দুর্যোগ প্রশমন দিবস
jugantor
দুর্যোগ প্রশমন দিবস
বন্যা ও নদীভাঙন মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়াতে হবে

  সম্পাদকীয়  

১৩ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দুর্যোগের কারণে প্রতিবছর সারা বিশ্বে জীবন ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়ে থাকে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরোধ করার কোনো উপায় এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। তবে এ বিষয়ে ব্যাপক প্রস্তুতি থাকলে ক্ষয়ক্ষতি ন্যূনতম পর্যায়ে সীমিত রাখা সম্ভব। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত নানা কারণে বিশ্বে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বেড়েছে।

ফলে দুর্যোগ মোকাবিলায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। এ প্রেক্ষাপটে আজ পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস। এবার দিবসটির মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয়েছে-‘দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে, কাজ করি একসাথে’। এ প্রতিপাদ্যের মাধ্যমে দুর্যোগ মোকাবিলায় সবাইকে একসঙ্গে ও সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস সামনে রেখে গতকাল যুগান্তর কার্যালয়ে এক গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, গণ উন্নয়ন কেন্দ্র এবং যুগান্তর যৌথভাবে এর আয়োজন করে। বৈঠকে দুর্যোগ মোকাবিলায় আমাদের করণীয়, সরকারের পরিকল্পনা ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা হয়। প্রধান অতিথির বক্তৃতায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশকে দুর্যোগ সহনশীল রাষ্ট্র হিসাবে গড়ে তুলতে সরকার বহুমুখী উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি জানান, ডেল্টা প্ল্যান ২১০০-তে উপকূল ও বন্যাপ্রবণ কয়েকটি এলাকাকে হট স্পট হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং প্রতিটি হট স্পটের বাজেট ধরা হয়েছে ৩৭ বিলিয়ন ডলার।

অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেছেন, দুর্যোগ সহনশীল দেশ গড়তে কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করতে হবে। বস্তুত, দুর্যোগঝুঁকি মোকাবিলায় ব্যাপক প্রস্তুতি না থাকলে শুধু জানমালের ক্ষতি নয়, দেশের সার্বিক উন্নয়নই ব্যাহত হতে পারে। তাই এ বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার বিকল্প নেই। বাংলাদেশ প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ দেশ হওয়ায় প্রস্তুতির বিষয়টি আমাদের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ। এটা ঠিক, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় আমাদের সক্ষমতা বেড়েছে। বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকায় ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাসে প্রাণহানি কমিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে। তবে বন্যা ও নদীভাঙন মোকাবিলায় আমাদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আরও অনেক কিছু করণীয় রয়েছে। এ ক্ষেত্রে উপকূল ও বন্যাপ্রবণ এলাকায় দুর্যোগ সহনশীল টেকসই অবকাঠামো গড়ে তোলা জরুরি বলে মনে করি আমরা। বস্তুত দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজন ব্যাপক প্রস্তুতি ও সতর্কতামূলক পদক্ষেপ। দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে এ দুটি কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন করার বিকল্প নেই।

দুর্যোগ প্রশমন দিবস

বন্যা ও নদীভাঙন মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়াতে হবে
 সম্পাদকীয় 
১৩ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দুর্যোগের কারণে প্রতিবছর সারা বিশ্বে জীবন ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়ে থাকে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরোধ করার কোনো উপায় এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। তবে এ বিষয়ে ব্যাপক প্রস্তুতি থাকলে ক্ষয়ক্ষতি ন্যূনতম পর্যায়ে সীমিত রাখা সম্ভব। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত নানা কারণে বিশ্বে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বেড়েছে।

ফলে দুর্যোগ মোকাবিলায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। এ প্রেক্ষাপটে আজ পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস। এবার দিবসটির মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয়েছে-‘দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে, কাজ করি একসাথে’। এ প্রতিপাদ্যের মাধ্যমে দুর্যোগ মোকাবিলায় সবাইকে একসঙ্গে ও সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস সামনে রেখে গতকাল যুগান্তর কার্যালয়ে এক গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, গণ উন্নয়ন কেন্দ্র এবং যুগান্তর যৌথভাবে এর আয়োজন করে। বৈঠকে দুর্যোগ মোকাবিলায় আমাদের করণীয়, সরকারের পরিকল্পনা ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা হয়। প্রধান অতিথির বক্তৃতায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশকে দুর্যোগ সহনশীল রাষ্ট্র হিসাবে গড়ে তুলতে সরকার বহুমুখী উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি জানান, ডেল্টা প্ল্যান ২১০০-তে উপকূল ও বন্যাপ্রবণ কয়েকটি এলাকাকে হট স্পট হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং প্রতিটি হট স্পটের বাজেট ধরা হয়েছে ৩৭ বিলিয়ন ডলার।

অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেছেন, দুর্যোগ সহনশীল দেশ গড়তে কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করতে হবে। বস্তুত, দুর্যোগঝুঁকি মোকাবিলায় ব্যাপক প্রস্তুতি না থাকলে শুধু জানমালের ক্ষতি নয়, দেশের সার্বিক উন্নয়নই ব্যাহত হতে পারে। তাই এ বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার বিকল্প নেই। বাংলাদেশ প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ দেশ হওয়ায় প্রস্তুতির বিষয়টি আমাদের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ। এটা ঠিক, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় আমাদের সক্ষমতা বেড়েছে। বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকায় ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাসে প্রাণহানি কমিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে। তবে বন্যা ও নদীভাঙন মোকাবিলায় আমাদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আরও অনেক কিছু করণীয় রয়েছে। এ ক্ষেত্রে উপকূল ও বন্যাপ্রবণ এলাকায় দুর্যোগ সহনশীল টেকসই অবকাঠামো গড়ে তোলা জরুরি বলে মনে করি আমরা। বস্তুত দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজন ব্যাপক প্রস্তুতি ও সতর্কতামূলক পদক্ষেপ। দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে এ দুটি কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন করার বিকল্প নেই।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন