয় শৃঙ্খলা না থাকার বিষয়টি গ্রহণযোগ্য নয়। মনে রাখতে হবে, ইট-পাথরের গাঁথুনি মানেই অবকাঠামো নয়। মূলত শিক্ষার্থীদের জন্য ‘ভবন’ তৈরি না করে ‘শিক্ষালয়’ তৈরি করতে হবে।

এ লক্ষ্যে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের জন্য আলাদা অবকাঠামোর কথা চিন্তা করা যেতে পারে। প্রত্যাশিত শিক্ষা অবকাঠামো নির্মাণে পেশাজীবীদের সমন্বয়ে (পরিকল্পনাবিদ, স্থপতি, প্রকৌশলী, মনোবিজ্ঞানী ও শরীরচর্চাবিদ) এ সংক্রান্ত একটি কার্যকর রূপরেখা বা স্বতন্ত্র নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে, এটাই প্রত্যাশা।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন